শুরুটা ভাল করা সত্ত্বেও মাঝে দুটো ম্যাচ হেরে যে চাপের মুখে পড়েছিল ভারত, সেই চাপ কাটাতে খুব একটা কষ্ট করতে হয়নি তাদের। চাপ সামলে নিউজিল্যান্ডকে ৭৯ রানে শেষ করে দিয়ে সেমিফাইনালে উঠে পড়েন মিতালি রাজরা। ওই জয়ের পরই মিতালিদের শিবিরে এই বিশ্বাস ঢুকে পড়েছে যে, অস্ট্রেলিয়াও অপ্রতিরোধ্য নয়। ওদেরও হারানো যায়। বুধবার সেটাই বলে দিলেন অধিনায়ক। 

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নামার চব্বিশ ঘণ্টা আগে ভারতীয় অধিনায়ক যখন বললেন, ‘‘ডার্বিতে চারটে ম্যাচ খেলার পর এখানকার কন্ডিশন আমাদের বেশ চেনা হয়ে গিয়েছে। এটা কাল আমাদের পক্ষে সুবিধাজনক হয়ে উঠতে পারে’’, তখনই মিতালিদের আত্মবিশ্বাসের কারণটা আন্দাজ করা যায়।

তবে সে জন্য যে তাঁদের নিজেদের সেরাটুকু উজাড় করে দিতে হবে, সেই বাস্তব সত্যিটাও ভুলে যেতে চান না ভারত অধিনায়ক। বললেন, ‘‘ভারতীয় ক্যাপ্টেন বলছেন, অস্ট্রেলিয়া যথেষ্ট ভাল দল। ওরা গতবারের চ্যাম্পিয়ন। ওদের দলে এমন অনেক ক্রিকেটার রয়েছে যাদের চাপের ম্যাচে খেলার অভ্যাস রয়েছে। কিন্তু গত কয়েক দিনে আমরা যে চাপ নিয়েছি, তাও কম নয়। প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা ঠিকঠাক করে যদি তা ঠিকমতো কার্যকর করতে পারি আমরা, তা হলে আমাদের না জেতার কোনও কারণ দেখছি না।’’

সেমিফাইনালে আজ ভারতের অস্ত্র যে তিন তারকা।

আত্মবিশ্বাস, চেনা মাঠ— সে সব তো ঠিকই আছে। কিন্তু বিপক্ষ অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে দ্বৈরথের যে ইতিহাসটা, সেটা যে মোটেই ভারতের পক্ষে নেই। মেয়েদের ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ভারত এ পর্যন্ত মোট আটবার জিতেছে। কিন্তু মোট ৪২ বারের মুখোমুখিতে। অস্ট্রেলিয়া যে ভারতের কাছে বড় ‘হার্ডল’, এই হিসেবেই সেটা স্পষ্ট।

এই বিশ্বকাপেও তো তার কোনও ব্যতিক্রম হয়নি। কয়েক দিন আগেই মিতালিদের অনায়াসে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু এ বার তার বদলা চান পুণম, ঝুলন, শিখা, দীপ্তি, স্মৃতিরা। শুরুটা ভাল করার পরও বড় টিমের বিরুদ্ধে ভারত হোঁচট খেয়েছে। কিন্তু নিউজিল্যান্ডকে অনায়াসে হারিয়ে ফের লড়াইয়ে ফিরেওছে তারা। তবে মাটিতে পা রাখতে চান মিতালি। তাই বলে দিলেন, ‘‘এই ম্যাচটা জিতলে আমরা একটা ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটিয়ে ফেলতে পারব’’।

 ভরসা ১: দুর্দান্ত ফর্মে আছেন ভারতীয় অধিনায়ক মিতালি রাজ। চলতি বিশ্বকাপে তিনটে হাফ সেঞ্চুরি ও একটা সেঞ্চুরি করেছেন। চাপের ম্যাচে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। 
অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে: ওয়ান ডে ৩০ রান ৮৯৬ গড় ৩৪.৪৬ সেঞ্চুরি২ হাফ সেঞ্চুরি ৭ স্ট্রাইক রেট ৬৩। 
এই বিশ্বকাপে: ম্যাচ ৭ রান ৩৫৬ সর্বোচ্চ ১০৯ গড় ৫০.৮৫ স্ট্রাইক রেট ৭২.৫০ সেঞ্চুরি ১ হাফ সেঞ্চুরি ৩। 
 ভরসা ২: প্রথম দুই ম্যাচে ৯০ ও অপরাজিত ১০৬ করে দুর্দান্ত শুরু করেছিলেন স্মৃতি মানধানা। তুলনা হচ্ছিল বীরেন্দ্র সহবাগের সঙ্গে। শুরুতে অস্ট্রেলীয় বোলিংকে আক্রমণ করার সেরা বাজি।  
অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে: ওয়ান ডে ৩ রান ১৬০ গড় ৫৩.৩৩ সেঞ্চুরি ১ হাফ সেঞ্চুরি ১ স্ট্রাইক রেট ৯৩.৫। 
এই বিশ্বকাপে: ম্যাচ ৭ রান ২২৬ সর্বোচ্চ ১০৬ গড় ৩৭.৬৬। 
 ভরসা ৩: শুরুতে ভাল ফর্মে না থাকলেও ছন্দে ফিরছেন  বাংলার পেসার ঝুলন গোস্বামী। মেয়েদের ওয়ান ডে-তে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির অভিজ্ঞতা বড়  সম্পদ।
অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে: ওয়ান ডে ২৮, উইকেট ২৪, ইকনমি ৩.৭৮। 
এই বিশ্বকাপে: ৭ ম্যাচ, ৪৬.১ ওভার, ২০৮ রান, ৫ উইকেট, সেরা বোলিং ২-২৬, ব্যাটিং- ৪ ইনিংসে ৬৮ রান।

নিজেদের আন্ডারডগ ধরে নিয়েই কি অঘটন ঘটানোর উদ্দেশে নামছেন তাঁরা? সে রকম হওয়াই স্বাভাবিক। মিতালি নিজে যেমন সেরা ফর্মে রয়েছেন। ধারাবাহিক ভাবে রান পেয়ে চলেছেন, তেমন ধারাবাহিক কিন্তু অন্যেরা নেই। স্মৃতি মানধানা প্রথম দুই ম্যাচে জ্বলে উঠেও পরবর্তী ম্যাচগুলোতে রান পাননি। পুনম রাউতও ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ভাল ব্যাটিং করলেও অন্য ম্যাচগুলোতে তেমন রান পাননি। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ঝলসে উঠেছেন বেদা কৃষ্ণমূর্তি। মিতালি ছাড়া ভারতীয় দলে ধারাবাহিক ভাবে রান পেয়ে যাওয়া ব্যাটসম্যানের এই অভাবই তাদের ভোগাতে পারে সেমিফাইনালেও। সেই জন্যই তিনি বলেন, ‘‘অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে গেলে আমাদের কাল সবাইকে সেরা পারফরম্যান্সটা দিতে হবে।’’

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে যে ব্যাপারটা দেখা গিয়েছিল, সেই ইংল্যান্ডের মাঠে পেস সহায়ক উইকেটের অভাবটা মেয়েদের বিশ্বকাপেও দেখা যাচ্ছে। যার ফলে ভারতীয় দলের স্পিনাররাই এ পর্যন্ত বেশি সফল। ঝুলন গোস্বামী, শিখা পাণ্ডেদের চেয়ে একতা বিস্ত, দীপ্তি শর্মা, রাজেশ্বরী গায়কোয়াড়রা বেশি উইকেট পেয়েছেন। সেমিফাইনালে এ বার কী হয়, সেটাই দেখতে চায় ক্রিকেটবিশ্ব।