এশিয়াডে সোনা জিতে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেওয়ার পরে এ বার জুনিয়র বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ শুটিংয়েও সোনা জিতে হইচই ফেলে দিল ১৬ বছরের সৌরভ চৌধুরি। ১০ মিটার এয়ার পিস্তলে নজির গড়ে সোনা জিতল সৌরভ। 

গত মাসেই এশিয়ান গেমসে সোনা জিতেছিল মেরঠের কৃষকপুত্র সৌরভ। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার চাপ সামলে নিজেকে ঠাণ্ডা রেখে সবাইকে পিছনে ফেলে দেয় সে। এ বার দক্ষিণ কোরিয়ার চাংওয়ানে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপেও সেটাই করল দেশের এই নতুন তারকা ক্রীড়াবিদ। ৫৮১ স্কোর করে প্রথমে ফাইনালে যোগ্যতা অর্জন করে সে। ফাইনালে নিজেরই রেকর্ড ভেঙে ২৪৫.৫ স্কোর করে সোনা জিতে নেয়। জুনে জুনিয়র বিশ্বকাপে ১০ মিটার এয়ার পিস্তলে যে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিল সৌরভ। বৃহস্পতিবার সেই রেকর্ড ভেঙে দেয় সে। এ দিন চূড়ান্ত রাউন্ডে দশে দশ করতে না পারলেও বিশ্বরেকর্ড গড়ে ফেলে সৌরভ। প্রতিদ্বন্দ্বী কোরিয়ার হজিন লিমের চেয়ে তিন পয়েন্ট বেশি স্কোর করে সে। এর ফলেই সোনার দৌড়ে সবার আগে চলে যায়। দেশের এই নতুন তরুণ তারকা শুটার অসাধারণ সাফল্য দিয়ে সবাইকে চমকে দিলেও সিনিয়ররা কিন্তু হতাশ করেন তাঁদের বিশ্বকাপে। 

এশিয়াডে ব্রোঞ্জজয়ী অভিষেক ভার্মা ১০ মিটার এয়ার পিস্তলের ফাইনালে যোগ্যতা অর্জন করলেও তিনি ফাইনালে অষ্টম স্থান পান। মেয়েদের বিভাগে দশ মিটার এয়ার পিস্তলে অঞ্জুম মুদগিল ও অপূর্বি চান্ডেলা যথাক্রমে রুপো জিতে ও চতুর্থ হয়ে অলিম্পিক্সের কোটা সুরক্ষিত করেছেন অবশ্য। সিনিয়র পুরুষ শুটাররা ব্যক্তিগত বিভাগে ভাল ফল করতে না পারলেও দলগত বিভাগে তাঁরা সোনা পেয়েছেন ১০ মিটার এয়ার পিস্তলে। 

সৌরভদের ইভেন্টে ব্রোঞ্জ জেতে অর্জুন সিংহ চিমা। আর তারা দলগত বিভাগে রুপো জেতে। ছোটবেলায় মেলাতে বেলুন ফাটানো দিয়ে যার বন্দুক চালানো শুরু, সেই সৌরভ মাত্র ১৬ বছর বয়সেই নিজেকে বিশ্বসেরা বন্দুকবাদ প্রমাণ করে স্বাভাবিক ভাবেই খুশি। পর পর  জীবনের দু’টি সেরা খেতাব অর্জন করার পর তাঁর আত্মবিশ্বাসও তু‌ঙ্গে। বলেন, ‘‘এশিয়াডের পরে এ বার জুনিয়র বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের খেতাব আমাকে প্রচুর আত্মবিশ্বাস জোগাবে। এটা ভবিষ্যতে কাজে লাগবে আমার।’’ 

সৌরভের বাবা জগমোহন সিংহর ২০ একর আখ চাষের জমি রয়েছে, যার লাগোয়া জমিতে ছেলেকে তিনি একটা শুটিং রেঞ্জ বানিয়ে দিয়েছিলেন। সেই রেঞ্জেই অনুশীলন করে করে শুটিংয়ের দক্ষতায় শান দেয় সৌরভ। এ ছাড়াও হরিয়ানার বাঘপতে জাতীয় স্তরের শুটার অমিত শেওরনের অ্যাকাডেমিতে নিয়মিত তালিম নিত সে। যা মেরঠে সৌরভদের কালিনা গ্রাম থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে। এশিয়াডে সোনা জেতার পরে সৌরভ বলেছিল, ‘‘আমার কোনও চাপ ছিল না। আমি এখানে আমার সেরাটা দিতে এসেছি। প্রচুর অনুশীলন করেছি। ভাল ফর্মে আছি। মনেই হয়েছিল ভাল কিছু করতে পারি।’’ এশিয়াডের সেই পদক জয়ের পরে আরও ভাল ফর্মে চলে আসে সে। যার ফল এই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ জয়। যা দেখে অলিম্পিক্স পদকজয়ী শুটার অভিনব বিন্দ্রাও টুইট করে প্রশংসা করেন।