নিউজ়িল্যান্ডে সফল ভাবে নতুন অভিযান শুরুর মধ্যেই ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন এক বিতর্ক আছড়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। যার এক দিকে ভারতীয় বোর্ডের কোনও কোনও কর্তা। অন্য দিকে ভারতীয় দল। 

সংঘাতের শুরু হার্দিক পাণ্ড্য এবং কে এল রাহুলের আপত্তিজনক মন্তব্যের জেরে বোর্ডের প্রতিক্রিয়া নিয়ে। বোর্ডের জেনারেল ম্যানেজার (ক্রিকেট অপারেশন্‌স) সাবা করিম বলেছেন, ভারতীয় দলের সমস্ত স্তরেই লিঙ্গ বৈষম্যমূলক মন্তব্য সম্পর্কে শিক্ষিত করার প্রচেষ্টা শুরু হবে। এর জন্য না কি ভারতীয় দলের সিনিয়র ক্রিকেটারদেরও ক্লাস করানো হবে। 

করিমের এই মন্তব্য ভারতীয় দলের সর্বস্তরে মোটেও খুব জনপ্রিয় হয়নি। বিশেষ করে সিনিয়র ক্রিকেটারেরা ভীষণ ভাবেই ক্ষুব্ধ। এই মুহূর্তে ভারতীয় দলে বেশির ভাগ সিনিয়র ক্রিকেটার বিবাহিত। যেমন অধিনায়ক বিরাট কোহালি, শিখর ধওয়ন, রোহিত শর্মা, অজিঙ্ক রাহানে, চেতেশ্বর পূজারা, অশ্বিন, ইশান্ত শর্মা। এই সব সিনিয়র ক্রিকেটারদের কখনও হার্দিক পাণ্ড্য গোছের মন্তব্য করতে শোনা যায়নি। প্রশ্ন উঠছে, বোর্ড তা হলে কোহালি-অশ্বিনদের সঙ্গে হার্দিককে গুলিয়ে ফেলল কেন? 

সিনিয়র ক্রিকেটারদের মধ্যে রাহানে, পূজারা, অশ্বিনরা ফিরে এসেছেন। তাঁরা শুধুই টেস্ট দলে খেলছেন। কিন্তু কোহালি-সহ অনেকের স্ত্রী, পরিবার নিউজ়িল্যান্ডে রয়েছে। শোনা যাচ্ছে, সিনিয়র ক্রিকেটারদের লিঙ্গ বৈষম্য সম্পর্কে মন্তব্য নিয়ে ক্লাস করানোর বক্তব্য তাঁদের স্ত্রী মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কেউ কেউ এমন মন্তব্যও করেছেন যে, তাঁদের স্বামীরা ক্রিকেট খেলেন ঠিকই। কিন্তু তারও আগে তাঁরা সমাজের পরিচিত ব্যক্তিত্ব। ক্রিকেট বোর্ড না বুঝেশুনে এমন খামখেয়ালি বিবৃতি দেবে কেন? 

কর্ণ জোহরের টিভি শো ‘কফি উইথ কর্ণ’-এ এসে আপত্তিজনক মন্তব্য করেন ভারতীয় দলের দুই ক্রিকেটার হার্দিক এবং রাহুল। দেশ জুড়ে তৈরি বিতর্ক এবং প্রতিবাদের ভিত্তিতে দুই ক্রিকেটারকে অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরিয়ে আনা হয়। দু’জনেই নির্বাসনে। বোর্ডের মধ্যে এ নিয়ে মত-পাল্টা মত চলছে। তার মধ্যেই সাবার মন্তব্য, লিঙ্গ বৈষম্যমূলক মন্তব্য সম্পর্কে অবহিত করতে সমস্ত স্তরে শিক্ষামূলক পদক্ষেপ করার কথা ভাবছে বোর্ড। এর জন্য ওয়ার্কশপ করা হবে। এর পরেই তাঁর মন্তব্য, ‘‘সেই ওয়ার্কশপে সিনিয়র ক্রিকেটারদেরও আসতে বলা হবে। যখনই ক্যাম্প হবে, সিনিয়রদের আসতে হবে।’’ 

নিউজ়িল্যান্ড থেকে যা ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে, করিমের এই মন্তব্য নিয়েই তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ক্রিকেটারদের তরফে এমনকি সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত সিওএ প্রধান বিনোদ রাইয়ের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলা হলেও অবাক হওয়ার থাকবে না। কারও কারও পাল্টা প্রতিক্রিয়া, ‘‘কখনও কোনও দেশের ক্রিকেট বোর্ড সিনিয়র প্লেয়ারদের এমন ক্লাস করিয়েছে বলে শুনিনি। দেখে মনে হচ্ছে যেন আমাদের কোনও শিক্ষাদীক্ষাই এত দিন ছিল না!’’ হার্দিকদের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে স্বয়ং অধিনায়ক কোহালি অস্ট্রেলিয়াতে বলেছিলেন, এটা দুই ক্রিকেটারের ব্যক্তিগত মন্তব্য। তাঁদের দলের কেউ এই ধরনের মনোভাবকে সমর্থন করেন না। তার পরেও বোর্ডের বেতনভূক কর্মী হিসেবে বাংলা ও বিহারের প্রাক্তন ক্রিকেটার কী করে সকলকে এক গোত্রে ফেলে দিলেন, তা নিয়েই ক্ষোভ। করিমের মন্তব্যে সব চেয়ে বেশি অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বিবাহিত ক্রিকেটারদের মধ্যে। 

বোর্ডের মধ্যে যদিও করিমের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নানা ব্যাখ্যা শোনা যাচ্ছে। সিইও রাহুল জোহরির বিরুদ্ধে ‘#মিটু’ তদন্ত চলেছে। তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, তাঁকে লিঙ্গ বৈষম্যের স্পর্শকাতরতা সম্পর্কে অবহিত করানোর ক্লাসে পাঠানো হোক। করিম বলেছেন, কর্তারাও ওয়ার্কশপে যাবেন। যা শুনে কারও কারও বিশ্লেষণ, নাম না করে তাঁর আঙুলও হয়তো 

জোহরির দিকে। আবার কারও কারও মন্তব্য, ‘‘ভারত বিদেশের মাঠে একটার পর একটা ম্যাচ জিতছে। কোথায় কর্তারা ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানাবেন। তা না তাঁরা একটা বিছিন্ন ঘটনার দায় পুরো দলের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে। এ রকম পৃথিবীর কোনও 

বোর্ড করবে!’’