বিশ্বকাপের আগে ভারতীয় ক্রিকেটে সব চেয়ে আলোচিত প্রশ্ন ছিল, চার নম্বরে ব্যাট করবে কে? বিশ্বকাপের পরে সেই প্রশ্ন এখন হয়ে দাঁড়িয়েছে, রোহিত শর্মাকে কি টেস্টেও ওপেন করানো উচিত?

এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে আমি এক জন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটারের নাম করতে চাই। যার রাস্তায় রোহিতকে হাঁটতে দেখলে আমি অবাক হব না। সেই প্রাক্তন ক্রিকেটারের নাম— বীরেন্দ্র সহবাগ।

সহবাগও মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা শুরু করেছিল। তার পরে ওপেনার হয়ে যায়। বাকিটা তো ইতিহাস। সহবাগের যখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে, তখন আমি অন্যতম জাতীয় নির্বাচক। আমরা ওকে ভেবেছিলাম মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবেই। সত্যি কথা বলছি, আমরা, নির্বাচকেরা কখনও ভাবিইনি সহবাগ ওপেনার হিসেবে খেলতে পারে। ওকে ওপেনার বানানোর কৃতিত্ব একমাত্র অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের।

ওই সময় ভারতীয় মিডল অর্ডারে জায়গা পাওয়া খুবই কঠিন ছিল। তিন থেকে ছয়ে নামত রাহুল দ্রাবিড়, সচিন তেন্ডুলকর, সৌরভ এবং ভিভিএস লক্ষ্মণ। জীবনের প্রথম টেস্টে সহবাগ অবশ্য ছয় নম্বরে ব্যাট করেছিল। কারণ সেই টেস্টে দ্রাবিড় ওপেন করেছিল। এর পরে দ্রাবিড় আবার মিডল অর্ডারে চলে আসে। অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি পাওয়ার পরেও সহবাগকে মিডল অর্ডারে জায়গা করে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছিল। ওকে সাত নম্বরে ব্যাট করতে হচ্ছিল। সে সময় সৌরভই ঠিক করে, ওপেনে একটা সুযোগ দেবে। তার আগে নির্বাচকদের সঙ্গেও এই নিয়ে কোনও কথা হয়নি। যত দূর জানি, লর্ডস টেস্টের আগে সহবাগের সঙ্গে কথা বলেছিল সৌরভ। তার পরে সহবাগ রাজি হয়ে যায় ওপেন করতে।  ওপেনে নেমে করেছিল ৮৪ রান। 

এ বার আসি রোহিত প্রসঙ্গে। বিশ্বকাপে পাঁচটা সেঞ্চুরি করার পরেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে টেস্ট দলে ওর জায়গা হয়নি। মানছি, সহবাগের আমলের মতো ভারী নাম হয়তো এখন মিডল অর্ডারে নেই, কিন্তু তা সত্ত্বেও রোহিতকে জায়গা করে দেওয়া যাচ্ছে না। তার উপরে হনুমা বিহারী ছ’নম্বরে ভাল খেলে দেওয়ায় ব্যাপারটা আরও জটিল হয়ে গিয়েছে।

আমি যা দেখছি, তাতে রোহিতের জন্য একটা জায়গাই ফাঁকা আছে। কে এল রাহুলের বদলে অন্যতম ওপেনার হতে পারে রোহিত। এখন প্রশ্ন হল, রোহিত কি ওপেনে নেমে সফল হতে পারবে? আমি বলব, অবশ্যই পারবে। রোহিতের ব্যাকফুট প্লে খুব ভাল। শর্ট পিচ বল দারুণ সামলায়। ওর মতো পুল বিশ্ব ক্রিকেটে খুব কম ব্যাটসম্যানই মারতে পারে। রান তোলার জন্য সব রকম শট আছে হাতে। প্রথম ১০-১৫ ওভার যদি রোহিত খেলে দেয়, তা হলে কিন্তু ও বিপক্ষের আতঙ্ক হয়ে উঠবে। ঠিক যেমন সহবাগ হত। 

সহবাগ যে দিন খেলত, সে দিন ভারত অনায়সে টেস্টের এক দিনে ৩০০-৩৫০ রান তুলে দিত। যার ফলে বোলারদের হাতে অনেক সময় থাকত বিপক্ষকে দু’বার আউট করার। রোহিতও যদি নিজের ছন্দে খেলতে পারে, তা হলে কোহালির বোলাররাও হাতে অনেক সময় পাবে। যে ছেলেটা ওয়ান ডে ক্রিকেটে তিনটে ডাবল সেঞ্চুরি করতে পারে, সে টেস্টে জমে গেলে কতটা বিধ্বংসী হয়ে উঠবে, এক বার ভাবুন তো। 

রোহিতকে শুধু দু’-একটা ব্যাপারে উন্নতি করতে হবে। যেমন, ফ্রন্টফুট ডিফেন্স আর অফস্টাম্পের ওপর নতুন বলটা ছাড়া। টেস্টে ওপেন করতে গেলে যেটা খুব দরকার। আগেই বলেছি, নতুন বলটা সামলে দিতে পারলে রোহিতকে থামানো খুব কঠিন হবে। 

আমার মতে, আসন্ন দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট সিরিজেই রোহিতকে দিয়ে ওপেন করানো হোক। ভারতে বল অতটা সুইং করবে না। ওপেনার হিসেবে দেশের মাঠে কয়েকটা বড় রানের ইনিংস খেলে দিতে পারলে, রোহিতের আত্মবিশ্বাসও অনেক বেড়ে যাবে। তখন বিদেশেও আর ওপেন করতে সমস্যা হবে না।