দিন কয়েক পরেই দোহায় উড়ে যাবেন এশিয়ান অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে যোগ দিতে। তার আগে ব্যক্তিগত সমস্যায় জেরবার এশিয়ান গেমসে জোড়া রুপোজয়ী ভারতীয় মহিলা স্প্রিন্টার দ্যুতি চন্দ।

ওড়িশার এই তারকা অ্যাথলিটকে বিয়ে করতে চেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রস্তাব দিয়েছিলেন তাঁর রাজ্যেরই এক ব্যক্তি। দ্যুতির দাবি, সেই প্রস্তাবে তিনি সাড়া দেননি। তার পরেই গত ছয় মাস ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ভাবে তাঁকে উত্যক্ত করা হচ্ছিল। শনিবার রাতে সেই ব্যক্তিই দ্যুতির মোবাইল ফোনে লিঙ্গবৈষম্যমূলক অশালীন মন্তব্য করে হুমকি দেন। যার জেরে রবিবার সকালে অনুশীলন করা হয়নি এই মহিলা স্প্রিন্টারের। 

গোটা ঘটনা পুলিশের কাছে জানিয়েছেন দ্যুতি। তিনি বলছেন, ‘‘গত এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ পেয়েছিলাম ১০০ মিটার ইভেন্টে। এশিয়ান গেমসে ১০০ ও ২০০ মিটারে রুপো পেয়েছি। এ বার দোহা থেকে সোনা জেতার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। এই অশান্তি কার ভাল লাগে?’’

ঠিক কী হয়েছিল তাঁর সঙ্গে? 

রবিবার বিকেলে পাটিয়ালার জাতীয় শিবির থেকে ফোনে দ্যুতি বললেন, ‘‘ধীরেন্দ্রনাথ পিন্টু নামে এক জন বছর খানেক আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। প্রথমে পাত্তা দিইনি। কিন্তু ক্রমাগত বিরক্ত করায় ওই ব্যক্তিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্লক করে দিয়েছিলাম।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘তার পরে এই ব্যক্তি মোবাইলে অশ্লীল বার্তা পাঠাতেন। সেই নম্বরও ব্লক করে দিয়েছিলাম। কিন্তু তার পরে নানা অচেনা নম্বর থেকে বিরক্ত করতেন। শনিবার রাতে মোবাইলে ফের অশ্লীল মন্তব্য করেন ওই ব্যক্তি। বাধ্য হয়ে তাই ব্যবস্থা নিয়েছি।’’ কী ব্যবস্থা নিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘গোটা ঘটনা সকালেই প্রমাণ-সহ জানিয়েছি ওড়িশার রাজ্যসভার সাংসদ অচ্যুৎ সামন্তকে। তিনিই ওড়িশার পুলিশকে অভিযোগ জানিয়েছেন।’’

যাঁর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ সেই ধীরেন্দ্রনাথকে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলছেন, ‘‘মনে হচ্ছে অ্যাকাউন্ট কেউ হ্যাক করে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে।’’ তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, গত ছ’মাস ধরেই কি তাঁর অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছিল? যদি তাই হয়, তা হলে পুলিশে অভিযোগ করেননি কেন? তখন তিনি বলেন, ‘‘আমার পাসওয়ার্ড বন্ধুদের কাছে থাকে। ওরাও এই কাজ করে থাকতে পারে। পুলিশ ডাকলে, দ্যুতি চন্দের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেব।’’

বিতর্ক অবশ্য দ্যুতির জীবনে নতুন নয়। শরীরে পুরুষ হরমোনের আধিক্য থাকায় তাঁকে নির্বাসিত করেছিল আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিক্স সংস্থা। সেই রায়ের বিরুদ্ধে লোসানে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে জিতে ফের মাঠে ফিরেই দেশকে পদক দিয়েছেন তিনি। 

দ্যুতির হয়ে সুইৎজ়ারল্যান্ডে যে মহিলা ক্রীড়া-অধিকাররক্ষা কর্মী লড়েছিলেন সেই পয়োষ্ণী মিত্র লন্ডন থেকে বললেন, ‘‘দ্যুতি আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিক্স সংস্থার বিরুদ্ধে লড়ে জিতেছে। কাজেই এই লড়াইও জিতবে। আপাতত এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে মনোনিবেশ করুক।’’