শালীনতার সীমা ছাড়ানোর কোনও ইচ্ছে নেই। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তাঁদের আসন্ন টেস্ট দ্বৈরথে দলের ছেলেরা আবেগহীন হয়ে থাকুক, সেটাও চান না ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহালি। আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রেখে নিজেদের যতটা পারেন উজাড় করে দিতে চান ভারতীয়রা। বহুচর্চিত টেস্ট সিরিজ শুরুর আগের দিন বিরাট জানিয়ে দিলেন এই কথা। 

দু’দলের মধ্যে লড়াইটা যাতে বেশ জমজমাট হয়, সেটাই চান বিরাট কোহালি। তাঁর মতে, ‘‘অতীতে যা হয়েছে, যে ভাবে দুই দলই সীমা অতিক্রম করেছে, সেটা ফের হোক, আমি চাই না। কিন্তু এটা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। খেলাটা প্রতিযোগিতামূলক। তাই ছেলেরা শুধু মাঠে নেমে বোলিং করুক আর ফিরে যাক, এটাও কিন্তু চাই না।’’ ভারত অধিনায়ক যে মাঠে লড়াই চান, তা স্পষ্ট। কিন্তু অতিরিক্ত উত্তেজনার আগুন জ্বলে উঠুক, সেটা চান না তিনি। 

তবে ম্যাচ চলাকালীন সীমার মধ্যে থেকে নিজেদের মধ্যে যে একটু আধটু মন্তব্য-পাল্টা মন্তব্য হতেই পারে, তা বলেই দিচ্ছেন অধিনায়ক। দক্ষিণ আফ্রিকায় বল-বিকৃতি কাণ্ডের পরে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দল এতটাই বদনামের ভাগীদার হয় যে, সে দেশের বোর্ড তাদের ক্রিকেট সংস্কৃতি নিয়ে একটি পর্যালোচনা করে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই অস্ট্রেলীয় দলের ক্রিকেটাররা মাঠে তাঁদের আচরণ অনেক বদলে ফেলেছেন। 

আরও পড়ুন: সিরিজের ভাগ্য ব্যাটসম্যানদের হাতে

 

ক্রিকেটাররা মাঠে স্বাভাবিক আচরণ প্রকাশ করতে না পারলে তাঁদের পারফরম্যান্সে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করেন সে দেশের বহু প্রাক্তন তারকা। কিন্তু বিরাট তা মনে করেন না। বলেন, ‘‘ও রকম একটা কাণ্ডের (বল-বিকৃতি) পরে কোনও দল নেতিবাচক মনোভাব নিয়ে মাঠে নামবে বলে মনে হয় না। তবে বিপক্ষের কোনও ক্রিকেটার বড় বাধা হয়ে দাঁড়ালে শরীরী ভাষায় বা মুখের কথায় তাকে চাপে ফেলতেই হয়।’’ 

তবে দুই দলেই ভাল ক্রিকেটার রয়েছে বলে সেই পর্যায়ে নামতে হবে না বলে মনে করেন ভারত অধিনায়ক। ‘‘অস্ট্রেলিয়া সম্প্রতি যেমনই খেলুক, ওদের দক্ষতাকে সমীহ করতেই হবে। মাঠে যে যেমন আচরণই করুক, দিনের শেষে দক্ষতাই শেষ কথা,’’ বলেন বিরাট। প্রথম টেস্টের জন্য বাছা ১২ জনের দলে কোনও অলরাউন্ডার না থাকায় যে পেসারদের ওপর চাপ পড়বে, তা মেনে নিয়েই বিরাট এ দিন বলেন, ‘‘তিন পেসারে নামলে অতিরিক্ত কিছু ওভার তাদের ভাগাভাগি করে নিতে হবে। হার্দিক পাণ্ড্য সুস্থ থাকলে ওদের এই চাপটা নিতে হত না।’’ ১২ জনের দলে এ দিন হনুমা বিহারী ও রোহিত শর্মা, দু’জনকেই রাখা নিয়ে ক্রিকেট মহলে জোর চর্চা হলেও অনেকের ধারণা, হনুমা যেহেতু অফস্পিনও করতে পারেন, তাই তাঁকে প্রথম এগারোয় সুযোগ দেওয়া উচিত। অতীতে বীরেন্দ্র সহবাগ, সচিন তেন্ডুলকর, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়রা বোলিং করে দলকে সাহায্য করতেন বা বোলারদের ওপর থেকে বাড়তি চাপ কমিয়ে দিতেন। কিন্তু বর্তমান ভারতীয় দলে তেমন কেউ নেই বলেই এই সমস্যা। 

এই মাঠে চারটি ইনিংসের মধ্যে তিনটিতেই সেঞ্চুরি করেছেন বিরাট। এ বারেও বিরাট-আবেশেই মজে রয়েছে স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের ঘরের মাঠ। কিন্তু বিরাট সে সব বেশি মাথায় রাখতে চান না। বলেন, ‘‘এ সবে আমি বিশ্বাস করি না। আমাদের দলের যে কোনও ব্যাটসম্যানই একা হাতে যে কোনও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। লোকে কী বলবে, সে তো আর আমার হাতে নেই। কাউকে আমি কিছু বলতে বা লিখতেও বারণ করতে পারি না।’’ তবে অ্যাডিলেড যে তাঁর অন্যতম প্রিয় মাঠ, তা স্বীকার করতে দ্বিধা নেই। বলেন, ‘‘সব মাঠেই যে সব সময় ভাল পারফরম্যান্স করতে পারব, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। তবে এটা ঠিকই যে, বিশ্বের অন্য যে কোনও মাঠের চেয়ে এখানে খেলার অভিজ্ঞতা আমার কাছে অন্য রকম।’’  

মঙ্গলবারই কোহালির ব্যাটিংয়ের ভিডিয়ো পোস্ট করে খোদ ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ওয়েবসাইট। যা দেখে বুধবার পাল্টা টুইট করেন ইংল্যান্ড মহিলা দলের বিরাট-ভক্ত ক্রিকেটার ড্যানিয়েল ওয়াট। লেখেন, ‘‘বুম।’’ যার মন্তব্যে প্রশংসা করেন অ্যালান ডোনাল্ড, গ্র্যান্ট এলিয়ট থেকে স্যাম বিলিংস। ডোনাল্ড লেখেন, ‘‘প্রত্যেকটি বলই যে ব্যাটের মাঝখানে লাগছে।’’ বিলিংস লেখেন, ‘‘অদ্ভুত দৃশ্য।’’