মারমুখী ইনিংস খেলার সুনাম রয়েছে তাঁর। কোন বলটা বাউন্ডারিতে পাঠাবেন আর কোন বলটা ছাড়বেন, তা চকিতে বেছে নিতে পারেন। আর দুরন্ত ম্যাচ ফিটনেস।

এই মূলধন সম্বল করেই এ বারের আইপিএলে ১২ ম্যাচে ৫০৯ রান করে ফেলেছেন রাজস্থান রয়্যালসের ক্রিকেটার জস বাটলার। রাজস্থান অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে শুরুতে ইংল্যান্ডের উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান বাটলারকে খেলাচ্ছিলেন মিডল অর্ডারে। তখন প্রথম সাত ম্যাচের কোনওটিতেই তিরিশের বেশি রান করতে পারেননি। কিন্তু রাজস্থান অধিনায়ক পরের পাঁচ ম্যাচে বাটলারকে ব্যাটিং অর্ডারে উপরের দিকে তুলে এনে ওপেন করিয়েছেন। আর তার পরেই ব্যাটে রানের বন্যা বইছে বাটলারের। শেষ পাঁচ ম্যাচে তাঁর রান ৬৭, ৫১, ৮২, ৯৫ ও ৯৪। ফলে মঙ্গলবার ইডেনে এই বাটলারকেই তাড়াতাড়ি প্যাভিলিয়নে ফেরানোর অঙ্কই কষতে হচ্ছে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে।

নাইটদের তরফে সোমবার সাংবাদিক সম্মেলনে এসেছিলেন কোচ জাক কালিস। তিনিও বলে গেলেন, ‘‘ইডেনের উইকেট ভালই আছে। ব্যাটসম্যানরা রান পাবে। আর বাটলার তো এই মুহূর্তে ধারাবাহিক ভাবে ভাল খেলে যাচ্ছে। কাজেই ওর জন্য বিশেষ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।’’ তিনি যোগ করেন, ‘‘তবে শুধু বাটলার নয়। ওদের সব ব্যাটসম্যানদের আটকাতেই ‘হোম-ওয়ার্ক’ করেছি আমরা। এ বার মাঠে নেমে তা প্রয়োগ করে জেতার পালা।’’

বাটলারকে আটকাতে কী সেই পরিকল্পনা সে ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু বলেননি কালিস। তবে বাটলার যতটা আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান ততটা পরীক্ষিত নয় তাঁর রক্ষণ। স্পিনের বিরুদ্ধেও অতীতে সমস্যায় পড়তে দেখা গিয়েছে। ফলে ঘরের মাঠে বাটলারকে আটকাতে কেকেআর মঙ্গলবার শুরুতে স্পিনার এনে একটা মরিয়া চেষ্টা করতে পারে।

এ প্রসঙ্গে কালিস বলছেন তাঁর অধিনায়ক দীনেশ কার্তিকের কথা। কেকেআর অধিনায়ক সম্পর্কে দলের কোচ বলছেন, ‘‘সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয় দীনেশ কার্তিক। এই ধরনের পরিস্থিতি কী ভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, সে ব্যাপারে ওর অভিজ্ঞতা ভালই। আশা করছি, ইডেনে এমন রণনীতি নিয়েই ও নামবে যা জয় এনে দেবে দলকে।’’ লিগ টেবলে এই মুহূর্তে ১২ ম্যাচের পরে কলকাতা ও রাজস্থান দুই দলেরই পয়েন্ট ১২। প্লে-অফে যেতে হলে কলকাতাকে তাই শেষ দু’ম্যাচে জিততেই হবে। যদিও নেট রান রেটের অঙ্কে রাজস্থানের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে কলকাতা। কিন্তু শেষ তিন ম্যাচে যখন একটি জিতেছেন দীনেশ কার্তিকেরা, তখন অজিঙ্ক রাহানের রাজস্থান শেষ তিন ম্যাচ জিতে চনমনে মেজাজে এ দিন পা দিলেন কলকাতায়।

দলের চাপ কাটাতে কালিস যদিও বলছেন, ‘‘রান রেট নিয়ে ভাবছি না। বরং টানা দু’টো ম্যাচ জিতে প্লে-অফে চলে যেতে পারব বলেই বিশ্বাস। সুতরাং আমাদের ভাগ্য আমাদের হাতেই রয়েছে। বিপক্ষকে নিয়ে চিন্তিত নই।’’

প্রথম পর্বের ম্যাচে এই রাজস্থানকে সাত উইকেটে হারিয়েছিল কলকাতা। যে ম্যাচে বল হাতে নজর কেড়েছিলেন কেকেআরের নীতীশ রানা ও টম কারেন। ব্যাটেও ঝলসে উঠেছিলেন রবিন উথাপ্পা, সুনীল নারাইনরা। দ্বিতীয় জন গত ম্যাচেই ৭৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছেন। ফলে রাজস্থানের বিরুদ্ধেও তাঁর ওপেন করার সম্ভাবনাই বেশি। এ দিন ‘কে’ ও ‘এল’ ব্লকের সামনের নেটে ব্যাটিং কোচ সাইমন ক্যাটিচকে দিয়ে বল ছুড়িয়ে টানা এক ঘণ্টা ব্যাটিং অনুশীলন করলেন নারাইন। কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার মতো রাজস্থানের বিরুদ্ধে বাটলার-ভীতি  নারাইন-ঝড় দিয়েই দূর করতে চাইছে কলকাতা।