কে থামাবে সেরেনা উইলিয়ামসকে?

শনিবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ফাইনালে মারিয়া শারাপোভা আরও একবার টের পেল, এ তার কম্মো নয়।

বিশ্বের সেরা দুই মহিলা টেনিস তারকার লড়াই ৬-৩, ৭-৬-এ শেষ হওয়ার পর একটা কথা বারবার মনে হচ্ছে। শনিবার ১৯তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতে ক্রিস এভার্ট আর মার্টিনা নাভ্রাতিলোভাকে পিছনে ফেলে দিল সেরেনা। এ বার সামনে শুধু স্টেফি গ্রাফ। বাকি তিনটে গ্র্যান্ড স্ল্যাম খেতাব জিতে এই বছরই স্টেফিকে ও ধরে ফেললে মোটেই অবাক হব না। কিন্তু তারপরেও মনে হচ্ছে, সেরেনাকে কি সর্বকালের সেরা বলা যাবে?

তেত্রিশ বছর বয়সেও এই দাপট! অবিশ্বাস্য। তাও শুনলাম, গত এক সপ্তাহ ধরে জ্বর-সর্দি-কাশিতে ভুগছিল। শনিবারও ফাইনালে নামে অসুস্থতা নিয়েই। খেলার মাঝখানে যখন বৃষ্টি নামে এবং স্টেডিয়ামের ছাদ বন্ধ করার সময় দশ মিনিট খেলা বন্ধ ছিল, তখন নাকি লকার রুমে গিয়ে বমিও করে। অথচ ফিরে এসে পরপর ছ’টা পয়েন্ট জিতে নিল। মনে রাখবেন, উল্টোদিকে কিন্তু মারিয়া শারাপোভা। সত্যিকারের চ্যাম্পিয়নরা এ রকমই হয়। মাঝে মাঝে নিজের শরীরের বাধাও মানে না। মনের উপর এতটাই নিয়ন্ত্রণ। সেরেনার যে এই ব্যাপারে বিশেষ সুনাম আছে, তা সার্কিটের প্রায় সবারই জানা। এ দিন তার প্রমাণ আর একবার দিল।

এভার্ট, নাভ্রাতিলোভাদের পিছনে ফেলে দিয়ে এ বার স্টেফির ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে সেরেনা। স্টেফিকেও টপকে যাবে। সে দিন ওকে নিশ্চয়ই সারা টেনিসবিশ্ব এক কথায় সর্বকালের সেরা আখ্যা দেবে। কিন্তু সেরার এই বিশ্লেষণটা অত সোজা নয় বোধহয়।

সেরেনা বনাম শারাপোভা আর স্টেফি বনাম নাভ্রাতিলোভা আমাকে যদি কেউ পাশাপাশি দুটো ম্যাচের ভিডিও ফেলে দিয়ে বলে যে কোনও একটা দেখতে, তা হলে আমি নিঃসন্দেহে পরেরটাই দেখতে চাইব। কারণ, সেই টেনিসের সৌন্দর্য, শিল্প এখনকার এই যুগের টেনিসের মধ্যে কোথায়? উইলিয়ামস বোনেরা মহিলাদের টেনিসে যে পাওয়ারের আমদানি করেছে, সেটাই এখন সর্বজনগ্রাহ্য। আন্তর্জাতিক সার্কিটে এখন এই টেনিসই সমাদৃত। কিন্তু আমার মতো বহু টেনিস অনুরাগী রয়েছেন, যাঁরা কোর্টে শৈল্পিক টেনিস দেখতেই বেশি পছন্দ করেন। তখনকার তারকাদের সেই অলরাউন্ড পারফরম্যান্স এখনও অনেকে ভোলেননি। এখন কোর্টে নেমে ‘সার্ভ অ্যান্ড উইন’-ই প্লেয়ারদের মূলমন্ত্র। আমার মতো আদ্দিকালের লোকেদের যেটা দেখতে তেমন ভাল লাগে না। 

আসলে গত দু’দশকে টেনিসটা এত পাল্টে গিয়েছে যে, কুড়ি বছর আগের প্লেয়ারদের আর এখনকার প্লেয়ারদের মধ্যে অনেক তফাত্‌। তাই ভাল-মন্দের বিচার করতে গেলে অনেকগুলো ফ্যাক্টর সামনে এনে তবেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এখনকার টেনিসে ফিটনেস ও টেকনিকে উন্নতির জন্য যে সব আধুনিক পদ্ধতি এসে গিয়েছে, তা স্টেফি-মার্টিনা-এভার্টরা আর পেয়েছে কোথায়? তবু তো নিজেদের সাফল্যের শিখরে রেখে গিয়েছে।

আধুনিক টেনিস বিশেষজ্ঞরা নিশ্চয়ই বলবেন, এখন পাওয়ার টেনিসে সাফল্যের রাস্তায় এগিয়ে যাওয়াটা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। এখন ফিটনেস ও স্কিলে এক চুল পার্থক্য হয়ে গেলেও ফলাফলে তার বড় প্রভাব পড়ছে। এই যুক্তিটাও অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই। সেরেনার মতো চ্যাম্পিয়নরা টেনিসের ইতিহাসে সত্যিই বিরল। সব দিক বিচার করে তাই বলব, পরিসংখ্যান সেরেনাকে সর্বকালের সেরা করে তুললেও ওকে শ্রেষ্ঠ বলা যাবে কি না জানি না। আমার কাছে ও অন্যতম সেরা।

 

স্টেফি গ্রাফ

গ্র্যান্ড স্ল্যাম ২২ অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ৪, ফরাসি ওপেন ৬, উইম্বলডন ৭, যুক্তরাষ্ট্র ওপেন ৫

সেরেনা উইলিয়ামস

গ্র্যান্ড স্ল্যাম ১৯ অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ৬, ফরাসি ওপেন ২, উইম্বলডন ৫, যুক্তরাষ্ট্র ওপেন ৬

মার্টিনা নাভ্রাতিলোভা

গ্র্যান্ড স্ল্যাম ১৮ অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ৩, ফরাসি ওপেন ২, উইম্বলডন ৯, যুক্তরাষ্ট্র ওপেন ৪