টানা দু’বছর আইপিএলের সেরা পিচ ও সেরা মাঠ নির্বাচিত হয়েছিল ইডেন। কিন্তু ২০১৯ আইপিএলে সেই পুরস্কার পেল হায়দরাবাদ ক্রিকেট সংস্থা ও পঞ্জাব ক্রিকেট সংস্থা। হায়দরাবাদের উপ্পল স্টেডিয়াম ও মোহালির আইএস বিন্দ্রা স্টেডিয়ামের চেয়ে গড় রান বেশি থাকা সত্ত্বেও পুরস্কার দেওয়া হয়নি ইডেন অথবা বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামকে। যা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠে পড়ছে। 

২০১৭ সালে মুম্বই ক্রিকেট সংস্থার সঙ্গে যুগ্মভাবে সেরা মাঠ ও পিচের জন্য পুরস্কৃত হয়েছিল সিএবি। ২০১৮ সালে শুধুমাত্র ইডেনই পেয়েছিল এই পুরস্কার। অথচ এ বার কী কারণে হায়দরাবাদ ও পঞ্জাব সেই পুরস্কার পেল তা অনেকের কাছেই পরিষ্কার হচ্ছে না। সেরা পিচ ও মাঠ নির্বাচিত করার নিয়ম সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণাও নেই বেশির ভাগ ক্রিকেট সংস্থার। কোন ভিত্তিতে এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে, তা জানতে বুধবারই ভারতীয় বোর্ডের সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত প্রশাসকদের কমিটি (সিওএ)-কে চিঠি লিখেছেন কর্নাটক ক্রিকেট সংস্থার (কেএসসিএ) সচিব সুধাকর রাও। সিএবি এখনও লিখিত ভাবে প্রতিবাদ করার সিদ্ধান্ত না নিলেও প্রশ্ন এবং অসন্তোষ রয়েছে সংস্থার অন্দরমহলে। 

যে দু’টি মাঠকে সেরার পুরস্কার দেওয়া হয়েছে, সেখানকার গড় রান ইডেনের চেয়ে কম। উপ্পল স্টেডিয়ামে প্রথম ইনিংসে রানের গড় ১৭৫.১৪। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪১.১৪। ইডেনে প্রথম ইনিংসের গড় রান ১৯৪। দ্বিতীয় ইনিংসের গড় রান ১৮৪.৭১। হায়দরাবাদের চেয়ে প্রথম ইনিংসের গড়ে ১৮.৮৬ রানে এগিয়ে কলকাতা। দ্বিতীয় ইনিংসের গড়ে ইডেন এগিয়ে ৬২.৪৩ রানে। 

এ বারের আইপিএলে ইডেনে কোনও দল অলআউট হয়নি। চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে আট উইকেট হারিয়ে ১৬১ রান করেছিল কেকেআর। সেটাই এ মরসুমে ইডেনের সর্বনিম্ন স্কোর। অথচ উপ্পল স্টেডিয়ামে তিনটি ক্ষেত্রে ১২০ রানের কমে অলআউট হওয়ার ঘটনা দেখা গিয়েছে। সর্বনিম্ন রান ৯৬। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে এত কম রানেই অলআউট হয়ে গিয়েছিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। সাধারণত, দর্শকদের কথা মাথায় রেখে ধরে নেওয়া হয়, যে মাঠে বেশি রানের খেলা হয়, তা তত বেশি উত্তেজনা আমদানি করে এবং মনোরঞ্জন করতে পারে। সেই যুক্তিতে ইডেনের দাবি যুক্তিযুক্ত মনে হতেই পারে। তবে কলকাতায় পিচ নিয়ে ঘরের টিম কেকেআরের অসন্তোষ গোপন থাকেনি। আবার ইডেন ও হায়দরাবাদে এ বছরের সর্বোচ্চ স্কোর ২৩২ ও ২৩১। সেখানে মোহালিতে সর্বোচ্চ রান উঠেছে ১৮৫। কিংস ইলেভেন পঞ্জাবের বিরুদ্ধে ১৮৩ রান তাড়া করতে গিয়ে এই রান তুলেছিল আন্দ্রে রাসেলদের কেকেআর। 

ইডেনে যে সাতটি ম্যাচ রাসেল খেলেছেন তার মধ্যে পাঁচটিতেই রান করেছেন তাঁর মতো ‘পাওয়ার হিটার’। বল ব্যাটে না এলে সাধারণত অসুবিধা হয় রাসেলের মতো ক্রিকেটারদের। কিন্তু সাত ম্যাচে তাঁর রান ৩১১। দু’টি হাফসেঞ্চুরি ও তিন ম্যাচে চল্লিশের উপরে রান। ইডেনে বেশির ভাগ ম্যাচে রান করেই এ বার আইপিএলে ‘সুপার স্ট্রাইকার অব দ্য সিজন’ ও সব চেয়ে মূল্যবান ক্রিকেটারের পুরস্কার পেয়েছেন ক্যারিবিয়ান তারকা। 

গড় রান ও ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি যদি দর্শকাসনের ভিত্তিতেও দেখা যায়, তা হলে বাকিদের চেয়ে এগিয়ে ইডেন। ৬৬ হাজার দর্শকাসনের বেশির ভাগই এ বছর ভর্তি ছিল। সে জায়গায় উপ্পল স্টেডিয়ামের দর্শকাসন ৫৫ হাজার। চিন্নাস্বামীর আসন ৪০ হাজার। মোহালির দর্শকাসন ২৬ হাজার। 

সিএবি এ বিষয়ে কোনও প্রতিবাদ না করলেও পিছু হটেনি কেএসসিএ। কর্নাটক ক্রিকেট সংস্থার সচিব সুধাকর রাও আনন্দবাজারকে ফোনে বললেন, ‘‘কোন ভিত্তিতে সেরা মাঠ ও পিচের পুরস্কার দেওয়া হয়, তা বুঝতে পারছি না। যদি সর্বোচ্চ রানের ভিত্তিতে দেওয়া হত তা হলে এই পুরস্কার পাওয়ার কথা ছিল ইডেন ও চিন্নাস্বামীর। কারণ ইডেন ও আমাদের পিচে আইপিএল জুড়ে বড় রান উঠেছে। কিন্তু আর কী কী ভিত্তি রয়েছে তা নিয়ে প্রত্যেকটি ক্রিকেট সংস্থারই পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন। এ বিষয়ে জানতে চেয়ে সিওএ-র কাছে আবেদন করেছি। দেখি ওঁরা কী বলেন।’’

ইডেনের পিচের দায়িত্বে থাকা সুজন মুখোপাধ্যায়ের গলাতেও রয়েছে হতাশা। বলছিলেন, ‘‘আইপিএলের তিন মাস আগে থেকে কাজ করছে আমাদের কর্মীরা। এ বারে যে পিচ বানানো হয়েছিল, তা ছিল একেবারেই ব্যাটিং সহায়ক। এ মরসুমের সর্বোচ্চ রান এসেছে এই পিচ থেকেই। তার পরেও হায়দরাবাদ ও পঞ্জাবকে এই পুরস্কার দেওয়া হল কী ভাবে, বুঝতে পারছি না।’’