দু’দিনের রাজ্য জিমন্যাস্টিক্স প্রতিযোগিতা শুরু হল মেদিনীপুরে। ‘মেদিনীপুর জেলা জিমন্যাস্টিক অ্যাসোসিয়েশন’-এর পরিচালনায়, ‘পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য জিমন্যাস্টিক অ্যাসোসিয়েশন’ ও ‘বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন’-এর সহযোগিতায় ৬ ও ৭ জানুয়ারি মেদিনীপুর স্পোর্টস কমপ্লেক্সে আয়োজিত হচ্ছে ৬৮তম পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য অফিশিয়াল জিমন্যাস্টিক্স চ্যাম্পিয়নশিপ ২০১৭-’১৮। শনিবার সকালে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন ‘বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন’-এর সভাপতি অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়। উপস্থিত ছিলেন ‘পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য জিমন্যাসটিক অ্যাসোসিয়েশন’-এর সম্পাদক প্রণব বসু।

সারা রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে ২৬৪ জন প্রতিযোগী যোগ দিয়েছে এখানে। প্রতিযোগিতায় ছেলেদের ও মেয়েদের তিনটি ইভেন্ট হচ্ছে। সেগুলি হল অ্যাক্রোব্যাটিক, অ্যারোবিক ও রিদ্‌মিক। বয়সের নিরিখে প্রতিযোগীদের ছ’টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে— অনূর্ধ্ব ৮, ৮ থেকে ১০, ১১ ও ১২, ১৩ থেকে ১৫, ১৬ থেকে ২০ এবং ২০ বছরের বেশি। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি ইভেন্টে সঙ্গীতের সঙ্গে জিমন্যাস্টিক্স করে দেখাতে হবে। প্রতিযোগী যদি এক জন হয়, তবে তিনি সময় পাবেন ১ মিনিট। প্রতিযোগী একাধিক হলে, সময় দেড় মিনিট। প্রতিযোগীদের বয়স পনেরোর কম হলে কমপক্ষে ৮টি জিমন্যাস্টিক্স করতে হবে। পনেরো বছরের বেশি হলে করতে হবে কমপক্ষে ১০টি জিমন্যাস্টিক্স। এর মধ্যে ৩টি আবশ্যিক এবং ৩টি নিজের পছন্দের আসন। আয়োজক সংস্থার সম্পাদক অভিমন্যু দাস জানান, দু’দিনের এই প্রতিযোগিতায় প্রতি বিভাগে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানাধিকারী আগামী ২৩ জানুয়ারি থেকে হায়দরাবাদে আয়োজিত জাতীয় জিমন্যাস্টিক্স প্রতিযোগিতায় যোগ দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

শনিবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অজিতবাবু বলেন, “কমবয়সী ছেলেমেয়েদের নিয়মিত খেলাধুলো করা উচিত। পড়াশোনার চাপে ছেলেমেয়েদের খেলার মাঠে পাঠানোর সময় পাচ্ছেন না অভিভাবকেরা। সকলের কাছে অনুরোধ, ছোটদের নিয়মিত খেলাধুলো করতে দিন। এতে ওদের মানসিক ও শারীরিক গঠন ঠিক ভাবে হবে। এতে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা আরও ভাল হবে।” তিনি আরও জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছেলেমেয়েদের খেলাধুলার জন্য নানা ধরনের কর্মসূচি নিচ্ছেন। সকলের তাই খেলার জন্য এগিয়ে আসা উচিত।

এ ছাড়া আজ, রবিবার দুপুরে জেলা জিমন্যাস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে পঞ্চম জেলাব্যাপী বসে আঁকো প্রতিযোগিতা হবে। সেখানে ৪টি বিভাগ রয়েছে— শিশু শ্রেণি, প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি, চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণি এবং সপ্তম থেকে নবম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা যোগ দেবে। প্রতি বিভাগের প্রথম দশ জনকে পুরস্কৃত করা হবে।