চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ফাইনালে যশপ্রীত বুমরা-র ক্যাচটা সরফরাজ আমেদ ধরার পরই মনে করা হয়েছিল আড়াই সপ্তাহের ক্রিকেট-নাটকে হয়তো যবনিকা পড়ল। কিন্তু তখন বোঝা যায়নি, বাইশ গজের নাটক শেষ হলেও মাঠের বাইরে উত্তেজনা বেড়েই চলবে।

মঙ্গলবার রাত থেকে কুম্বলে-নাটক শুরু। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যে নাটকের উত্তেজনাও বাড়তে থাকে। রাত আটটা নাগাদ প্রথম জানা যায়, বিরাট কোহালিদের কোচ হিসেবে দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দিয়েছেন অনিল কুম্বলে। রাত দশটা নাগাদ ভারতীয় বোর্ড কুম্বলের ইস্তফার খবর সরকারি ভাবে জানিয়ে দেয়।

মনে করা হচ্ছিল, আপাতত এতেই হয়তো থেমে যাবে বিতর্কিত এই অধ্যায়। কিন্তু গভীর রাতে বিস্ফোরক বিবৃতি দিয়ে পরিস্থিতি আরও অগ্নিগর্ভ করে তুললেন কুম্বলে। ভারতীয় বোর্ডের কাছে তিনি যে ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন, তাতে কোহালির দিকেই আঙুল তুলেছেন তিনি। সেই ইস্তফাপত্র আবার টুইটারে এবং ফেসবুকে পোস্ট করেন কুম্বলে। যার মোদ্দা বক্তব্য হল, ‘ক্যাপ্টেন চায়নি বলেই আমি সরে গেলাম।’

ভারতীয় দল ওয়েস্ট ইন্ডিজে রওনা হলেও মঙ্গলবার কুম্বলে লন্ডনেই থেকে যান। প্রথমে বলা হয়েছিল, আইসিসি-র বার্ষিক সম্মেলনের জন্য থাকতে হচ্ছে কুম্বলেকে। কারণ, আইসিসি ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান তিনি। পরে জানা যায়, কুম্বলে ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন বোর্ডের সিইও রাহুল জোহরি-কে। রাতে ভারপ্রাপ্ত সচিব অমিতাভ চৌধরি জানান, সচিন তেন্ডুলকর, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও ভিভিএস লক্ষ্মণদের নিয়ে গড়া বোর্ডের ক্রিকেট অ্যাডভাইসরি কমিটি কুম্বলেকে আরও এক বছরের জন্য কোচ নির্বাচিত করেছিল। কিন্তু তিনি নিজেই আর থাকতে চাননি।

আরও পড়ুন: আর কোনও রাস্তা ছিল না: কুম্বলে

কুম্বলের ইস্তফা অবশ্য আদৌ অপ্রত্যাশিত ঘটনা নয়। আনন্দবাজারেই লেখা হয়েছিল, ক্রমশ দলের মধ্যে কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন তিনি। কোহালিও বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি আর কুম্বলেকে কোচ হিসেবে চাইছেন না। দলের ক্রিকেটারদের থেকেও ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছিলেন কুম্বলে। অনেকেরই বক্তব্য ছিল, ড্রেসিংরুমের খোলামেলা পরিবেশ হারিয়ে গিয়েছিল তাঁর হেডমাস্টার-সুলভ কড়াকড়িতে।

এখন প্রশ্ন, বিরাটদের নতুন কোচ হতে চলেছেন কে? এ দিন বোর্ড জানিয়েছে, নতুন কোচ বাছাইয়ে ফের সৌরভ, সচিন, লক্ষ্মণদের সাহায্য চাওয়া হবে। তত দিন ব্যাটিং কোচ সঞ্জয় বঙ্গার ও ফিল্ডিং কোচ আর. শ্রীধর ওয়েস্ট ইন্ডিজে দলের সঙ্গে থাকবেন ও টিম ম্যানেজমেন্ট থাকবে বোর্ডের এক কর্তা এমভি শ্রীধরের তত্ত্বাবধানে।