দু’দিন আগেই তাঁর দল প্রিমিয়ার ব্যাডমিন্টন লিগে পয়েন্ট টেবলের ‘লাস্টবয়’ দিল্লি ড্যাশার্সের কাছে হেরে গিয়েছিল। কিন্ত সেই ধাক্কা সামলে নতুন লড়াইয়ের জন্য তৈরি পি ভি সিন্ধুর হায়দরাবাদ হান্টার্স। আজ, শনিবার দ্বিতীয় সেমিফাইনালে গত বারের চ্যাম্পিয়নদের সামনে মুম্বই রকেটস।

দিল্লি ম্যাচের আগেই সেমিফাইনালে উঠে গিয়েছিলেন সিন্ধুরা। যার নেপথ্যে দলের সবচেয়ে বড় শক্তি সিন্ধুর দুরন্ত ফর্ম। চলতি মরসুমে মোট ছ’টি ম্যাচ খেলেছেন সিন্ধু। জিতেছেন চারটিতে। যার মধ্যে প্রথম দুটি ম্যাচ হারের পরে সিন্ধুকে অপ্রতিরোধ্য মনে হচ্ছে। সেই দুটি ম্যাচে সিন্ধু হেরে গিয়েছিলেন চেন্নাই স্ম্যাশার্সের সুং জি হিউন এবং আওয়াধ ওয়ারিয়র্সের বেইওয়ান ঝ্যাং-এর বিরুদ্ধে। তা ছাড়া এ বার ছ’টি ট্রাম্প ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে হেরেছে হায়দরাবাদ। দিল্লির বিরুদ্ধে দল হারলেও সিন্ধু কিন্তু নিজের ম্যাচ জিততে ভুল করেননি। তাই সেমিফাইনালের আগে তিনি দলের ফাইনালে যাওয়া নিয়ে প্রবল ভাবে আত্মবিশ্বাসী। ‘‘সেমিফাইনালে উঠতে পেরে আমরা সবাই দারুণ ভাবে উত্তেজিত। যদিও লড়াইটা সহজ হবে না জানি। তবে আমরা দল হিসেবে ধারাবাহিক ভাবে ভাল খেলেছি এ মরসুমে। তাই ফাইনালে উঠতে সবাই নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেব,’’ বলেছেন ভারতীয় ব্যাডমিন্টনের রানি। পিবিএলে নামার আগেই যিনি ওয়ার্ল্ড টুর ফাইনালসে সোনা জিতে মরসুম শেষ করেছেন। দিল্লি ম্যাচের পরে তো সমালোচকদেরও এক হাত নেন। সিন্ধু বলেছিলেন, ‘‘আশা করি এ বার আমাকে শুধু রুপোই জিততে পারি বলা বন্ধ হবে।’’

গ্রুপ পর্যায়ের শেষে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানাধিকারী দল হিসেবে সিন্ধুরা সেমিফাইনালে উঠেছে। তাদের আগে ছিল আওয়াধ ওয়ারিয়র্স (২৫ পয়েন্ট)। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, ধারাবাহিকতার অভাব নেই সিন্ধুদের দলে। তবে বিপক্ষেও কিন্তু কম বড় নাম নেই। বিশ্বের ১৮ নম্বর অ্যান্ডার্স অ্যান্টোনসেনের পাশাপাশি আছেন সমীর বর্মা। সিন্ধুর পর দ্বিতীয় ভারতীয় খেলোয়াড় হিসেবে যিনি টুর ফাইনালসে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন। তা ছাড়া আছেন অভিজ্ঞ লি ইয়ং ডায়ে। মুম্বইও কিন্তু ধারাবাহিকতার দিক থেকে চলতি মরসুমে পিছিয়ে নেই। ১৯ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ দল হিসেবে তারা সেমিফাইনালে উঠেছে। তা ছাড়া পিবিএলের দু’বারের রানার্স মুম্বই। ফলে প্রতিযোগিতার শেষ পর্যায়ে কী ভাবে জ্বলে উঠতে হয়, সেটা জানে তারা। মুম্বইয়ের আইকন খেলোয়াড় লি তাই যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী গলায় সিন্ধুদের বিরুদ্ধে লড়াই নিয়ে বলেছেন, ‘‘জানি হায়দরাবাদ গত বারের সেরা। তবে আমরাও কম যাই না। সেরাদের বিরুদ্ধে জিতে ফাইনালে ওঠার মজাই আলাদা। আমরা তৈরি। আশা করি দারুণ লড়াই দেখার সুযোগ পাবেন সবাই।’’

সিন্ধুর আরও একটা সুবিধা, মুম্বই দলে তাঁকে টক্কর জানানোর মতো মেয়েদের সিঙ্গলসে বড় কোনও নাম নেই। যে দু’জন ভারতীয় মহিলা খেলোয়াড় আছেন সিঙ্গলসে তাঁদের এক জনের বিশ্ব র‌্যাঙ্কিং ১১১, আর এক জনের ২০২। তাই ফাইনালে সিন্ধুদেরই দেখছেন এমন লোকের সংখ্যা কিন্তু কম নয়!