গলে ৩০৪ রানে হারের পর শ্রীলঙ্কার জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তির খবর এনে দিল কলম্বো। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত তাদের অধিনায়ক দীনেশ চণ্ডীমল সুস্থ হয়ে উঠেছেন এবং কলম্বোয় দ্বিতীয় টেস্টে খেলার জন্য তৈরি। চণ্ডীমলকে এই মুহূর্তে শ্রীলঙ্কার সেরা ব্যাটসম্যান মনে করা হচ্ছে। বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক অর্জুন রণতুঙ্গাও তাঁর উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন।

সম্প্রতি অন্যতম নির্বাচক এবং বিশ্বকাপজয়ী তাঁর দলের অন্যতম তারকা সনৎ জয়সূর্যকেও এক হাত নিয়েছেন রণতুঙ্গা। নির্বাচকেরা চণ্ডীমলকে বাদ দেওয়ায় রণতুঙ্গা তোপ দেগে বলেন, ‘‘দেশের সেরা ব্যাটসম্যান চণ্ডীমল। তাকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে নির্বাচকেরা। সনৎ জয়সূর্যের মনে রাখা উচিত, কেরিয়ারের শুরুর দিকে ওরও দারুণ কিছু পারফরম্যান্স ছিল না। কিন্তু আমরা ওকে সমর্থন করেছিলাম। কারণ আমরা জানতাম, সময় দিলে সনৎ ভাল ব্যাটসম্যান হয়ে উঠবে।’’

মাহেলা জয়বর্ধনে, কুমার সঙ্গকারার পরে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিংয়ের ভবিষ্যৎ মনে করা হচ্ছিল চণ্ডীমল এবং লাহিরু থিরিমানে-কে। দু’জনেই দারুণ প্রতিশ্রুতিমান হিসেবে শুরু করেছিলেন। রণতুঙ্গা বলেছেন, দু’জনকেই নির্বাচকেরা ধ্বংস করে দিচ্ছে। থিরিমানে ইতিমধ্যেই বাদ পড়েছেন। চণ্ডীমলকে এক দিনের দল থেকে বাদ দিয়ে তাঁর আত্মবিশ্বাসেও ধাক্কা দেওয়া হয়েছে।

কলম্বো পৌঁছে জানা গেল, চণ্ডীমলের সঙ্গে থিরিমানে-কেও দ্বিতীয় টেস্টের জন্য ফেরানো হতে পারে। থিরিমানে ভারতের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচে খেলে হাফ সেঞ্চুরিও করেছিলেন। শ্রীলঙ্কার অনভিজ্ঞ ব্যাটিং যে ভাবে গলে দুই ইনিংসেই ভেঙে পড়েছে, তার পর থিরিমানেকে ফেরানোর কথা উঠছে। জয়সূর্যের নেতৃত্বে নির্বাচকেরা শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেন, সেটা দেখার।

তবে চণ্ডীমলকে নিয়ে চিন্তা কমলেও শ্রীলঙ্কার উদ্বেগ চলছে তাদের এক নম্বর স্পিনার রঙ্গনা হেরাথকে নিয়ে। গলে তাঁর বাঁ হাতের আঙুলেই চোট পান হেরাথ। যে কারণে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে পারেননি। তিনি নিজে বলেছেন, পুরনো চোটের জায়গায় ফের লেগেছে। চিড় না ধরলেও বা আঙুল ফুলে না থাকলেও যন্ত্রণা আছে বলে জানিয়েছেন হেরাথ। তাঁকে নিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে রাজি শ্রীলঙ্কার নির্বাচকেরা। তাঁরাও জানেন, হেরাথ খেলতে না পারা মানে সিরিজের আর কিছুই বাকি রইল না।