পাখির চোখ টোকিয়ো অলিম্পিক্সের পদক। কিন্তু তার জন্য বিদেশে থেকে প্রস্তুতি নেওয়ার দরকার নেই। মহড়ার পরিবেশে একটু বদল আনতে দু’এক সপ্তাহ বিদেশে ভাল জিমন্যাস্টদের সঙ্গে অনুশীলন করলেই চলবে।

এমন পরামর্শ রিয়ো অলিম্পিক্সে চতুর্থ ভারতীয় তারকা জিমন্যাস্ট দীপা কর্মকারের জন্য। 

পরামর্শদাতা নাদিয়া এলেনা কোমানিচি। যাঁকে বাদ দিয়ে জিমন্যাস্টিক্সের ইতিহাস লেখা অসম্ভব। পাঁচটি অলিম্পিক্স সোনার মালিক। অলিম্পিক্সে তিনিই প্রথম ‘পারফেক্ট টেন’। তা-ও একই গেমসে একবার নয়, ছ’বার।

দীপাকে নিয়ে নাদিয়ার কথা, ‘‘পরের অলিম্পিক্সে পদক জেতার চ্যালেঞ্জটা দীপা  নিয়েছে। তার জন্য পাকাপাকি বিদেশে যাওয়ার দরকার নেই। ভারতে যে পরিকাঠামো রয়েছে তা ওর জন্য খুব ভাল। আমার পরামর্শ, আমেরিকা বা অন্য অনেক দেশ যেখানে ভাল জিমন্যাস্টরা রয়েছে সেখানে কিছু দিন অনুশীলন করুক। অবশ্য সেটা অল্প কিছু দিন। এক বা দুই সপ্তাহ। নতুন পরিবেশে কিছুদিন কাটাতে পারবে। পরে বরং দেশেই ফিরে আসুক।’’

নাদিয়া এ সব বলেছেন, দীপাকে নিয়ে প্রকাশিত এক বইয়ের ভূমিকায়। তাঁর স্পষ্ট মন্তব্য, নামী জিমন্যাস্ট হতে বিশেষ কোনও দেশে জন্মাতে হয় না, ‘‘দশকের পর দশক যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া (সাবেক সোভিয়েতও) ও রোমানিয়া এই খেলা একচ্ছত্র শাসন করেছে। কিন্তু ভারত থেকেও তো দীপার মতো প্রতিভা উঠে এসেছে। এটা দারুণ। ওর সাফল্যে পরিষ্কার যে সে-ই দিন দূরে নয় যখন ভারতীয়রাও জিমন্যাস্টিক্সের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলার বিশ্বমঞ্চে উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।’’

নাদিয়া জানিয়েছেন, রিয়ো অলিম্পিক্সে দীপাকে প্রোদুনোভা ভল্ট দিতে দেখে অবাক হয়েছিলেন। ব্রাজিলে ভারতীয় তারকা একটুর জন্য ব্রোঞ্জ হারান। যা নিয়ে কিংবদন্তি নাদিয়ার কথা, ‘‘প্রোদুনোভা ভীষণ কঠিন আর জটিল। অথচ ও সেটা করেছিল অবলীলায়। সেরা জায়গায় যা করতে বিরাট সাহস লাগে। খেলোয়াড় জীবনে আমাকে এই ভয়ঙ্কর ভল্ট দিতে বলা হলে রাজি হতাম না। এই ভল্ট দেওয়া সাহসিকতার প্রতিফলন। দীপা খুবই সুন্দর জিমন্যাস্ট। নিবেদিতপ্রাণও। তাই অলিম্পিক্সের মতো মঞ্চে প্রোদুনোভা সফল ভাবে করেছে।’’ তাঁর আরও কথা, ‘‘সাফল্য পেতে দরকার খেলার প্রতি ভালবাসা। যা দিয়ে যে কোনও বাধা জয় করা যায়।’’