ইটালির বিরুদ্ধে ডেভিস কাপ টাইয়ে ভারতীয় দলের পারফরম্যান্সের উপরেই নির্ভর করছে তাঁর ক্যাপ্টেন পদে থাকা। বলা হচ্ছিল এমনই। শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া টাইয়ের পরেই তাঁর, মহেশ ভূপতির নন প্লেয়িং ক্যাপ্টেন পদে থাকার চুক্তি শেষ হয়ে যাবে। শোনা যাচ্ছিল, জাতীয় টেনিস সংস্থার কেউ কেউ মহেশের চুক্তি বাড়ানোর বিরুদ্ধে। তবে মহেশ কিন্তু দ্বৈরথ শুরু হওয়ার আগেই দলের খেলোয়াড়দের প্রবল সমর্থন পেয়ে গেলেন। দলের সিনিয়র থেকে জুনিয়র, সবাই জানিয়ে দিলেন, নন-প্লেয়িং ক্যাপ্টেনের পাশেই তাঁরা আছেন।

বৃহস্পতিবার সাউথ ক্লাবে টাইয়ের ড্র অনুষ্ঠিত হওয়ার পরে মহেশের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন খেলোয়াড়েরা। সব চেয়ে সিনিয়র খেলোয়াড় বোপান্না বলেন, ‘‘মহেশের জন্য খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগাযোগ আরও অনেক বেড়েছে। শুধু ডেভিস কাপের সময়েই নয়, গোটা বছরই আমাদের সঙ্গে সেটা ও রেখে চলে। এতে ভীষণ সুবিধে হয় আমাদের।’’ ভূপতির এক সময়ের ডাবলস পার্টনার আরও বলেছেন, ‘‘মহেশের সঙ্গে খুব বেশি দেখা না হলেও এই নিয়মিত যোগাযোগ থাকার জন্য ডেভিস কাপে খেলার সময় আমাদের সংঘবদ্ধতা আরও বাড়ে।’’

বোপান্নার ডেভিস কাপ অভিযেক ২০০২ সালে। তার বছর পাঁচেক আগে মহেশের সঙ্গে বোপান্নার প্রথম আলাপ। তখন থেকেই সিনিয়র হিসেবে মহেশের পরামর্শে কী ভাবে উপকৃত হয়েছেন সে কথাও বলেন তিনি, ‘‘যে প্রতিযোগিতাতেই খেলি, যেখানেই থাকি না কেন, মহেশের কাছে সব সময় পরামর্শ পাই। যেটা এক জন খেলোয়াড়ের উন্নতির জন্য খুব প্রয়োজন। আরও ভাল খেলোয়াড় হয়ে ওঠা, আরও উন্নতি করার জন্য মহেশকে ক্যাপ্টেন হিসেবে পাওয়াটা আমাদের কাছে বড় পাওনা।’’ একই কথা শোনা গেল, দলের দু’নম্বর সিঙ্গলস খেলোয়াড় রামকুমার রমানাথন এবং ডাবলস খেলোয়াড় দ্বিবীজ শরনের মুখেও।

ভূপতি ক্যাপ্টেন থাকাকালীন দু’বার ভারত ওয়ার্ল্ড গ্রুপ প্লে-অফ পর্যায়ে উঠেছে। তবে কানাডা (২০১৭) এবং সার্বিয়ার (২০১৮) বিরুদ্ধে হারে ভারতীয় দল। অবশ্য ঘরের মাঠে উজবেকিস্তান এবং চিনকেও হারিয়েছে ভারতীয় দল তাঁর অধিনায়কত্বে। চিনের বিরুদ্ধেই ভূপতি দলে নিয়েছিলেন প্রজ্ঞেশ গুণেশ্বরনকে। যিনি সেই টাইয়ে জুনিয়র যুক্তরাষ্ট্র ওপেন চ্যাম্পিয়নকে হারিয়ে নজর কেড়েছিলেন। এখন প্রজ্ঞেশই ভারতীয় দলের অন্যতম ভরসা। তিনিও বলেছেন, ‘‘ওঁর থাকাটা দলের জন্য ভীষণ জরুরি।’’