দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে বিশাখাপত্তনমে ব্যাটিং ও বোলিংয়ে দুরন্ত পারফরম্যান্স। তার জেরেই ঘরের মাঠে তিন টেস্টের সিরিজে ১-০ এগিয়ে বিরাট কোহালির ভারতীয় দল। যেখানে রোহিত শর্মাদের দুরন্ত ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি জ্বলে উঠেছিলেন ভারতীয় বোলাররাও। প্রথম ইনিংস আর অশ্বিনের ১৪৫ রানে সাত উইকেট আর দ্বিতীয় ইনিংসে মহম্মদ শামির ৩৫ রানে পাঁচ উইকেট দখল পরিচয় দিচ্ছে বিরাট কোহালির দলের সার্বিক পারফরম্যান্সের। 

প্রথম টেস্টেই দুই ইনিংস মিলিয়ে ২০ উইকেট দখল করেছেন ভারতীয় বোলাররা। তাই অশ্বিন, শামিদের পারফরম্যান্স নিয়ে খুশি ভারতীয় দলের বোলিং কোচ বি অরুণ। বলছেন, ‘‘টেস্টে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়াই আমাদের লক্ষ্য। তাই পছন্দের উইকেট বলে কোনও বিষয় নেই ভারতীয় ড্রেসিংরুমে। বিশাখাপত্তনমের উইকেট নিয়েও ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের তরফ থেকে কোনও নির্দেশ যায়নি। যে কোনও উইকেটেই বিধ্বংসী হয়ে ওঠার ক্ষমতা রাখে ভারতীয় বোলাররা।’’

বিরাটদের বোলিং কোচ সঙ্গে যোগ করেন, ‘‘পরিবেশ, পরিস্থিতির উপর নির্ভর করতে চাই না আমরা। বিদেশে গেলে আমরা উইকেট নিয়ে বিশেষ মাথা ঘামাই না। কারণ তখন নিজের সেরা পারফরম্যান্স তুলে ধরাই থাকে লক্ষ্য। সেই নীতিই অনুসরণ করা হচ্ছে দেশের মাটিতেও। উইকেট নয়। পারফরম্যান্সটাই প্রধান বিষয়।’’

বি অরুণ আরও বলেন, ‘‘বিদেশে গিয়ে সিমিং উইকেট পেলে আগে শুনতে হত ভারতীয়দের এই উইকেটে খেলা শেখা উচিত। আর পিচ যদি স্পিনারদের সহায়তা করে, তখন কেউ মানতে চাইতেন না। বলতেন, প্রথম দিন থেকে বল ঘুরছে কী ভাবে।’’

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় এই মুহূর্তে ১৬০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে ভারত। সে কথা মনে করিয়ে অরুণ বলছেন, ‘‘টেস্ট ক্রিকেটে বিশ্বের সেরা দল হতে গেলে তাই উইকেট দেখার প্রয়োজন নেই। দরকার বল হাতে বিপক্ষের ২০টি উইকেট তুলে নেওয়ার ক্ষমতা। এটাই আসল কথা। সেটাই ছেলেদের মাথায় ঢুকিয়ে দিতে পেরেছি আমরা। সে কারণেই এই সাফল্য।’’

এর পরেই মহম্মদ শামির উদাহরণ টেনে এনে ভারতীয় বোলিং কোচ বলেন, ‘‘প্রথম টেস্টে পিচ পেসারদের অতটা অনুকূলে ছিল না। ভারতীয় উইকেটে যতটা আশা করা গিয়েছিল বল ততটা রিভার্স সুইং করছিল না। এই পরিস্থিতিতে লাইন ও লেংথ নিখুঁত করতে পারলেই সাফল্য পাওয়া যায়। শামি ঠিক এই ভাবেই সাফল্য পেয়েছে।’’ শামির সাফল্য বিশদে ব্যাখ্যা করে অরুণ বলেন, ‘‘বিশাখাপত্তনমের উইকেটে বল পড়ে নিচু হচ্ছিল। এই অবস্থায় শামি অফ স্টাম্পের বাইরে বল না করে উইকেট টু উইকেট বল করে গিয়েছে। ওর পাঁচ উইকেটের মধ্যে চারটি উইকেট এসেছে এ ভাবেই। জোরে বোলাররা বুঝতে পেরেছে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও কী ভাবে লাইন ও লেংথ পরিবর্তন করে সাফল্য পাওয়া যায়।’’

পাশাপাশি, এ প্রসঙ্গে ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহালির তরফে বোলারদের স্বাধীনতা প্রদানের ব্যাপারটিও উল্লেখ করেন বি অরুণ। তাঁর কথায়, ‘‘আমাদের দলে প্রতিটি বোলারের জন্য আলাদা রণনীতি ঠিক করা রয়েছে। অধিনায়ক বোলারদের  স্বাধীনতা দিয়েছেন, লম্বা বা ছোট স্পেলে বল করার। এতে বোলারদের আরও সুবিধা হয়ে গিয়েছে।’’

এ দিকে, পুণেতে লড়াইয়ে ফেরার জন্য মুখিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাও। তাঁদের নবাগত অলরাউন্ডার সেনুরান মুথুস্বামী বলছেন, ‘‘দল স্বস্তিতে নেই এই মুহূর্তে। কিন্তু অস্বস্তির মধ্যেও  লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা চালাচ্ছি আমরা।’’