মাহি মার রহা হ্যায়! মাহি মারছেন। মাহি— মহেন্দ্র সিংহ ধোনি!

এ বারের আইপিএলে যে ছবিটা প্রায়ই দেখা যাচ্ছে। সোমবার দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের বিরুদ্ধে ম্যাচেও দেখা গেল সেই ধোনিকে। সেই ‘ব্যাট-স্পিড’, সেই শক্তি, সেই টাইমিং। সবই যেন আরও বেশি করে ফিরে এসেছে ধোনির খেলায়। যে বিধ্বংসী ধোনি চেন্নাই সুপার কিংসকে জিতিয়ে এ বার আসছেন ইডেনে। আগামী বৃহস্পতিবার কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে খেলতে।  

আইপিএল শুরুর আগেও খুব বেশি করে উঠেছিল প্রশ্নটা। ‘ফিনিশার’ ধোনি কি তবে শেষ হয়ে গেলেন? ধোনির বয়স হয়ে গেল ৩৬ বছর, ২৯৭ দিন। ভারতের হয়ে সীমিত ওভারের ম্যাচে ধারাবাহিক ভাবে ভাল খেলতে পারছিলেন না। কিন্তু আইপিএল শুরু হতেই সব বদলে গেল। দু’বছর বাদে চেন্নাইয়ের হলুদ জার্সি পরে ফের পুরনো মেজাজে ধোনি। বয়সও যাঁর কাছে হার মেনেছে। এই নিয়ে তিনটি হাফসেঞ্চুরি হয়ে গেল চলতি আইপিএলে। আট ম্যাচে ২৮৬ রান, গড় ৭১.৫০, স্ট্রাইক রেট ১৬৯.২৩।

ধোনির ২২ বলে অপরাজিত ৫১ রানের সৌজন্যে ঘরের মাঠ, পুণেয় সিএসকে করে চার উইকেটে ২১১। যার মধ্যে শেষ তিন ওভারে ধোনি এবং অম্বাতি রায়ডু তুললেন ৪১ রান। জবাবে দিল্লি করে পাঁচ উইকেটে ১৯৮। দিল্লির হয়ে লড়াই করলেন ঋষভ পন্থ (৪৫ বলে ৭৯) এবং বিজয় শঙ্কর (৩১ বলে অপরাজিত ৫৪)। কিন্তু ১৩ রানে হার আটকাতে পারলেন না। দিল্লিকে হারিয়ে আট ম্যাচে ১২ পয়েন্ট পেয়ে লিগ তালিকায় শীর্ষে চলে এল সিএসকে। অন্য দিকে প্লে-অফের দৌড় থেকে প্রায় ছিটকে গেল দিল্লি। 

দিল্লির পেস আক্রমণ এ বারের আইপিএলের অন্যতম সেরা। ট্রেন্ট বোল্ট, লিয়াম প্লাঙ্কেট, আবেশ খানরা শেষ কয়েকটা ম্যাচে বিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের চাপে ফেলে দিচ্ছিলেন গতি এবং নিখুঁত লাইন-লেংথে। কিন্তু সোমবার যে তাঁদের উল্টো দিকে ছিলেন এমএসডি। পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে মারলেন দু’টি চার, পাঁচটি ছয়। যে ইনিংস দেখার পরে ধারাভাষ্যকার সঞ্জয় মঞ্জরেকরের মন্তব্য, ‘‘এখনও পর্যন্ত এই আইপিএলে ধোনির সেরা ইনিংস। কারণ দিল্লির পেস আক্রমণ অনেক ভাল। বিশ্বমানের বোলারদের বিরুদ্ধে যে সব শট খেলল ধোনি, তা ভাবাই যায় না।’’

ধোনির ব্যাটিং মুগ্ধ করেছে তাঁর সতীর্থদেরও। ম্যাচের সেরা শেন ওয়াটসন (৪০ বলে ৭৮) বলছিলেন, ‘‘দারুণ ছন্দে আছে ধোনি। ঠিক আগের মতোই শট খেলছে।’’ ম্যাচের পরে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এসে ধোনি বলেন, ‘‘ম্যাচের মাঝে বিশেষ বিশ্রাম পাওয়া যায় না বলে আমি এখন নিয়মিত অনুশীলনও করছি না। তবে টি-টোয়েন্টিতে সে রকম ধকল যায় না বলে সামলানো যায়।’’

প্রশ্ন হল, ধোনিকে সামলাবে কে?