তাইল্যান্ডের গুহায় আটকে থাকা ১২ খুদে ফুটবলার এবং তাদের কোচের ঘটনা যেমন বিশ্ব জুড়ে সাড়া ফেলেছে, তেমনই ছুঁয়ে গিয়েছে বিশ্বকাপ ফুটবলকেও। বিশ্বকাপ খেলতে আসা অনেক ফুটবলারেরই নজর ছিল এই উদ্ধারকার্যের ওপর। মঙ্গলবার যা শেষ হওয়ার পরে ফুটবল দুনিয়া থেকে ভেসে আসতে থাকে একের পর এক অভিনন্দন বার্তা। তবে খুদে ফুটবলারদের সম্ভবত সব চেয়ে খুশি করবে একটি খবর। ফিফা থেকে ‘ওয়াইল্ড বোরস’ ক্লাবের এই খুদে ফুটবলারদের রাশিয়ায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখার জন্য।

মঙ্গলবারই সব ক’জন ফুটবলার এবং তাদের কোচকে জলমগ্ন গুহা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ফিফার থেকে দিন কয়েক আগেই চিঠি পাঠানো হয়েছিল তাইল্যান্ড ফুটবল সংস্থার কাছে। যেখানে খুদে ফুটবলারদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর কথা বলে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো তাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ফাইনাল দেখার জন্য। অবশ্যই যদি ফুটবলাররা সুস্থ থাকে, তা হলেই।

উদ্ধার হওয়ার পরে খুদেদের সবাইকে হাসপাতালে রাখা হয়েছে। এদের বয়স ১২ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। জানা গিয়েছে, কাউকে নিয়ে আশঙ্কার কোনও কারণ নেই। কিন্তু রবিবার বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তাদের আপাতত হাসপাতালেই রাখা হচ্ছে। তবে বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখা ফস্কে গেলেও বিশ্ব ফুটবলের সাক্ষী থাকার আরও সুযোগ থাকছে এই খুদে ফুটবলারদের সামনে।

আরও পড়ুন:  ‘ক্রোয়েশিয়া, ইংল্যান্ড তারকা-নির্ভর নয়’

ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড ক্লাবের পক্ষ থেকে এ দিন টুইট করা হয়েছে, ‘‘১২ জন খুদে ফুটবলার এবং তাদের কোচকে উদ্ধার করা হয়েছে জেনে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড ক্লাব দারুণ স্বস্তি পেয়েছে। আমরা ওয়াইল্ড বোরস ফুটবল দল এবং তাদের যারা উদ্ধার করেছে, সবাইকে আগামী মরসুমে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’’ আজ, বুধবার বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে খেলতে নামছে ইংল্যান্ড। যে দলের অন্যতম ডিফেন্ডার কাইল ওয়াকার মঙ্গলবার টুইট করেন, ‘‘খুদেদের সবাইকে সুস্থ অবস্থায় গুহা থেকে যে বার করে আনা গিয়েছে, এটা দারুণ ব্যাপার। আমাদের শার্টগুলো ওই বাচ্চাদের পাঠাতে চাই। কোন ঠিকানায় পাঠানো যায়, তা কি কেউ জানাবেন?’’

জার্মানির অন্যতম তারকা ফুটবলার টোনি খোস টুইট করেন, ‘‘দারুণ খবর। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।’’ প্রাক্তন ক্রিকেটার মাইকেল ভনের টুইট, ‘‘ইংল্যান্ড ফুটবল দলের জন্য গর্বিত। কিন্তু এটা তো নিছকই একটা খেলা। আরও বেশি গর্ব বোধ করছি, সেই সাত ব্রিটিশ ডাইভারের জন্য যারা তাইল্যান্ডের ওই খুদে ফুটবলারদের জীবন বাঁচানোয় সাহায্য করেছে।’’