সাফ কাপ সেমিফাইনালে আটচল্লিশ ঘণ্টা পরে ধুন্ধুমার ভারত বনাম পাকিস্তান দ্বৈরথ। অথচ কী আশ্চর্য বৈপরীত্য দুই শিবিরে।

ভারতীয় দলের কোচ থেকে ফুটবলার— পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে অদ্ভুত রকম নির্লিপ্ত। পাকিস্তান শিবিরের ছবিটা কিন্তু সম্পূর্ণ উল্টো। ১৩ বছর পরে সাফ কাপের শেষ চারে উঠে ফুটবলারেরা রীতিমতো ফুটছেন। স্টিভনের কথায়, ‘‘ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচের তাৎপর্য আমার কাছে অজানা নয়। কিন্তু আমার কাছে এটা বাকি ম্যাচগুলোর মতোই। তার চেয়ে বেশি কিছু নয়।’’

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ফুলহ্যামের হয়ে খেলা পাকিস্তানের ডিফেন্ডার জেশ রহমানের গলায় তো রীতিমতো হুঙ্কার শোনা গিয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘‘ভারতের বিরুদ্ধে খেলাটা সব সময়ই আমার কাছে স্পেশ্যাল।’’ পাকিস্তানের অধিনায়ক মিডফিল্ডার সাদ্দাম হোসেন বলেছেন, ‘‘শুধু ফুটবলার নয়, দু’দেশের সাধারণ মানুষের কাছেও এটা একটা বিশেষ ম্যাচ।’’ তিনি যোগ করেছেন, ‘‘এই ম্যাচটার সঙ্গে অনেক ইতিহাস ও আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। দুই দেশের এই লড়াই ভাল খেলার প্রেরণা জোগায়। ভারতের বিরুদ্ধে খেলার জন্য আমরা আর অপেক্ষা করতে পারছি না। আমরা কতটা শক্তিশালী মাঠে নেমেই বোঝাতে চাই।’’

পাঁচ বছর আগে কাঠমান্ডুতে সাফ কাপে একই গ্রুপে ছিল ভারত ও পাকিস্তান। সমর ইসফাকের আত্মঘাতী গোলে জিতেছিলেন সুনীল ছেত্রীরা। তখন ভারতীয় দলের কোচ ছিলেন নেদারল্যান্ডসের উইম কোভারম্যান্স। যদিও ফাইনালে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে হেরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে গিয়েছিল ভারতীয় দলের। চলতি সাফ কাপে অবশ্য দারুণ ছন্দে পাকিস্তান। গ্রুপ লিগে তিনটির মধ্যে দুটোতেই জিতেছেন সাদ্দামেরা। যার মধ্যে রয়েছে অন্যতম ফেভারিট নেপাল। হেরেছেন একটি ম্যাচ। আত্মবিশ্বাসী স্টিভন বলছেন, ‘‘এ বারের সাফ কাপে অসাধারণ ফুটবল খেলে সেমিফাইনালে উঠেছে নেপাল। আশা করছি, পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে আমাদের লড়াই করতে হবে নেপালের বিরুদ্ধে।’’ বুধবার শেষ চারে নেপালের প্রতিপক্ষ মলদ্বীপ।

সোমবার ফুটবলারদের অনুশীলনই করাননি স্টিভন। ঢাকার টিম হোটেলে শুধু সাঁতার কাটেন নিখিল পূজারি, মনবীর সিংহেরা। চব্বিশ ঘণ্টা আগে মলদ্বীপের বিরুদ্ধে তাঁরাই গোল করে জেতান ভারতকে। মনবীর বলেছেন, ‘‘দেশের হয়ে গোল করার অনুভূতি সব সময়ই আলাদা। এক জন ফুটবলার হিসেবে অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত। তবে দল জেতায় বেশি আনন্দ হয়েছে।’’ এই মুহূর্তে যে মলদ্বীপ ম্যাচ তাঁর কাছে অতীত, স্পষ্ট করে দিয়েছেন জাতীয় দলের স্ট্রাইকার। তিনি বলেছেন, ‘‘আমার পাখির চোখ এখন সেমিফাইনাল।’’