এক দশক আগে তিনি ভেবেছিলেন ছেড়েই দেবেন টেনিস। সেখান থেকে গ্র্যান্ড স্ল্যামে স্বপ্নের অভিষেক ঘটান রজার ফেডেরারের বিরুদ্ধে। খেলোয়াড় জীবনের এই যাত্রা তাঁর কাছে ছিল ‘‘টিকে থাকাল লড়াই’’। তিনি— সুমিত নাগাল। ভারতীয় টেনিস তারকার আশা, সামনের পথ আরও মসৃণ হবে। অবশ্য তার জন্য সুমিতের চাই সমর্থন।

২২ বছর বয়সি নাগাল সদ্য শেষ হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ওপেনের প্রথম রাউন্ডে কুড়ি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ীর সঙ্গে লড়াইয়ে প্রথম সেট ছিনিয়ে নিয়ে প্রচুর প্রশংসাও পেয়েছেন। চার সেটের লড়াইয়ে তিনি তিন বার ফেডেরারের সার্ভিসও ভেঙেছিলেন ভিড়ে ঠাসা আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে। যখনই নাগাল শুনেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ওপেনে প্রথম রাউন্ডে ফেডেরারের বিরুদ্ধে যোগ্যতা অর্জন পর্ব থেকে উঠে আসা কোনও খেলোয়াড় পড়বেন, প্রার্থনা করছিলেন বছরের শেষ গ্র্যান্ড স্ল্যামে তিনি যেন সেরা ছন্দে খেলতে পারেন। ‘‘আমি ভীষণ ভাবে চেয়েছিলাম ফেডেরারের বিরুদ্ধে খেলতে। সেটা হওয়ায় ভীষণ খুশি,’’ সংবাদ সংস্থাকে বলেন নাগাল। সঙ্গে আরও বলেছেন, ‘‘আমার কোচ প্রথম জানায় ফেডেরারের বিরুদ্ধে আমায় খেলতে হবে। শুনে এত আনন্দ হয়েছিল কী বলব।’’ তবে কোর্টে নামার সময় একটু চাপে পড়ে গিয়েছিলেন, স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি, ‘‘প্রথম কয়েক মিনিট বেশ কঠিন লাগছিল। একটু চাপেও ছিলাম। এর আগে কখনও এ রকম অভিজ্ঞতা হয়নি।’’

নাগাল একই সঙ্গে কষ্টের দিনগুলোও ভোলেননি। ‘‘এক সময় ভেবেছিলাম টেনিস ছেড়ে দেব। দু’মাসে মাত্র পাঁচ দিন খেলতে পেরেছি এমন দিনও গিয়েছে,’’ বলেন নাগাল। ২০১৭ সালে বিরাট কোহালির সংস্থা বৃত্তি দেয়। যা অনেকটা সাহায্য করে তাঁকে। ফেডেরারের সঙ্গে ম্যাচের পরে নাগাল এখন আরও পরিচিত। তবে বিশ্বের ১৭৪ নম্বর নাগাল এখনও নতুন কোনও স্পনসর পাননি। ‘‘আশা করছি আরও সমর্থন পাব। চেষ্টা করব বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে যতটা সম্ভব এগোনোর,’’ জেদ ঝড়ে পড়ে নাগালের কথায়।