নিয়মরক্ষার শেষ টেস্ট কিন্তু বিরাট কোহালিদের কাছে নিছকই নিয়মরক্ষার নয়। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজ হেরে গেলেও ওভাল টেস্ট থেকে বিরাটদের অনেক কিছু পাওয়ার আছে। ৩-২ স্কোরলাইন আর ৪-১ স্কোরলাইনের মধ্যে বিস্তর ফারাক। সিরিজের প্রথম চারটে টেস্টে ভারতের জন্যও কিছু ভাল সময় তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ভারতীয় দল নিশ্চয়ই বুঝেছে, কিছু কিছু ভাল মুহূর্ত তৈরি করা আর ম্যাচ শেষ করা, দু’টো সম্পূর্ণ আলাদা ব্যাপার।  

আজ, শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া ওভাল টেস্টে বিরাটদের সামনে সব চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল, সব কিছু ভুলে নতুন করে শুরু করা। ভারতীয় ক্রিকেটারদের মাথায় রাখতে হবে যে, ওদের হারানোর আর কিছু নেই। জানি, কাজটা বলা যতটা সোজা, করা ততটা কঠিন। কিন্তু পেশাদার ক্রীড়াবিদদের এই রকম পরিস্থিতি থেকেই রাস্তা খুঁজে নিতে হয়। 

ম্যাচ হারলেই নানা লোকে নানা কারণ খুঁজতে বসে। সবাই নিজের নিজের প্রথম একাদশ বাছতে বসে যায়। এ সব থেকে দূরে সরিয়ে বিরাটকে নিজে ব্যাপারটা দেখতে হবে। প্রথম দল বেছে নেওয়ার ব্যাপারে আমি আবারও বলছি, বিরাটকে নিজে সব কিছু ভাল করে দেখে নিতে হবে। মানছি, চতুর্থ টেস্টে অশ্বিনের থেকে ভাল বল করেছে মইন আলি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে অশ্বিনের চেয়ে ভাল স্পিনার মইন। বিরাটকে প্রথমে নিশ্চিত করতে হবে, অশ্বিন পুরোপুরি ফিট কি না। তার পর ঠিক করতে হবে, অশ্বিন আর রবীন্দ্র জাডেজার মধ্যে কে বেশি কার্যকর হবে। 

ওভালের পিচটা কিন্তু একটু অন্য রকম। এতে বাউন্স ভালই থাকবে। ভারতীয় অধিনায়ককে দেখতে হবে, পিচে কতটা ক্ষত হতে পারে। এ ছাড়া দলের ব্যাটিং নিয়েও ভাবনা চিন্তা করতে হবে বিরাটদের। আমার মতে, শুরুতে পরিবর্তন করাটা খুব জরুরি। তাই তরুণ পৃথ্বী শ-কে একটা সুযোগ দেওয়া হোক। ওর বয়সটা কম, এই সিরিজের হারের ছাপটা ওর ওপরে পড়েনি। তা ছাড়া ভারত ‘এ’ দলের হয়ে ইংল্যান্ড সফরেও সফল হয়েছে। কে এল রাহুল বা শিখর ধওয়নের কেউই সে রকম ফর্মে নেই। তাই শুরুতে পৃথ্বীকে আনাটা খারাপ হবে না।

আমি সব সময় পাঁচ বোলারে খেলানোর পক্ষপাতী। কিন্তু বিরাট একবার চার বোলার ফর্মুলায় যেতে পারে। তা হলে দু’টো ব্যাপার দেখে নিতে পারবে। এক, সে রকম পরিস্থিতিতে বোলিং বিভাগ কী করে। দুই, ভবিষ্যতে এটা কোনও রাস্তা হতে পারে কি না। বিশ্ব ক্রিকেটে অনেক ভাল দলই এই ফর্মুলায় সফল হয়েছে। সে ক্ষেত্রে হনুমা বিহারীও সুযোগ পেতে পারে। ওকে নিয়ে সম্প্রতি বেশ ভাল ভাল কথা শুনছি। হনুমা খেললে ভারতের ব্যাটিং গভীরতাও বাড়বে।

ওভালে একজন মহান ইংল্যান্ড ক্রিকেটার জীবনের শেষ টেস্ট খেলতে নামবে। তিনি অ্যালেস্টেয়ার কুক। ইংল্যান্ডের মতো পরিবেশে একজন ওপেনার হিসেবে বারো হাজারের বেশি টেস্ট রান করাটা কিন্তু দারুণ কৃতিত্বের। ঠিক সময়ই সরে যাচ্ছে কুক। ওর আক্ষেপেরও কিছু থাকবে না। এ রকম কেরিয়ার খুব কম ক্রিকেটারেরই হয়। কুক শুধু একজন দারুণ ব্যাটসম্যানই নয়, নিপাট ভদ্রলোকও।

(গেমপ্ল্যান)