হাতে ভারতের পতাকাটা উঁচু করে ধরা মাথার উপর। পিছনে কোট প্যান্টে ভারতীয় অ্যাথলিটরা এক এক করে পা রাখলেন মঞ্চে। সাইনা নেহওয়ালদের গায়ে কালো-হলুদ শাড়ি। লিয়েন্ডারদের গায়ে কালো কোট প্যান্ট। এই প্রথম পাগড়ি নেই ভারতীয় পুরুষ অ্যাথলিটদের মাথায়। এবার সব থেকে বড় দল পাঠিয়েছে ভারত। কিন্তু ভারতীয় পুরুষ হকি দল, তিরন্দাজরা না থাকায় বেশ ফাঁকা ফাঁকাই লাগল।

 ভারতীয় সময় ৪.৩০ এ ঢাকে কাঠি পড়ে গেল ২০১৬ অলিম্পিক্সের। মারাকানা স্টেডিয়ামের দর্শকাসন প্রমাণ করে দিল অলিম্পিক্স ঘিরেও সমান উত্তেজিত ব্রাজিল তথা সারা বিশ্বের মানুষ। ঠিক ফুটবলের মতো। ১৯৫০ সালে ব্রাজিল বনাম উরুগুয়ের মধ্যে বিশ্বকাপ ফাইনালকে ছুঁয়ে ফেলল ২০১৬র অলিম্পিক্স। গ্যালারি ভরিয়ে দিল একলাখ ৯৯ হাজার দর্শক। ২০০৯ এ ঘোষণা হয়েছিল ২০১৬ সালের অলিম্পিক্স হতে চলেছে ব্রাজিলের রিও দে জেনেইরোতে। সাত বছর পর গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের আলোয় ঝকমক করে উঠল রিও।

সব খেলার মন্তাজের মধ্যে দিয়ে শুরু হয়ে গেল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। উল্টো গননা শেষ হতেই আতসবাজির রোশনাইয়ে ছেয়ে গেল মারাকানার আকাশ। এর মধ্যেই পলিনহো দা ভিয়োলার গলায় ব্রাজিল জাতীয় সঙ্গিতের সঙ্গে সঙ্গেই আকাশ ছুঁলো ব্রাজিলের জাতীয় পতাকা। লেজারের আলোয় তখন মারাকানার মঞ্চে জেগে উঠেছে ব্রাজিলের সমু্দ্র সৈকত থেকে আমাজনের অভয়ারণ্য। ক্রমশ একটার পর একটা ছবি বদলের সঙ্গে রিও-র মারাকানা স্টেডিয়ামে লেখা হল ব্রাজিলের ইতিহাস। কী ভাবে ইউরোপিয়ানদের আগমনে বদলে গিয়েছিল ব্রাজিলের ভবিষ্যত। অলিম্পিক্সের আগমন। তাঁর মধ্যেই জানা গেল ফুটবল লিজেন্ড পেলে হঠাৎ বেঁকে বসায় অলিম্পিক্স টর্চ জ্বালাবেন ফ্রেঞ্চ ওপেন চ্যাম্পিয়ন গুস্তাভো কুয়ের্তেন। তখনও ম়্চে বেজে উঠল বিখ্যাত ‘দ্য গার্ল ফ্রম ইপানেমা’। ১২ বছরের র‌্যাপার ততক্ষণে মাতিয়ে দিয়েছে এক লাখ ৯৯ হাজারের গ্যালারিকে। সুপার মডেল জিজেল বুন্দচেন র‌্যাম্প ওয়াক শুরু করতেই অলিম্পিক্স উদ্বোধনের রোশনাই যেন বেড়ে গেল কয়েকশো গুন। আবার স্টেডিয়াম ঘিরে জ্বলে উঠল নানা রঙের আতসবাজি।

আরও খবর
সাম্বা আর লেজার শোয়ে ঝলমলে উদ্বোধন, দেখুন গ্যালারি

শুরু থেকেই রিও-র সমুদ্র সৈকতের দূষণ নিয়ে উত্তপ্ত হয়েছে ব্রাজিল। অলিম্পিক্স উদ্বোধনের আসল থিমই ছিল সেই দূষণ প্রতিরোধ। তথ্যচিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা হল ব্রাজিলের সুন্দর দিককে আরও সুন্দর করে তোলার স্বপ্ন। এর পরই দেশের পতাকা হাতে মঞ্চ আলো করতে নেমে পড়লেন অলিম্পিক্সের আসল যোদ্ধারা। অ্যাথলিটরা। ১৮৯৬ সালে প্রথম অলিম্পিক্স আয়োজন করেছিল গ্রিস। পরম্পরা মেনে প্রথম প্যারেডটি করে সেই দেশই। এর পর এক এক করে দক্ষিণ আফ্রিকা, আফগানিস্তান, জার্মানি, আলবেনিয়া, স্পেন, ফ্রান্স....। ১৪ বারের গ্র্যান্ডস্লাম জয়ী রাফায়েল নাদাল মঞ্চে আসতেই উচ্ছ্বাসের বাঁধ ভাঙল।  গ্রেট ব্রিটেনের হয়ে পরের মঞ্চ মাতালেন ২০১২ অলিম্পিক্সের সোনা জয়ী টেনিস তারকা অ্যান্ডি মারে। কিন্তু সবাইকে ছাপিয়ে গেল উশেইন বোল্টের আগমন। জামাইকা নামতেই স্টেডিয়ামে ইকো হল বোল্টের নাম। এই সবের মধ্যেই রাশিয়া দেশের পতাকা হাতে নামতে পারল না অলিম্পিক্সের মঞ্চে। অলিম্পিক্সের পতাকা হাতে মঞ্চে এল দুটো দল। রাশিয়া ছাড়া এই প্রথম উদ্বাস্তুদের নিয়ে তৈরি দল এল অলিম্পিক্সের পতাকা হাতে।