কে জিতবে বিশ্বকাপ? শুরু হয়ে গিয়েছে জল্পনা। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর দেশ যে রাশিয়া থেকে কাপ নিয়ে যাবে, এমন কথা বলার লোকও পাওয়া গেল।

যিনি বললেন, তিনি নিজেও কিংবদন্তি। তার চেয়ে বড় কথা, পর্তুগালের সর্বকালের সেরাদের এক জন। লুইস ফিগো। শুধু তো পর্তুগাল নয়। তার আগে রিয়াল মাদ্রিদও নাকি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতবে। জিতবে এক জনের জন্যই। তিনি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। ফিগোর কথা ঠিক হলে, পর্তুগিজ মহাতারকার সৌজন্যে প্রথম বার বিশ্বকাপ জিতবে ইউসেবিয়োর দেশ। কী বলেছেন ফিগো, ‘‘রিয়ালের ইতিহাস ও অভিজ্ঞতার দিকে তাকান। ওদের বিরুদ্ধে তাই লিভারপুলকে এগিয়ে রাখার কোনও সুযোগই নেই। মানছি, যে কোনও ফাইনালেই ধুন্ধুমার লড়াই হয়। তা সত্ত্বেও রিয়ালই এগিয়ে থাকবে।’’ 

বিশ্বকাপে কেন পর্তুগালকে খেতাবের অন্যতম দাবিদার বলছেন, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ফিগো। বলেছেন, ‘‘আশা করছি, পর্তুগাল এ বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হবে। আমাদের দলটা একই সঙ্গে অভিজ্ঞতা আর তারুণ্যের মিশেল। তা ছাড়া এক বার অন্তত আমাদের কাপ জেতা দরকার। হতে পারে, অনেকেই রাশিয়ায় আমাদের ফেভারিট মনে করছে না। কিন্তু আমি জানি, রোনাল্ডোরা সব হিসেব উল্টে দিতে পারে। আমার বাজি পর্তুগালই।’’

সফল: পর্তুগালের হয়ে সফল ইউরোজয়ী স্যান্টোস। ফাইল চিত্র

বিশ্বকাপে ‘বি’ গ্রুপে পর্তুগালের সঙ্গে রয়েছে স্পেন, মরক্কো ও ইরান। ১৫ জুন প্রথম ম্যাচেই স্পেনের বিরুদ্ধে খেলবেন রোনাল্ডোরা। যে ম্যাচ নিয়েই ইতিমধ্যেই উত্তাপ বাড়তে শুরু করে দিয়েছে বিশ্বফুটবলে। ফুটবল পণ্ডিতদের মতে, অঘটন না ঘটলে পর্তুগালের নক-আউট পর্বে যোগ্যতা অর্জন নিশ্চিত। যদিও বিশ্বকাপ শুরু আগেই পর্তুগাল দলগঠন নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়ে গিয়েছে। ২০১৬-তে ইউরো কাপ চ্যাম্পিয়ন দলের অনেকেই এ বার বাদ পড়ছেন।

শুধু তাই নয়। অধিনায়ক রোনাল্ডোও বিদ্ধ হয়েছেন অভিযোগের তিরে। সি আর সেভেন নাকি প্রভাব খাটিয়ে নিজের পছন্দের ফুটবলারদেরই দলে রেখেছেন! ফিগো অবশ্য অন্দরমহলের বিতর্ক নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি।

মিশন মস্কো: ২০১৮ বিশ্বকাপের গ্রুপ ভিত্তিক গাইড, ‘বি’-তে টক্কর পর্তুগালের সঙ্গে স্পেনের 

গ্রুপ বি


নজরে: পর্তুগাল


• ফিফা র‌্যাঙ্কিং: ৪


বিশ্বকাপ ইতিহাস
• প্রথম পর্বে:  ৬বার
• সেমিফাইনাল:  ২বার
• ফাইনাল:  কখনও নয়
• বিজয়ী:  কখনও বিশ্বকাপ জেতেনি পর্তুগাল

কী ভাবে রাশিয়ার পথে
• উয়েফা গ্রুপে যোগ্যতা অর্জন পর্বের প্রথম ম্যাচেই হেরেছিল পর্তুগাল। তার পর সব ম্যাচ জিতে গ্রুপের সেরা হয়ে রাশিয়ার টিকিট জিতে নেয়। পরের ৯টি ম্যাচে তারা ৩২টি গোল করে, গোল খায় ২টি।

  
কোচ
• ফার্নান্দো স্যান্টোস: ২০১৪ সালে তাঁকে নিয়োগ করা হয়। তাঁর কোচিংয়ে ইউরোতে শেষ আটে উঠেছিল গ্রিস। ব্রাজিলে শেষ বিশ্বকাপেও গ্রিসকে শেষ ষোলোয় তুলেছিলেন। লিসবনে জন্ম স্যান্টোস পর্তুগালের কোচ হয়েও দারুণ সফল। ইউরো ২০১৬-তে তাঁর কোচিংয়েই চ্যাম্পিয়ন হয় পর্তুগাল। বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বেও পর্তুগালকে দারুণ ভাবেই এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন তিনি।   

তারকা কারা 
• ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো: তিনি সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার। পর্তুগাল ও রিয়াল মাদ্রিদের সর্বোচ্চ গোল স্কোরার। রোনাল্ডো ও আন্দ্রে সিলভা জুটি ২৪টি গোল করেছেন যোগ্যতা অর্জন পর্বে।  

নজরে: স্পেন


• ফিফা র‌্যাঙ্কিং: ৮


বিশ্বকাপ ইতিহাস
• প্রথম পর্বে:  ১৪বার
• সেমিফাইনাল:  ২বার
• ফাইনাল:  ১ বার
• বিজয়ী: ১বার  (২০১০)

কী ভাবে রাশিয়ায়
• ইউরোপের গ্রুপ ‘জি’ থেকে খুব সহজেই যোগ্যতা অর্জন করে স্পেন।  ১০টি ম্যাচের ৯টিতে জেতে তারা। রিয়াল মাদ্রিদের মার্কো আসেনসিও, আতলেতিকো দে মাদ্রিদের সাউল নিগে-দের যোগ্যতা অর্জন পর্বের ম্যাচে খেলিয়ে তৈরি করা হয়েছে। বের্নাবাউতে ইতালিকে এই স্পেনই চূর্ণ করে ৩-০ গোলে। ইস্কো করেছিলেন জোড়া গোল। 


কোচ
• জুলেন লোপেতেগি: বার্সেলোনা এবং রিয়াল মাদ্রিদে খেলা গোলকিপার। ১৯৯৪-এ স্পেনের বিশ্বকাপ দলেরও সদস্য ছিলেন। ইউরো ২০১৬-র পরে ভিসেন্তে দেল বস্কির জায়গায় তিনি কোচ হন। স্পেনের দায়িত্ব নেওয়ার আগে পোর্তোর কোচিং করিয়েছেন। স্পেনের যুব দলের দায়িত্ব সামলেছেন। অনূর্ধ্ব-১৯ এবং অনূর্ধ্ব-২১ উয়েফা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে জিতেছেন।   

তারকা কারা 
• আন্দ্রে ইনিয়েস্তা: বয়স ৩৪। প্রিয় ক্লাব বার্সেলোনা থেকে বিদায় নিলেন সদ্য। তবু স্পেনের মাঝমাঠকে বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দেবেন তিনিই। জাভির উত্তরসূরি হিসেবে লোপেতেগির তিকিতাকার প্রধান মুখ ইনিয়েস্তাই। গুরুত্বপূর্ণ হবেন সের্খিয়ো র‌্যামোসও। স্পেনের হয়ে সব চেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার সামনে রয়েছেন র‌্যামোস।

 
গ্রুপে আর কারা 

মরক্কো (ফিফা র‌্যাঙ্কিং ৪২) এবং ইরান (ফিফা র‌্যাঙ্কিং ৩৬)। কেউ খুব দুর্বল নয়। নক-আউটে যাবে দু’টি দল। ফেভারিট পর্তুগাল, স্পেন।