ভারতে ছুটি কাটাতে এসেছেন এক অস্ট্রেলীয় দম্পতি। দু’দিন ধরে রয়েছেন কলকাতায়। শুক্রবারই রওনা দেবেন দার্জিলিংয়ের উদ্দেশে। কিন্তু তার আগের দিন ইডেনে চলে এলেন কলকাতা নাইট রাইডার্স বনাম রাজস্থান রয়্যয়ালস ম্যাচ দেখতে। রাজস্থানের অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ। কিন্তু এই  অস্ট্রেলীয় দম্পতি কোনও ভাবেই রাজস্থানকে সমর্থন করতে আসেননি। কারণ, বল-বিকৃতি কাণ্ডের পর থেকে স্মিথের উপর থেকে আস্থা হারিয়েছেন তাঁরা। 

গত বছর মার্চে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে বল-বিকৃতি কাণ্ডে অভিযুক্ত হন স্মিথ, ডেভিড ওয়ার্নার ও ক্যামেরন ব্যানক্রফট। যার ফলে এক বছর নির্বাসিত হন স্মিথ ও ওয়ার্নার। ৯ মাসের জন্য মাঠের বাইরে থাকতে হয় ব্যানক্রফটকেও। এই ঘটনার পর থেকেই স্মিথ, ওয়ার্নারদের প্রতি আস্থা হারিয়েছেন মেলবোর্নের নিল ভ্যানবিউরেন ও তাঁর স্ত্রী স্যু। 

ইডেনে তাঁর প্রাক্তন অধিনায়কের ম্যাচ চলাকালীন নিল বলে দিলেন, ‘‘স্যান্ডপেপারগেট হওয়ার পর থেকে স্মিথ ও ওয়ার্নারকে আমি সহ্য করতে পারি না। হতে পারে স্মিথ আমাদের দেশের প্রাক্তন অধিনায়ক। কিন্তু আমার চোখে ও বরাবরই খলনায়ক হিসেবেই থাকবে।’’

দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ‌সেই ম্যাচ ঘরে বসে উপভোগ করছিলেন নিল। ঘটনার পরেই ‌নাকি দু’দিন খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দেন। নিল বলছিলেন, ‘‘সেই ঘটনার পরে অনেক দিন অস্ট্রেলিয়ার কোনও ম্যাচ দেখিনি। আমাদের বাড়ির সামনে তো ওকে নিয়ে প্রচুর পোস্টারও পড়েছে। কেউ লিখে গিয়েছে, দেশের কলঙ্ক তুমি। কেউ আবার দেশে ওদের উপস্থিতিই মানতে পারছিল না।’’

কিন্তু কেন এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হল? নিলের উত্তর, ‘‘আমি নিজেও মনে করি ক্রিকেটর প্রতি যত সম্মান, সব নষ্ট হয়ে গিয়েছে স্মিথ অধিনায়ক থাকাকালীন। ও সত্যি আমাদের দেশের কলঙ্ক।’’

সামনেই বিশ্বকাপ। যেখানে দলে ফেরানো হয়েছে স্মিথ ও ওয়ার্নারকে। নিল যদিও সেই সিদ্ধান্ত সমর্থন করেননি। বলছিলেন, ‘‘অস্ট্রেলিয়া দেখিয়ে দিয়েছে, স্মিথ ও ওয়ার্নার ছাড়াও ওরা যথেষ্ট ভাল খেলতে পারে। ভারত ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টানা দু’টি ওয়ান ডে সিরিজ জিতেছে। ক্রিকেট বিশ্বের দুই সেরা শক্তিকে তাদের পরিবেশে যদি অ্যারন ফিঞ্চরা হারাতে পারে, তা হলে বাকি দেশগুলিকেও হারানোর ক্ষমতা রয়েছে ওদের।’’

স্যু যদিও স্মিথের থেকে বেশি চটে ওয়ার্নারের উপর। বলছিলেন, ‘‘বরাবরই একটু বদমেজাজি স্বভাবের ছেলে ওয়ার্নার। ব্যানক্রফটকে কেন বল-বিকৃতির দায়িত্ব দেওয়া হল? কার বুদ্ধিতে এমন হল, সেটা যদিও বলতে পারব না। তবে আমি মনে করি এর পিছনে সম্পূর্ণ দায়ী ওয়ার্নার। স্মিথ তাকে সমর্থন করেছে বলে সে-ও সমান ভাবে অপরাধী।’’