মহেন্দ্র সিংহ ধোনির নাম না করলেও বিরাট কোহালি বুঝিয়ে দিলেন, এই মুহূর্তে ভারতীয় দল ভবিষ্যতের দিকেই তাকাতে চাইছে। এবং, সেই ভবিষ্যতের নাম ঋষভ পন্থ। মঙ্গলবার তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৪২ বলে ৬৫ অপরাজিত ইনিংস খেলে ভারতকে জিতিয়েছেন পন্থ। অনেকটা নতুন ‘ফিনিশারের’ ভূমিকাতেই তাঁকে দেখা গিয়েছে। ভারতীয় দল খুশি যে, ম্যাচ শেষ করে আসতে পেরেছেন তিনি। 

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩-০ হোয়াইটওয়াশের পরে কোহালি বলেন, ‘‘ঋষভকে আমরা ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখছি। অসাধারণ প্রতিভা এবং উৎকর্ষ রয়েছে ওর। ওকে কিছুটা সময় দিতে হবে। আর দেখতে হবে যাতে বেশি চাপ না দিয়ে ফেলি।’’ আইপিএলের মঞ্চ থেকে উত্থান হওয়ার পরে ভারতীয় ক্রিকেটেও সফল আবির্ভাব ঘটেছে রুরকি থেকে বহু পথ পেরিয়ে আসা প্রতিভার। টেস্টে এখন তিনিই প্রথম উইকেটকিপার। ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট সেঞ্চুরি পেয়েছেন। যদিও সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বিশ্বকাপ পর্যন্তও মহেন্দ্র সিংহ ধোনিকেই এক নম্বর উইকেটকিপার হিসেবে দেখেছেন কোহালিরা। 

কিংবদন্তি ধোনি যখন কাশ্মীরে টেরিটোরিয়াল আর্মির সঙ্গে সাম্মানিক কর্নেলের ভূমিকায় ব্যস্ত, তখন আরও বেশি করে ভারতীয় দলে নিজের স্থান পাকা করার সুযোগ রয়েছে ঋষভের সামনে। কোহালি তা বুঝিয়ে দিচ্ছেন, ‘‘খেলা শুরু করার পর থেকে অনেক পথ পেরিয়ে আজ এই জায়গায় এসেছে ঋষভ। ওর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে ম্যাচ শেষ করে আসা। ম্যাচ জিতিয়ে আসা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে চাপ সামলাতে হয়।’’ যোগ করছেন তিনি, ‘‘এ দিন যে রকম খেলল, তা যদি চালিয়ে যেতে পারে ঋষভ, তা হলে আমরা সবাই ওর প্রতিভার আলো দেখতে পাব।’’ 

ঋষভ পন্থ আবার জানিয়ে দিচ্ছেন, ভাল খেলতে না পারলে হতাশ হয়ে পড়েন। ফ্লরিডায় প্রথম দু’টি টি-টোয়েন্টিতে রান পাননি পন্থ। তৃতীয় ম্যাচে ৬৫ করলেন চারটি চার ও চারটি ছক্কার সাহায্যে। তাঁর এবং কোহালির ব্যাটিং দাপটে চার বল বাকি থাকতে ১৪৭ রান তাড়া করে জিতে যায় দল। ভারতীয় বোর্ডের ওয়েবসাইটে সাক্ষাৎকার নেন রোহিত শর্মা। বিশ্বকাপে পাঁচ সেঞ্চুরি করা ওপেনারকে ঋষভ বলেন, ‘‘এই ইনিংস খেলে দারুণ লেগেছে। কিন্তু প্রথম দু’টো ম্যাচে রান করতে পারছিলাম না বলে হতাশ হয়ে পড়ছিলাম। প্রক্রিয়াটার উপর আস্থা রেখে এগিয়ে ফল পেলাম।’’ 

কোহালির সঙ্গে ১০৬ রানের পার্টনারশিপ নিয়ে তাঁর বক্তব্য, ‘‘আমি আর বিরাট ভাইয়া যখন খেলছিলাম, একটা বড় পার্টনারশিপ গড়ার লক্ষ্য নিয়েছিলাম। ঠিক করেছিলাম, ম্যাচটাকে যত দূর সম্ভব এগিয়ে নিয়ে যাব। তার পর শেষ সাত-আট ওভারে আক্রমণ করব।’’ শট নির্বাচন এবং মানসিকতার জন্য বার বার সমালোচিত হয়েছেন ঋষভ। বিশ্বকাপে নিউজ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে উইকেট ছুড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। ‘‘যখন সব কিছু ঠিক-ঠাক যায় না, তখন ভাবি, অন্য কী করলে সফল হতে পারতাম। কখনও সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েও সফল হওয়া যায় না। ক্রিকেটে এ রকম হয়ই। এটাকে খেলার অঙ্গ হিসেবেই ধরতে হবে,’’ বলে পন্থ যোগ করছেন, ‘‘ওই সময়ে ক্রিকেটের প্রাথমিক জিনিসগুলো ঠিকঠাক করে যেতে হবে। সহজাত মনোভাবকে ধরে রাখতে হবে।’’

চাপ সামলাতে তৈরি ঋষভও। বলছেন, ‘‘কখনও কখনও আমি চাপ অনুভব করি, আবার অনেক সময়ে তা উপভোগও করি। কিন্তু দিনের শেষে আমার কাছে সব চেয়ে বেশি গুরুত্ব একটাই জিনিসের। টিম, সতীর্থরা আমার প্রতি আস্থা রাখে ও আত্মবিশ্বাস জুগিয়ে যায়। মনে হয়, আমাকে কেউ ছুড়ে ফেলে দেবে না। টিম আমার পাশে দাঁড়াবে।’’