চলতি মাসেই শুরু হচ্ছে ফরাসি ওপেন। তার আগে ক্লে কোর্টে নিজেকে তৈরি করে নিতে জোরকদমে অনুশীলন শুরু করে দিলেন রজার ফেডেরার। ২০১৫ সালের পরে আবার ইটালি ওপেনে খেলছেন ৩৭ বছরের ফেডেরার। সে বার ফাইনালে হারেন নোভাক জোকোভিচের কাছে। তবে সেই ঘটনা মনে রাখতে চাইছেন না সুইস তারকা। তিনি বলেছেন, ‘‘আগে কী হয়েছিল, ভাবছি না। এই মুহূর্তে ক্লে কোর্টে যত বেশি সম্ভব ম্যাচ খেলাটাই একমাত্র লক্ষ্য।’’

গত সপ্তাহেই মাদ্রিদ ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে দমিনিক থিমের কাছে হেরে তিনি বিদায় নিয়েছিলেন। কিন্তু ২০টি গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিক মনে করছেন, ইটালি ওপেনে তিনি ইতিবাচক টেনিস উপহার দেবেন। রজার বলেছেন, ‘‘আমি মনে করি না, মাদ্রিদে খুব খারাপ টেনিস খেলেছিলাম। তবে ওখানকার আবহাওয়ায় টেনিস খেলাটা বেশ কঠিন। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে একটু বেশি উচ্চতায় খেলা আমার পক্ষে সুবিধাজনক হয়ে থাকে। সেই জায়গা থেকে দেখতে গেলে ইটালিতে ম্যাচ খেলা সহজ হবে বলে মনে করি।’’ সঙ্গে যোগ করেছেন, ‘‘প্যারিসে পৌঁছনোর আগে কোর্ট এবং আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া আমার কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তার জন্য চাই প্রচুর অনুশীলন এবং ম্যাচ খেলা। এ বার দেখতে হবে, আমি কতটা ভাল খেলতে পারছি।’’

ফেডেরারের সঙ্গে এই প্রতিযোগিতায় খেলবেন রাফায়েল নাদাল, গ্রিসের নতুন তারকা স্তেফানোস চিচিপাস, ফাবিও ফগনিনির মতো তারকা। যে সূচি তৈরি হয়েছে, তাতে ফেডেরার সেমিফাইনালে উঠলে তাঁর সঙ্গে দেখা হতে পারে নাদালের। তবে তার আগে কোয়ার্টার ফাইনালে দেখা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে চিচিপাসের। যিনি মাদ্রিদ ওপেনে নাদালকে হারিয়ে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন। সতর্ক ফেডেরার বলেছেন, ‘‘সেমিফাইনাল নিয়ে এখনই ভাবছি না। তার আগে অনেক কঠিন পথ অতিক্রম করতে হবে।’’ বরং গ্রিসের নতুন তারকা চিচিপাস সম্পর্কে রজার বলেছেন, ‘‘ও খুব কঠিন প্রতিপক্ষ হতে চলেছে। যে নাদালের মতো তারকাকে হারাতে পারে, তাকে নিয়ে ভাবতেই হবে।’’ চিচিপাসের প্রশংসা করে রজার আরও বলেছেন, ‘‘রাফার বিরুদ্ধে খুব ভাল খেলেছিল চিচিপাস। সব মিলিয়ে এ বার অনেকেই অবশ্য খুব ভাল টেনিস খেলছে। দেখতে হবে, বছরের শেষে কারা ওয়ার্ল্ড টুর ফাইনালসে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে। রাফার স্পিন শট এবং বাঁ হাতের ভয়ঙ্কর সার্ভিস কারা ভাল সামলাতে পারছে, সেটাও আকর্ষণীয় হতে চলেছে। যারা ক্লে-কোর্টে বিশেষজ্ঞ, তাদের জন্য চলতি বছরটা খুব রোমাঞ্চকর হতে চলেছে।’’