কলকাতার টাউন ক্লাবের হয়ে দশ বছর আগেও সিএবি-র প্রথম ডিভিশন লিগে খেলে গিয়েছেন। বাংলার হয়ে খেলার ইচ্ছেই তাঁকে নিয়ে এসেছিল কলকাতায়। ভারতের হয়ে টেস্ট অভিষেক হওয়ার পরেও সেই শহরের প্রতি তাঁর প্রেম রয়ে গিয়েছে। তাই স্ত্রী ও পাঁচ মাসের সন্তানকে নিয়ে আলিপুরের ফ্ল্যাটে বসবাস করেন শাহবাজ় নাদিম। 

গত শুক্রবার দুপুরে কলকাতার ফ্ল্যাটে বিশ্রাম করছিলেন শাহবাজ়। হঠাৎই তাঁর ফোন বেজে ওঠে। অন্য দিক থেকে এক জন বলে ওঠেন (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক), ‘‘ব্যাগ গুছিয়ে দ্রুত রাঁচী চলে এসো। তৃতীয় টেস্ট দলে তোমাকে রাখা হয়েছে।’’ নাদিম ভেবেছিলেন, প্রথম একাদশে হয়তো তিনি থাকবেন না। কিন্তু শনিবার সকালে পুরো ছবিটাই পাল্টে যায়। ম্যাচ শুরু হওয়ার এক ঘণ্টা আগে অধিনায়ক বিরাট কোহালি তাঁকে জানিয়ে দেন, তৃতীয় স্পিনার হিসেবে প্রথম একাদশে তিনি রয়েছেন। সেই মুহূর্তের অনুভূতি কী রকম? বুধবার আনন্দবাজারকে ফোনে নাদিম বলেন, ‘‘সামান্য ভয় পেয়েছিলাম। আনন্দও হয়েছিল। এত দিন যে লক্ষ্য নিয়ে অনুশীলন করেছি, সেটা পূরণ করার সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলাম। তা ছাড়া রাঁচীর জেএসসিএ স্টেডিয়াম আমার ঘরের মাঠ। সেখানে অভিষেক হওয়ার অনুভূতি বলে বোঝানো যাবে না।’’

প্রথম বল করার আগে স্নায়ুর চাপ অনুভব করেননি? নাদিমের স্বীকারোক্তি, ‘‘অবশ্যই। কিন্তু প্রথম ওভার বল করতে যাওয়ার আগে বিরাট মনে করিয়ে দেয়, তোর ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে চারশোর বেশি উইকেট নিয়ে এখানে এসেছিস। ওখানে যে রকম বল করেছিস, এখানেও সে ভাবেই করবি।’’ 

অধিনায়কের কথা মতোই টেস্ট যাত্রা শুরু হয় নাদিমের দু’টি মেডেন ওভার দিয়ে। ম্যাচের শেষে তাঁর নামের পাশে চার উইকেট। শেষ দিনের দু’টি উইকেটই পেয়েছিলেন নাদিম। ঘটনাচক্রে সে দিনই মাঠে এসেছিলেন প্রাক্তন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিংহ ধোনি। ঝাড়খণ্ডের হয়ে দু’জনে একাধিক ম্যাচে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ৩০ বছর বয়সি বাঁ-হাতি স্পিনারকে চোখের সামনে তৈরি হতে দেখেছেন বিশ্বকাপজয়ী প্রাক্তন অধিনায়ক। ম্যাচ শেষে ভারতীয় ড্রেসিংরুমের সামনে দাঁড়িয়ে বেশ কিছু ক্ষণ নাদিমের সঙ্গে কথা বলতেও দেখা যায় ধোনিকে। সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। নাদিমকে কী বললেন তাঁর ‘মাহিভাই’? বাঁ-হাতি স্পিনারের গলায় তখন উচ্ছ্বাসের সুর। বললেন, ‘‘মাহিভাই আমার পারফরম্যান্সে খুশি। এটাই চেয়েছিলাম। তবে ও বলে দিয়েছে, এটাই শুরু। এখান থেকে ফিরে তাকানো যাবে না।’’ আর কিছু বলেননি? ‘‘হ্যাঁ। বলছিল, ‘প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিয়মিত খেলার অভিজ্ঞতা তোর বোলিংয়ে ফুটে উঠেছে। আগের চেয়ে অনেক পরিণত দেখিয়েছে তোকে।’ মাহিভাইয়ের এই কথাগুলোই আমার আগামী দিনের অনুপ্রেরণা,’’ বলে দিলেন নাদিম।