আই লিগে সোমবার রুদ্ধশ্বাস ম্যাচের সাক্ষী থাকলেন ইম্ফলের খুমান লাম্পাক স্টেডিয়ামের দর্শকরা। যে খেলায় আই লিগের পঞ্চম স্থানে থাকা নেরোকা এফসি-র প্রথমার্ধে তিন গোলে পিছিয়ে থেকেও ৩-৩ ড্র করল খেতাবি দৌড়ে এক নম্বরে থাকা চেন্নাই সিটি এফসির বিরুদ্ধে।

চেন্নাইয়ের এই ড্রয়ের ফলে আবার সুবিধা হয়ে গেল ইস্টবেঙ্গলের। ১৪ ম্যাচে এই মুহূর্তে লাল-হলুদ শিবিরের পয়েন্ট ২৮। সুবিধাজনক জায়গায় রয়েছে আলেসান্দ্রো মেনেন্দেসের দল। কারণ, ইস্টবেঙ্গলের চেয়ে দু’ম্যাচ বেশি খেলে আই লিগের শীর্ষে থাকা চেন্নাই সিটি এফসি-র এফসির পয়েন্ট দাঁড়াল ৩৪। অন্য দিকে, ১৭ ম্যাচে ২৬ পয়েন্ট নিয়ে আই লিগে পঞ্চম স্থানে রইল নেরোকা। এ বার দেখার, ঘরের মাঠে বৃহস্পতিবার ইস্টবেঙ্গল সেই সুবিধাকে কতটা কাজে লাগাতে পারে লাজং এফসি-র বিরুদ্ধে। 

সোমবার ম্যাচ শেষে হতাশায় চেন্নাই সিটি এফসি-র কোচ আকবর নাওয়াজ় বলেই দিলেন, ‘‘নেরোকার বিরুদ্ধে এই ড্র আমাদের কাছে হারের সমান। কিন্তু আই লিগের এই পর্যায়ে এসে জিততে না পারলে আনন্দের কিছু নেই। এই ফল কাঙ্ক্ষিত ছিল না।’’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘‘৩-০ এগিয়ে গিয়ে জিতে না ফেরার ব্যাখ্যা হতে অনভিজ্ঞতার কারণে স্নায়ুযুদ্ধে হেরে যাওয়া।’’ হতাশ প্রথমার্ধে হ্যাটট্রিক করে চেন্নাইকে এগিয়ে দেওয়া স্পেনীয় স্ট্রাইকার পেদ্রো মানজ়ি। তাঁর প্রতিক্রিয়া, ‘‘তিন পয়েন্ট নিয়ে ফিরতে না পারায় খুব রাগ হচ্ছে।’’

অন্য দিকে প্রথমার্ধে ০-৩ পিছিয়েও ড্র করে উচ্ছ্বাসে ভাসছেন নেরোকা এফসি-র কোচ মানুয়েল রেতামেরো। তিনি বলছেন, ‘‘প্রথমার্ধে বেশ কিছু ভুলভ্রান্তি হচ্ছিল। কিন্তু বিরতিতে ছেলেদের সেই ভুলগুলো ধরিয়ে দিতেই দুর্দান্ত ভাবে ম্যাচে ফিরে এসেছিলাম। দু’টো সহজ সুযোগ নষ্ট হয়েছে। না হলে আজ জিতেই ফিরতাম। এক পয়েন্ট নয়। আজ আমরা তিন পয়েন্ট নিয়েই ফিরতাম।’’

ইম্ফলের মাঠে এ দিনের প্রথমার্ধ যদি হয় চেন্নাই সিটি এফসি-র, তা হলে দ্বিতীয়ার্ধ ছিল নেরোকার কাতসুমি ইউসাদের। খেলার শুরুতে গোল করার মতো জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিলেন কাতসুমি ও চেঞ্চো গিয়েলতশেন। কিন্তু ফিনিশিংয়ের দুর্বলতায় গোল করতে পারেননি তাঁরা। ৩৫ মিনিটে চেন্নাইকে এগিয়ে দেন পেদ্রো। ৪২ মিনিটে ফের নেরোকা রক্ষণের ভুল পাসের সুযোগ থেকে গোল করেন এই স্পেনীয় ফুটবলার। প্রথমার্ধের সংযুক্ত সময়ে এ বারের আই লিগে তার চতুর্থ হ্যাটট্রিক করে যান পেদ্রো। ১৬ গোল করে এই মুহূর্তে আই লিগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনিই।

জবাবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই তেড়ফুঁড়ে খেলতে শুরু করে নেরোকা। ৫২ মিনিটেই চেঞ্চোর থেকে বল পেয়ে বাঁ পায়ে ১-৩ করেন ফেলিক্স চিডি। ৬৮ মিনিটে কাতসুমির থেকে বল পেয়ে নেরোকার দ্বিতীয় গোল করেন চেঞ্চো। সংযুক্ত সময়ের ৯১ মিনিটে ৩-৩ করেন অ্যারিন উইলিয়ামস।