ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজের শেষ টেস্ট খেলতে নামার আগে দু’টো ইনিংসের কথা ভুলতে পারছেন না বিরাট কোহালি। ‌বার্মিংহামের দ্বিতীয় ইনিংস এবং সাউদাম্পটনের প্রথম ইনিংস। কোহালি মনে করেন, এই দু’টো ইনিংসে আউট না হলে ভারত আজ সিরিজে ভাল জায়গায় থাকতে পারত।

ওভাল টেস্ট শুরু হওয়ার আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি পেসার মাইকেল হোল্ডিংকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে কোহালি বলেন, ‘‘আমি এখানে বসে ওই দু’টো ইনিংসের কথা ভাবছি। কত রান করেছিলাম, তা নয়। কারণ সংখ্যাটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। কিন্তু আমি বুঝতে পারছি, বার্মিংহামের দ্বিতীয় ইনিংসে যদি আর কিছুটা সময় উইকেটে থাকতাম, তবে ম্যাচ জিতিয়ে আসতে পারতাম। ঠিক একই ভাবে সাউদাম্পটনের প্রথম ইনিংসে আমি যদি আর কিছুটা সময় থেকে যেতাম, তা হলে ভারত বড় রান তুলতে পারত।’’ কোহালি জানিয়ে দিয়েছেন, ভবিষ্যতে যদি একই রকম পরিস্থিতিতে পড়েন, তা হলে অতীতের ভুল করবেন না।

নিজেকে নিয়ে কোহালি বলেছেন, ‘‘আমি সব সময় আমার ভুলের ওপরে নজর রাখি। সেই ভুল শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করি। ভুল করলে আমি সেই ভুল স্বীকার করে নিই। কারণ সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে আমি এগিয়ে যেতে পারব। পিছিয়ে পড়ব না।’’

আপনাকে নিয়ে চারদিকে এত কথা হয়, এত প্রত্যাশা আপনাকে ঘিরে। কী ভাবে প্রত্যেক দিন এই চাপ সামলান? হোল্ডিং প্রশ্ন করেছিলেন কোহালিকে। যার জবাবে ভারত অধিনায়ক বলেন, ‘‘আমি একটা নীতিতে বিশ্বাস করি। জীবনটা ঠিকঠাক রাখতে হবে। জীবন নিয়ে খুশি থাকতে হবে, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ঠিক কাজ করতে হবে। তা হলেই দেখবেন, বাকি রাস্তাটাও খুব উপভোগ্য হয়ে উঠছে। আমার কাছে বৃহত্তম ছবিটা অবশ্যই জীবন। আমি যদি জীবনে ঠিক কাজ করি, তা হলে মাঠে নেমেও আত্মবিশ্বাসী থাকতে পারব।’’

নিজের সামনে কী লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নামেন? রেকর্ড ব্যাপারটা কি মাথায় থাকে ব্যাট করার সময়? কোহালি বলছেন, ‘‘আমি কারও জন্য খেলি না। কে কী ভাববে, তা ভেবে খেলি না, এমনকি নিজের সুনামের জন্যও খেলি না। ব্যাট করতে নামার সময় একটাই লক্ষ্য থাকে। কী ভাবে দলকে জেতাব। এ জন্যই আমি ক্রিকেট খেলা শুরু করেছিলাম। নামের পাশে সংখ্যা বাড়ানোর জন্য নয়।’’

এর পরে স্যর ভিভিয়ান রিচার্ডসের উদাহরণ টেনে এনে কোহালি বলেছেন, ‘‘কেউ কি ভিভিয়ান রিচার্ডসের ব্যাটিং গড় নিয়ে আলোচনা করে? না। সবাই লোকটার মানসিকতা, মাঠে তিনি কী রকম প্রভাব ফেলেছিলেন, এ সবই মনে রেখেছে। মনে রেখেছে, ভিভিয়ান রিচার্ডস কী ভাবে অন্যদের অনুপ্রাণিত করেছেন! আমিও সে রকম কিছু করতে চাই। মানুষকে অনুপ্রাণিত করতে চাই। আর সেটা করতে গেলে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আমাকে ঠিক কাজটা করতে হবে।’’

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে চলতি সিরিজ নিয়ে কোহালি বলেছেন, ‘‘সিরিজে কিন্তু লড়াই হয়েছে। আমরা আমাদের খামতির জায়গাগুলো বুঝতে পেরেছি। এ সব জায়গাগুলোয় উন্নতি করতে হবে।’’ কোহালি আরও বলেছেন, ‘‘একটা টেস্ট ম্যাচ জেতার জায়গায় এসে হেরে গেলে খুব হতাশ লাগে। আমাদের সঙ্গে যেটা হয়েছে।’’ ভারত অধিনায়ক মনে করেন, কঠিন পরিস্থিতি এবং কঠিন জায়গায় জিততে গেলে মানসিক ভাবে শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন। কোহালি বলেছেন, ‘‘আমাদের যে ম্যাচ জেতার দক্ষতা আছে, সেটা আমরা বুঝিয়ে দিয়েছি। কিন্তু দক্ষতা একটা জায়গা পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে। তার পরেই মানসিক কাঠিন্যের ব্যাপারটা চলে আসে। আমরা ফিনিশিং লাইন টপকে যেতে পারি। কিন্তু কঠিন পরিস্থিতিতে আমাদের বিপক্ষের থেকে মানসিক ভাবে বেশি শক্তিশালী হতে হবে।’’

ভারতীয় দলের পেস আক্রমণ নিয়ে মুগ্ধ হোল্ডিং। কিংবদন্তি এই পেসার কোহালিকে বলেন, ‘‘ভারতীয় পেসাররা বিপক্ষ পেসারদের চেয়ে জোরে বল করছে। কী ভাবে এটা সম্ভব হল?’’ যা শুনে কোহালির জবাব, ‘‘প্রত্যেকে পরিশ্রম করে, ট্রেনিং করে, ফিটনেসের ওপর জোর দেয়। যার ফলে ওরা এই জায়গায় এসে পৌঁছেছে। ভাবতে পারেন, দিনের শেষেও মহম্মদ শামি ঘণ্টায় ৯০ মাইল গতিতে বল করছে। যশপ্রীত বুমরাও। আর ইশান্ত শর্মা তো অক্লান্ত ভাবে সারা দিন বল করে চলেছে। ওরা শুধু দলের কথা ভেবে খেলে, নিজেদের কথা ভেবে নয়। আমাদের বোলাররা বিশ্বাস করে, প্রত্যেক টেস্টে ২০টা করে উইকেট তোলা সম্ভব। আমি ওদের নিয়ে গর্বিত।’’