• নিজস্ব প্রতিবেদন
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

খেলার দুনিয়ায় লিঙ্গবৈষম্য নিয়ে তোপ দুই কন্যার

 Mithali-Sania
প্রতিবাদী: সমান অধিকার নিয়ে সরব মিতালি-সানিয়া। ফাইল চিত্র

ক্রীড়াবিশ্বে লিঙ্গবৈষম্য নিয়ে বিতর্ক কম নয়। শুক্রবার যে বিতর্কের আগুন ঢুকে পড়ল ভারতীয় খেলাধুলোর জগতেও। দুই ভারতীয় তারকা খেলোয়াড়ের হাত ধরে— সানিয়া মির্জা এবং মিতালি রাজ।

প্রথম ঘটনা লন্ডনে মেয়েদের বিশ্বকাপে ভারতের প্রথম ম্যাচের আগে সাংবাদিক সম্মেলনে ঘটল। ভারতের ক্যাপ্টেন মিতালিকে প্রশ্ন করা হয়, তার প্রিয় পুরুষ ক্রিকেটার কে? যার উত্তরে মিতালি পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘‘আপনি কি এই একই প্রশ্ন কোনও পুরুষ ক্রিকেটারকে করেন? আপনি কি জানতে চান যে তাঁর প্রিয় মহিলা ক্রিকেটার কে?’’ এখানেই না থেমে মিতালি আরও বলেন, ‘‘আমাকে প্রায়ই শুনতে হয় আমার প্রিয় পুরুষ ক্রিকেটার কে? এই একই প্রশ্ন আপনাদের কোনও পুরুষ ক্রিকেটারকেও করা উচিত, কে তাঁর প্রিয় মহিলা ক্রিকেটার।’’

ভারতের মতো দেশে ক্রিকেট এত জনপ্রিয় হলেও পুরুষ ক্রিকেটারদের মতো মেয়ে ক্রিকেটারদেরও যে সমান চোখে দেখা হয় না সেটা বুঝিয়ে দিয়ে মিতালি বলেছেন, ‘‘আমাদের তো টিভিতে নিয়মিত দেখানো হয় না, তাই অনেক পার্থক্য রয়েছে। বিসিসিআই উদ্যোগ নিয়েছিল শেষ দুটো হোম সিরিজ যাতে টিভিতে দেখানো হয়, সোশ্যাল মিডিয়াতেও এখন এ ব্যাপারে অনেক ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার যায়। তবে মেয়েদের ক্রীকেটে স্বীকৃতি পাওয়ার জায়গা থেকে এখনও অনেক পার্থক্য রয়ে গিয়েছে।’’ মিতালির এই পাল্টা প্রশ্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলে দেয়। অনেকেই ভারতের ক্যাপ্টেনের প্রশংসা করেন।

আরও পড়ুন: কোচ-ক্যাপ্টেন বেসুরে বাজলে কী হয় অতীতেও দেখেছে টিম ইন্ডিয়া

লিঙ্গবৈষ্যমের সঙ্গে লড়াই করার কথা শুক্রবারই সামনে আনলেন আবার সানিয়া মির্জা। প্রাক্তন বিশ্বসেরা ডাবলস খেলোয়াড় এ দিন বিবৃতিতে বলেন, ‘‘লিঙ্গবৈষম্যের ব্যাপারটা গোটা বিশ্বজুড়েই রয়েছে। মেয়েদের বিশ্ব টেনিস সংস্থা (ডাব্লিউটিএ)-তেও আমাদের পুরুষদের সমান পুরস্কার অর্থ পাওয়ার জন্য এখনও লড়াই করে যেতে হচ্ছে। ২০১৫ সালে উইম্বলডন জেতার পরে দেশে ফিরে আমায় প্রশ্ন শুনতে হয়েছিল কবে আমি ছেলেপুলে নিয়ে ঘরসংসার করার কথা ভাবছি। যেহেতু আমার বিয়ের পাঁচ বছর হয়ে গিয়েছে।’’

সঙ্গে সানিয়া যোগ করেছেন, ‘‘বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরেও আমার জীবন যে পরিপূর্ণ সেটা ভাবা হয়নি। এটাই আমার কাছে লিঙ্গবৈষম্যের চরম রূপ।’’

তাঁর বাবা-মার কাছে যে এ রকম প্রশ্নের মুখে কোনওদিন পড়েননি সেটাও জানিয়েছেন প্রাক্তন বিশ্বসেরা টেনিস তারকা, ‘‘আমার বাবা-মা কখনও আমায় বলেনি যে আমি হয়তো জীবনে কিছুই করতে পারব না, কারণ আমি এক জন মেয়ে। তাই আমি স্বপ্নপূরণ করতে পারব না।’’

বাবা ইমরান মির্জার সঙ্গে সচেতনতা বাড়াতে এ বিষয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন সানিয়া। বলিউ়ের বিখ্যাত পরিচালক এবং অভিনেতা ফারহান আখতারের উদ্যোগে লিঙ্গবৈষম্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতেই ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়েছে।

শুধু সানিয়াই নন তাঁর বাবা ইমরানও এ ব্যাপারে মন্তব্য করেছেন। মেয়ের পাশে দাঁড়িয়ে ভিডিওটিতে তিনি বলেছেন, ‘‘আমাদের বিয়ের তিরিশ বছরে কোনও দিন ছেলে হয়নি বলে কোনও দুঃখ অনুভব করিনি। আমাদের মেয়েরা কারও চেয়ে কম বা আমাদের ছেলে সন্তান চাই এ ব্যাপারটা মাথায় কখনও আসেনি।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন