প্রথম তিরিশ মিনিটেই চার গোল! রবিবার এতিহাদ স্টেডিয়ামে ম্যাঞ্চেস্টার সিটির একতরফা ঝড়ে হারিয়ে গেল চেলসি।

শনিবার সাংবাদিক সম্মেলনে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন পেপ গুয়ার্দিওলা। ম্যান সিটি ম্যানেজারের বক্তব্য ছিল, খেতাব ফের জিততে হলে বাকি সমস্ত ম্যাচ খেলতে হবে ‘ফাইনাল’ ধরে নিয়ে। তারই সঙ্গে ম্যাচে যে কোনও সুযোগকে গোলে পরিণত করতে হবে। রবিবার সেই ছবিই দেখল এতিহাদ স্টেডিয়াম। সের্খিও আগুয়েরো উপহার দিলেন ঝলমলে হ্যাটট্রিক। প্রিমিয়ার লিগে এই নিয়ে এগারো বার হ্যাটট্রিক করে আর্জেন্টিনীয় স্টাইকার ধরে ফেললেন প্রাক্তন ইংল্যান্ড তারকা অ্যালান শিয়ারারকে। ম্যাচের পর হ্যাটট্রিকের স্মারক বলও তিনি নিয়ে নেন রেফারির হাত থেকে। ম্যান সিটির আগ্রাসন দেখে রোমাঞ্চিত প্রাক্তন ইংল্যান্ড তারকা গ্যারি লিনেকার টুইট করলেন, ‘‘এই ভয়ঙ্কর ম্যান সিটির হাত থেকে কেউ লিগ ছিনিয়ে যেতে পারবে বলে মনে হয় না। আমার বিশ্বাস, শেষ হাসি এবারও গুয়ার্দিওলাই হাসবে।’’

লিয়োনেল মেসিদের প্রাক্তন গুরুর মুখে তৃপ্তির হাসি শেষ পর্যন্ত ফুটবে কি না, তার জবাব দেবে ভবিষ্যৎ। তবে রবিবার চেলসির বিরুদ্ধে ম্যাচের প্রথম মিনিট  থেকে আক্রমণের যে ঢেউ তুলেছিলেন আগুয়েরোরা, তার সামনে সামান্য প্রতিরোধ গড়ে তোলার ক্ষমতা ছিল না মাউরিসিয়ো সাররির দলের ফুটবলারদের। চার মিনিটেই দলকে এগিয়ে দেন রাহিম স্টার্লিং (যিনি নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ৮০ মিনিটে)। তার পরে আর চেলসিকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ১৩ এবং ১৯ মিনিটে জোড়া গোল আগুয়েরোর। কাঙ্ক্ষিত হ্যাটট্রিক আসে ৫৬ মিনিটে পেনাল্টি থেকে। বাকি গোল ইকে গুন্দোয়ানের। ম্যান সিটিকে পাল্টা চাপে রাখতে রবিবারের ম্যাচে চেলসি ম্যানেজার সাররি প্রথম একাদশে রেখেছিলেন গঞ্জালো হিগুয়াইনকে। কিন্তু ম্যাচে তিনি অসহায় দৃষ্টিতে দেখলেন আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে তাঁরই সতীর্থ আগুয়েরোর হুঙ্কার।

পরিসংখ্যান বলছে, রবিবারের ম্যাচে ম্যান সিটির বল দখল ছিল ৫২ শতাংশ। পুরো ম্যাচে আগুয়েরোরা নিজেদের মধ্যে খেলেছেন ৪৮৩ পাস। প্রতিপক্ষের গোল লক্ষ্য করে ম্যান সিটি শট নিয়েছে ১১টি। তার মধ্যে গোল পাঁচটি। ম্যাচের পর গুয়ার্দিওলা বলেছেন, ‘‘সুন্দর ফুটবল উপহার দিতে আমরা দায়বদ্ধ। আগুয়েরোরা সেটাই করেছে।’’