• রাজর্ষি গঙ্গোপাধ্যায়
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

শ্রীনি গেলেও ওর লোকেরা থেকে গেল

১

 

মুম্বইয়ে বোর্ডের ধামাকা-বৈঠকের পর অনেকেই বলছেন যে, হনুমান লঙ্কা একা জ্বালিয়ে দিল। আবার কেউ কেউ বললেন, ‘হনুমান’ একা নন। শ্রীনি-বিদায়ের নেপথ্যে আরও অনেক ‘হেভিওয়েট’ ছিলেন। যাঁকে নিয়ে এ সব বলা, সেই বিহার ক্রিকেট সংস্থার সচিব আদিত্য বর্মা সব শুনেও তেমন খুশি হলেন না। বরং শ্রীনি-পতনের দিনেও ক্ষোভ দেখালেন মুম্বই থেকে ফোন-সাক্ষাৎকারে...

 

প্রশ্ন: বোর্ড বৈঠকের পর লোকে বলছে, হনুমান লঙ্কা জ্বালিয়ে দিল। শুনেছেন?

আদিত্য: বলছে? ভাল তো। আসলে জগমোহন ডালমিয়ার মৃত্যুর পর যে দিন দেখলাম শশাঙ্কজিকে (মনোহর) প্রেসিডেন্ট বাছা হল, সে দিনই বুঝেছিলাম যে শ্রীনিবাসনের এ বার আইসিসিও যাচ্ছে। আমি প্রথম থেকেই জানতাম যে, ওর বিরুদ্ধে এক দিনে জিতব না। এক দিনে লঙ্কা পোড়ানো যাবে না। একটা একটা জায়গা থেকে ওকে হঠাতে হয়েছে। ধীরে ধীরে লঙ্কা পোড়াতে হয়েছে।

প্র: আপনি তো মুম্বই বৈঠকে ছিলেন। শ্রীনির লোকজনের সঙ্গে দেখা হল?

আদিত্য: হয়েছে। তামিলনাড়ুর সচিব কাশী বিশ্বনাথন এসেছিল। কথা হল টুকটাক।

 

প্র: কী বললেন?

আদিত্য: জিজ্ঞেস করলাম, সব ভাল কি না। শরীর ঠিক আছে কি না!

 

প্র: শ্রীনি বলেছেন, এখন থেকে আরও বেশি করে গল্ফ খেলবেন।

আদিত্য: অনেক কিছুই করবে। করুক। ক্রিকেটে আর না ঢুকলেই হল। ওকে আমার বোঝানো দরকার ছিল যে, পিঁপড়েও হাতিকে চিমটি কাটতে পারে। কিন্তু এর পর ও কী করবে, আমার ভেবে লাভ নেই। তা ছাড়া ওর সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত শত্রুতাও নেই।

 

প্র: কী ব্যাপার বলুন তো? আপনি এত বিষণ্ণ? শ্রীনি-বিদায়ের দিনে আপনার তো সবচেয়ে উচ্ছ্বসিত থাকা উচিত।

আদিত্য: উচিত। কিন্তু নই। কারণ আমি যে দুটো লক্ষ্য নিয়ে নেমেছিলাম, তার একটাও পুরোপুরি পূর্ণ হয়নি। বিহার ক্রিকেট সংস্থার অনুমোদন এখনও ঝুলে। আর শ্রীনি গেল ঠিকই, কিন্তু ওর লোকরা নয়।

 

প্র: মানে?

আদিত্য: আজ বোর্ড বৈঠকের পর প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আমাকে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। সিএও রত্নাকর শেট্টি নিরাপত্তারক্ষী পাঠিয়ে আমাকে আটকে দিয়েছে।

 

প্র: কেন?

আদিত্য: কারণ, ও শ্রীনির লোক। পুরোটা বলি। বৈঠক শেষে শুনলাম, বিহার ক্রিকেট সংস্থার অনুমোদনের ব্যাপারটা দেখার জন্য একটা কমিটি হয়েছে। ভাবলাম যাই, শশাঙ্কজির থেকে পুরোটা জেনে আসি। কিন্তু ক্রিকেট সেন্টারের সিকিউরিটি আমাকে উঠতে দিল না। বলল, শেট্টি সাব বলে রেখেছেন আপনাকে যেতে দেওয়া যাবে না। আপনার ঢোকা বারণ! ভেবে দেখুন, যে লোকটা রক্ত জল করা লড়াইয়ে বোর্ডের হেড অফিস চেন্নাই থেকে মুম্বইয়ে সরিয়ে আনল, তাকেই কি না তুমি বার করে দিচ্ছ!

 

প্র: পাল্টা বলেননি কিছু?

আদিত্য: শশাঙ্কজি মোবাইল রাখেন না। পওয়ারজিকে চিঠি লিখেছি শেট্টিকে সরানোর জন্য। জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া শুনে হাঁ হয়ে গেল। বলল, আমি দেখছি। বললাম, দরকার নেই। শ্রীনির বিরুদ্ধে যখন লড়ে জিতেছি, ওর লোকগুলোর বিরুদ্ধেও লড়ে জিতব।

 

প্র: বোর্ড সিএও-কে বারবার শ্রীনির লোক বলছেন কেন?

আদিত্য: আরে, মুম্বই হাইকোর্টে আমি যখন শ্রীনির নামে জনস্বার্থ মামলা করি, কাউন্টার এফিডেভিট কে জমা করেছিল? ওই শেট্টি। ও শ্রীনির লোক না হলে কে শ্রীনির লোক?

 

প্র: শ্রীনির লোকরা তো আরও একটা কথা বলছেন। বলছেন, ২০১৭ নাকি তাঁদের পরবর্তী টার্গেট। পরের বোর্ড প্রেসিডেন্ট যে বছর ঠিক হবে।

আদিত্য: (চরম উত্তেজিত) কেন? শ্রীনি কি রাজনৈতিক পার্টির নেতা না কি যে, ও চাইবে আর প্রেসিডেন্ট হয়ে যাবে? শুনে রাখুন, আজ থেকে নারায়ণস্বামী শ্রীনিবাসন জমানা কফিনে চলে গেল। ও বরং নিজেকে নিয়ে ভাবুক। নিজেকে জিজ্ঞেস করুক, বোর্ডে এত দিন ক’টা ভাল কাজ আর ক’টা পাপ করেছি। ভাবুক, যে বোর্ড ওর কথায় উঠত-বসত, সেই বোর্ড ওকে আজ কেন হঠিয়ে দিল। এতে ওরই লাভ হবে। ওর পরবর্তী জীবনটা ভাল হবে।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন