বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হওয়ার আগেই হাসপাতালে ছুটতে হয়েছিল তাঁকে। কিডনিতে পাথর হয়েছে জানার পরে। দু’বছর আগের রিয়ো অলিম্পিক্সের পরে এই প্রথম কোনও প্রতিযোগিতায় নামলেন তিনি। তারই মাঝে বিস্ফোরক বিবৃতি দিয়েছিলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জিমন্যাস্ট দলের কোচের হাতে যৌন নিগ্রহের শিকার হয়েছিলেন। 

কিন্তু যাবতীয় প্রতিকূলতা দূরে ঠেলে আরও এক বার বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট জিতে নিলেন সিমোনে বাইলস। শুধু জেতা নয়, একই সঙ্গে দোহায় বিশ্বরেকর্ডও করলেন এই মার্কিন জিমন্যাস্ট। এই নিয়ে টানা চার বার অলরাউন্ড জিমন্যাস্টিকসে বিশ্ব চ্যাম্পিয়শিপে সেরার ট্রফি জিতলেন বাইলস। যে কৃতিত্ব এর আগে কোনও মহিলা জিমন্যাস্ট দেখাতে পারেননি। 

অলিম্পিক্সের পরে সময়টা খুব একটা ভাল যায়নি সর্বকালের অন্যতম সেরা এই জিমন্যাস্টের। তাঁর নিগ্রহের কথা তুলে ধরেছিলেন সবার সামনে। তার পরে বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ শুরুর আগে শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হন। যে কারণেই বাইলস বলছেন, ‘‘এ বারে একটা ভয়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলাম। যে কারণে এই সোনাটা অন্যন্য বারের চেয়ে আলাদা।’’ 

তবে চ্যাম্পিয়ন হলেও বাইলস কিন্তু বেশ কিছু ভুল করেন। যেমন, ব্যালান্স বিম এবং ভল্টের সময় তিনি ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। ফ্লোরেও সমস্যায় পড়ে যান তিনি। কিন্তু তা সত্ত্বেও ২১ বছরের এই জিমন্যাস্ট  স্কোর করেন ৫৭.৪৯১। যা সোনা এনে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট ছিল। 

বাইলস পরে টুইট করেন, ‘‘কাউকে যদি চমকে দিয়ে থাকি, তা হলে দুঃখিত।’’ অনেককেই অবশ্য চমকে দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে কিডনিতে পাথর নিয়ে যে ভাবে লড়াই করেছেন তিনি, তা চমকে দেওয়ার মতোই। বাইলস অবশ্য বলেছেন, ‘‘আমার কিডনি নিয়ে বিশেষ সমস্যা ছিল না। বড় সমস্যা থাকলে আমি নিজেই সরে দাঁড়াতাম প্রতিযোগিতা থেকে।’’