দ্বিতীয় টেস্টের লড়াইটা শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠেছিল রঙ্গনা হেরাথ বনাম থিউনিস দ্য ব্রুইন। এক দিকে পরপর উইকেট নিচ্ছিলেন হেরাথ। অন্য দিকে দক্ষিণ আফ্রিকাকে লড়াইয়ে রাখার চেষ্টা করছিলেন দ্য ব্রুইন। দ্বিতীয় টেস্টের শেষ দিন শেষ হাসি হাসলেন শ্রীলঙ্কার বাঁ হাতি স্পিনার হেরাথই। যিনি একাই ছ’উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে টানা দ্বিতীয় টেস্ট জেতালেন। শ্রীলঙ্কা জিতল ১৯৯ রানে। আর সিরিজ জিতল ২-০। 

উপমহাদেশের স্পিন-কাঁটার যে কি জ্বালা, তা এই টেস্টে বিঝতে পারলেন ফ্যাফ ডুপ্লেসিরা। তাঁদের কুড়িটি উইকেটই ফেললেন শ্রীলঙ্কার স্পিনাররা। প্রথম ইনিংসে দিলরুয়ান পেরেরা ও আকিলা ধনঞ্জয় দু’জনে মিলে নিয়েছিলেন ৯ উইকেট। আর দ্বিতীয় ইনিমসে হেরাথ একাই নিলেন হাফ ডজন। বাকি দু’জন নিলেন দু’টি করে। দুই টেস্টেই শ্রীলঙ্কার স্পিনারদের ঘূর্ণিতে কাৎ হয়ে গিয়েছেন ডুপ্লেসিরা। এই দুই টেস্টে তাঁদের ৪০টির মধ্যে ৩৭টি উইকেটই নিয়েছেন স্পিনাররা।

প্রথম ইনিংসে ১২৪ রানে অল আউট হয়ে যাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বিতীয় ইনিংসে যেটুকু দাঁড়াতে পারল, তা এই ছ’নম্বর টেস্ট খেলা ২৫ বছর বয়সি মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান ও তাম্বে বাভুমা। ব্রুইনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তিনিও রান তুলে গিয়েছেন দ্বিতীয় ইনিংসে। ক্রিজ আঁকড়ে পড়ে থেকে ৬৩ রান করেন তিনি। তবে দু’জনের পার্টনারষিপ সে ভাবে হয়নি। সেই কারণেই ২৯০-এর বেশি আর এগোতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। শেষ দিন লাঞ্চের একটু পরেই খেলা শেষ করে দেন হেরাথ। দলের ২৮০ রানের মাথায় হেরাথ তাঁর স্টাম্প ছিটকে দিয়ে তাঁদের লড়াই শেষ করে দেন। দ্য ব্রুইন ছাড়াও এ দিন এডেন মারক্রম, হাসিম আমলা, তেম্বা বাভুমা, কুইন্টন ডি কক ও ডেল স্টেনকে ফিরিয়ে দিয়ে তাদের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ডই ভেঙে দেন।

দলকে জেতানোর পরে হেরাথ বলেন, ‘‘বিশ্বের দু’নম্বর দলের বিরুদ্ধে টেস্ট ও সিরিজ জেতার আনন্দই আলাদা। যে মাঠে উইকেট বেশি পাই, সেই মাঠ পছন্দ হবেই। তাই সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব (এসএসসি) আমার প্রিয়। তা ছাড়া গোটা সিরিজেই স্পিনাররা ভাল বল করেছে।’’  

হারের পরে দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ডুপ্লেসি স্বীকার করে নেন, ‘‘আমরা সব বিভাগেই হেরে গিয়েছি। সারা সিরিজে মাত্র তিনটে পঞ্চাশ রানের পার্টনারশিপ হয়েছে আমাদের। এটা মোটেই ভাল নয়। অনেক ভুলও হয়েছে আমাদের। এগুলো শোধরাতে হবে আমাদের। না হলে নিজেদের জায়গা ধরে রাখা কঠিন হবে।’’

অন্য দিকে, এই বিধ্বংসী স্পিনের বিরুদ্ধেও সেঞ্চুরি করে খুশি দক্ষিণ আফ্রিকার নতুন তারকা দ্য ব্রুইন বলেন, ‘‘এখানকার সমুদ্র দেখেই আমার মনে হয়েছিল, এখানে আমার জন্য বিশেষ কিছু আছে। আমাদের দেশে বেশি সুইপ করতে হয় না বলে সে অভ্যাস নেই। তবে এখানে সুইপই কাজে লেগে গেল।’’

স্কোরকার্ড

 

শ্রীলঙ্কা                              ৩৩৮ ও ২৭৫-৫

দক্ষিণ আফ্রিকা                                   ১২৪

দক্ষিণ আফ্রিকা (দ্বিতীয় ইনিংস)

ডিন এলগার এলবিডব্লিউ দিলরুয়ান   ৩৭

এইডেন মারক্রম এলবিডব্লিউ হেরাথ   ১৪

দ্য ব্রুইন বো হেরাথ                       ১০১

হাসিম আমলা বো হেরাথ                   ৬

ডুপ্লেসি ক ম্যাথুজ বো আকিলা            ৭

কেশব মহারাজ এলবিডব্লিউ আকিলা    ০

বাভুমা ক ডিকওয়েলা বো হেরাথ       ৬৩

কুইন্টন ডি কক এলবিডব্লিউ হেরাথ       ৮

রাবাডা ক ম্যাথুজ বো দিলরুয়ান        ১৮

ডেল স্টেন ক গুণতিলক বো হেরাথ      ৬

লুঙ্গি এনগিডি ন.আ.                          ৪

অতিরিক্ত                                      ২৬

মোট                                   ২৯০-১০

পতন: ১-২৩ (মারক্রম, ৮.১), ২-৮০ (এলগার ২৩.৩), ৩-১০০ (আমলা ৩০-১), ৪-১১৩ (ডুপ্লেসি, ৩৫.১), ৫-১১৩ (মহারাজ, ৩৫.২), ৬-২৩৬ (বাভুমা, ৭৩.১), ৭-২৪৬ (ডি কক, ৭৫.৫), ৮-২৮০ (ডি ব্রুইন, ৮৪.৫), ৯-২৮০ (রাবাডা, ৮৫.২), ১০-২৯০ (ডেল স্টেন, ৮৬.৫)।

বোলিং: রঙ্গনা হেরাথ ৩২.৫-৫-৯৮-৬, দিলরুয়ান পেরেরা ৩০-৪-৯০-২, আকিলা ধনঞ্জয় ১৯-২-৬৭-২, সুরঙ্গা লাকমল ২-০-৮-০, ধনঞ্জয় ডিসিলভা ২-০-৫-০, ধনুষ্কা গুণতিলক ১-০-১-০।