প্রায় দেড় দশক আগে শিলান্যাস হয়েছিল। কথা ছিল তৈরি হবে স্পোর্টস কমপ্লেস। কিন্তু স্পোর্টস কমপ্লেস তৈরি তো দূরের কথা, প্রাথমিক মাঠটুকুও তৈরি হয়নি। পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ার বাড়ঘাসিপুর মৌজায় অবহেলায় পড়ে রয়েছে ৭০ একর জমি। মাঝে মধ্যে স্থানীয় কিছু খেলা ছাড়া বাকি সময় সেটি গবাদি পশুদের বিচরণ ক্ষেত্র।

স্থানীয় সূত্রে খবর, ২০০৪ সালে বাড়ঘাসিপুর মৌজায় আধুনিক সুবিধাযুক্ত স্টেডিয়াম ও  স্পোর্টস কমপ্লেক্স গড়ে তুলতে উদ্যোগী হয়েছিল হলদিয়া পুরসভা। সেই সময় হলদিয়া পুরসভার ক্ষমতায় ছিল বামেরা। ঘটা করে পুরো প্রকল্পটির উদ্বোধন করেছিলেন প্রয়াত ক্রীড়ামন্ত্রী সুভাষ চক্রবর্তী। তার পর কেটে গিয়েছে ১৪ বছর। এত দিনে  কমপ্লেক্সের জন্য নির্দিষ্ট জমির একপাশে একফালি কংক্রিটের নির্মাণ ছাড়া কিছুই হয়নি। অভিযোগ, স্টেডিয়াম নির্মাণের মাঝেই উধাও হয়ে গিয়েছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি সংস্থা। তাদের কোনও খোঁজও নেই।

হলদিয়ার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাড়ঘাসিপুরে স্থানীয় বাসিন্দাদের থেকে প্রায় ৭০ একর জমি কিনেছিল হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদ (এইচডিএ)। তারপর সেই জমি পুর কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন চেয়ারপার্সন তমালিকা পণ্ডা শেঠ ওই মাঠে স্টেডিয়াম তৈরির দায়িত্ব দেন একটি বেসরকারি ঠিকাদার সংস্থাকে। পুরসভা সূত্রে খবর, পুরসভা এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সংস্থার মধ্যে একটি চুক্তি হয়। তাতে ঠিক হয় ১০ একর জমিতে আবাসন তৈরি হবে। সেই আবাসনের ঘর বিক্রির টাকায় বাকি ৬০ একর জমিতে তৈরি হবে স্পোর্টস কমপ্লেক্স। বাস্তবে ওই চুক্তি মানা হয়নি।

দুর্গাপদ মিশ্র নামে এক স্থানীয় বাসিন্দার ক্ষোভ, ‘‘আবাসনের সব বাড়ি বিক্রি হয়ে গিয়েছে। কিন্তু স্টেডিয়াম বা স্পোটর্স কমপ্লেক্স কিছুই বানানো হয়নি।’’

মাঠটি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ সামলাতে পুরসভা জানিয়েছিল, স্থানীয় স্তরের খেলাগুলি সেখানে হবে। এলাকার লোকজনও সেখানে খেলাধুলো করতে পারবেন।   মাস কয়েক আগে হলদিয়া মেলা উপলক্ষে স্কুলভিত্তিক খেলাগুলি বাড়ঘাসিপুরের ওই মাঠে হয়।  পুরসভার এই নড়াচড়ায় কিছুটা হলেও আশার আলো দেখা যায়। কিন্তু সেটা শুধুই আশার আলো। বর্তমানে পুরসভার দাবি, ওই কমপ্লেক্স তৈরির চুক্তিতেই সমস্যা ছিল। পুরসভা সূত্রে খবর, ঠিকাদার সংস্থাটি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের জন্য নির্ধারিত জমিতে আরেকটি আবাসন করতে চেয়েছিল কিন্তু পুরসভা রাজি না হওনি। তাই তারা স্পোর্টস কমপ্লেক্স তৈরিতে গা দিচ্ছে না।

 শহরে স্টেডিয়াম বলতে দুর্গাচকে একটি বড় মাঠ রয়েছে। এছাড়া, টাউনশিপ এলাকায় আইওসি-র ব্যক্তিগত মাঠ রয়েছে। তবে ওই মাঠগুলি খেলার জন্য পর্যাপ্ত নয়। ফলে উপযুক্ত মাঠের অভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে বিভিন্ন খেলার অনুশীলন। মহকুমা স্তরে ক্রিকেট খেলেন বাড়ঘাসিপুরেরই বাসিন্দা রাজু দাস। তাঁর আক্ষেপ, ‘‘হলদিয়া বন্দর এবং শিল্প শহর। কিন্তু এইরকম শহরে স্টেডিয়াম নেই বললেই চলে। ভরসা বলতে দুর্গাচক স্টেডিয়াম। বাড়ঘাসিপুরের মাঠটি খেলার উপযোগী হলে নতুন প্রতিভা উঠে আসতে পারত।’’ একই মত তালপুকুরের বাসিন্দা ফুটবলার পার্থসারথী মাইতির। তাঁর বক্তব্য, ‘‘অবহেলায় পড়ে থাকা মাঠটির বিষয়ে এইচডিএ ও পুরসভাকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। হলদিয়া ক্লাব সমন্বয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক সামাদ আলি বলেন, ‘‘মাঠটিকে সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সংস্থার কাছে বার বার আবেদন করা হয়েছে। তারা কথা শোনেনি।’’ স্পোর্টস কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনও উত্তর মেলেনি।

 হলদিয়া পুরসভার চেয়ারম্যান শ্যামল আদক বলেন, ‘‘চলতি অর্থবর্ষে পুরসভার বাজেটে ওই স্টেডিয়াম তৈরির জন্য কোনও অর্থ বরাদ্দ হয়নি।’’ একই সঙ্গে হলদিয়া পুরসভার পুর পারিষদ (ক্রীড়া) আসগর আলি আবার দাবি করেছেন, ‘‘আগের সরকারের আমলে ওই স্টেডিয়ামের নামমাত্র শিলান্যাস হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে মাঠের  কাজ হয়নি। বর্তমান পুরবোর্ড স্টেডিয়াম তৈরির ব্যাপারে উদ্যোগী হয়েছে।’’