সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এলেন। বিনোদ রাই চলে গেলেন। সব প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক বুধবার সরকারি ভাবে বোর্ড প্রেসিডেন্টের মসনদে বসে পড়লেন। বোর্ড প্রেসিডেন্টের চেয়ারে সৌরভ বসায় শেষ হয়ে গেল সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত কমিটি অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটর্স (সিওএ)-এর মেয়াদ। শেষ হল সিওএ-র প্রধান হিসেবে বিনোদ রাইয়ের ৩৩ মাসের মেয়াদও।

এই ৩৩ মাসে ভারতীয় ক্রিকেটের সাদা-কালো দিক দেখা রাই নতুন বোর্ড প্রেসিডেন্টের প্রশংসা করে সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, ‘‘সৌরভের উপরে আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। সিএবি-র প্রশাসক হিসেবে সৌরভকে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে দেখে ওর উপরে শ্রদ্ধা আরও বেড়ে গিয়েছে। ওর মতো বড় মাপের ক্রিকেটার খুব দক্ষ ভাবেই বোর্ড পরিচালনা করবে বলে বিশ্বাস করি। বোর্ড প্রেসিডেন্ট হিসেবে এই মুহূর্তে সৌরভের থেকে ভাল কেউ নেই।’’

সিওএ-র প্রাক্তন চিফ হিসেবে তিনি দেখে যাচ্ছেন, চার জন প্রাক্তন ক্রিকেটার প্রশাসক হিসেবে কাজ করবেন। ৩৩ মাসের কার্যকালকে কী ভাবে ব্যাখ্যা করছেন রাই? তিনি বলেন, ‘‘বোর্ড প্রেসিডেন্ট সৌরভ, আইপিএল চেয়ারম্যান ব্রিজেশ পটেল, অ্যাপেক্স কাউন্সিলে অংশুমান গায়কোয়াড় ও শান্তা রঙ্গাস্বামী— চার প্রাক্তন ক্রিকেটারকে বোর্ড প্রশাসনে দেখে আমার বেশ ভালই লাগছে। আমাদের কার্যকালে প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন তৈরি করতে পেরেছি। মহিলাদের আইপিএল চালু করতে পেরেছি। যদিও তা খুবই ছোট আকারে কিন্তু ম্যাচগুলোর মান বেশ ভাল ছিল। আমরা স্বচ্ছভাবে কাজ করতে পেরেছি।’’

আরও পড়ুন: বিদ্রোহে অনড় শাকিবরা, বরফ গলাতে ভরসা মাশরফি

এ রকম একটা কথা প্রচলিত হয়ে গিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেটে যে, বিরাট কোহালি ও রবি শাস্ত্রীর বাড়বাড়ন্তের পিছনে রয়েছেন রাই। বিতর্কিত প্রশ্নের উত্তরে রাই বলেছেন, ‘‘এ ব্যাপারে অনেক কিছুই বলা যায়। ক্রিকেটীয় ব্যাপারে হেড কোচ এবং অধিনায়ককে যদি ফ্রি হ্যান্ড দেওয়া হয়, তা হলে ক্ষতি কী? দল নির্বাচন এবং ক্রিকেটীয় দিকে আমরা কোনওরকম হস্তক্ষেপ করিনি। আমি নিজের দিক থেকে পরিষ্কার।’’ 

রাই-এর জমানা শেষ। এ বার শুরু সৌরভ-যুগ। গোটা দেশের নজর নতুন বোর্ড প্রেসিডেন্টের দিকে। 

আরও পড়ুন: বোর্ড প্রেসিডেন্ট হলেন সৌরভ, টুইট করল বিসিসিআই