পরের মরসুমে ইন্ডিয়ান সুপার লিগে খেলার জন্য অনেকখানি এগিয়ে গিয়েছে ইস্টবেঙ্গল। ভাল স্পনসরও পেয়ে গিয়েছে লাল-হলুদ শিবির। ইতিমধ্যেই স্প্যানিশ কোচ এনে, বিদেশে প্রস্তুতি শিবির করে আইএসএল ক্লাবগুলির রাস্তায় এ বছরই হেঁটেছে তারা। 

এ বার আসরে নেমে পড়ল মোহনবাগানও। ইস্টবেঙ্গলের মতো নিলামে অংশগ্রহণ না করে অন্য রাস্তায় হাঁটার কথা ভাবছে নির্বাচনে জিতে আসা কর্তারা। এটিকের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আইএসএলে খেলার কথা ভাবছে সবুজ-মেরুন শিবির। বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, মোহনবাগানের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই এটিকের কর্তাদের কাছে প্রস্তাব পাঠানো রয়েছে। শোনা যাচ্ছে পুরো ব্যাপারটি জানেন নীতা অম্বানির কোম্পানির কর্তারাও। পুরো ব্যাপারটাই যে-হেতু এই মুহূর্তে প্রথমিক পর্যায়ে, তাই কেউই মুখ খুলতে চাইছেন না। মোহনবাগান সহ সচিব সৃঞ্জয় বসু বললেন, ‘‘অনেকের সঙ্গেই কথা চলছে। ওঁরা তো ফুটবলের জন্য অনেক অর্থ খরচ করেছে। অনেক কিছুই হতে পারে।’’ এটিকের পক্ষ থেকে অবশ্য এ ব্যাপারে কেউ কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তবে জানা গিয়েছে জার্সির রঙ, ক্লাবের নাম কী হবে তার উপর নির্ভর করছে সবকিছু।   

আগামী মরসুমে কী হবে তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। কিন্তু এই মুহূর্তে কালু উচেকে নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে এটিকে শিবিরে। চোটের কারণে তিন মাসের জন্য মাঠের বাইরে চলে গেলেন দলের এক নম্বর স্ট্রাইকার। বেঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে ম্যাচে চোট পেয়েছিলেন তিনি। আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাঁকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে দেশে। গত বছর দিল্লি ডায়নামোজ এফসির হয়ে ১৩ গোল করেছিলেন কালু। সে জন্যই তাঁকে নেওয়া হয়েছিল। ধাক্কা সামলাতে কালুর জায়গায় নতুন স্ট্রাইকারের খোঁজে নেমেছেন এটিকে কোচ। কিন্তু সমস্যা হল, এই মুহূর্তে ফিফার দলবদলের দরজা বন্ধ। ফলে এমন ফুটবলারকে নিতে হবে যিনি কোনও ক্লাবের সঙ্গে এখন যুক্ত নন। সহকারী কোচ সঞ্জয় সেন বললেন, ‘‘কালুকে আমরা পরের ছ’টি ম্যাচে পাব না। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে ফিরতি লিগের ম্যাচে ওর খেলার কোনও সম্ভাবনা নেই। তার পরে আইএসএল বন্ধ থাকছে। নতুন করে আবার খেলা শুরু হলে হয়তো পাব। ও ফিরলে রি-হ্যাব শুরু হবে। নতুন স্ট্রাইকারের খোঁজও করছি আমরা।’’

ছয় ম্যাচে সাত পয়েন্ট নিয়ে এটিকে এখন লিগ টেবলে সাত নম্বরে আছে। শনিবারের পুণে ম্যাচ না জিতলে শেষ চারে যাওয়া কঠিন স্টিভের দলের। কালুর আগেই রাইট ব্যাক প্রবীর দাশও অস্ত্রোপচার করে প্রতিযোগিতার শুরু থেকেই মাঠের বাইরে। ইউজেনসন লিংডো চোট সারিয়ে ফিরলেও তাঁকে প্রায় খেলাচ্ছেনই না কপেল। যা নিয়ে দলের অন্দরে তুমুল আলোড়ন। খবর নিয়ে জানা গেল, পুণের বিরুদ্ধে কালুর জায়গায় বলবন্ত সিংহকে খেলানো হবে স্ট্রাইকারে। তার পিছনে খেলবেন ম্যানুয়েল লানসারোতে। 

এটিকে ছ’টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র দু’টিতে জিতেছে। হেরেছে তিনটিতে। ছ’টি ম্যাচের মধ্যে ঘরের মাঠে খেলেছে চারটি ম্যাচ। তার মধ্যে তিনটেতে হার। ছয় গোল দিয়েছে, আট গোল খেয়েছে। শুরুটা ভাল না হওয়ার জন্য কপেলের রক্ষণাত্মক রণকৌশলকেই দায়ী করেছে সবাই। এর আগে কেরল ব্লাস্টার্স এবং জামশেদপুরের কোচ থাকার সময় এই মনোভাবের জন্যই ডুবেছিল দল। এটিকের রক্ষণে জন জনসন এবং গার্সন ভিয়েরা— দুই বিদেশি স্টপার থাকলেও কেন এভাবে গোল খাচ্ছে এটিকে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে শিবিরে।