• সুব্রত ভট্টাচার্য
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

মেসির পর বিদায় রোনাল্ডোর, জ্বলে উঠলেন কাভানি

Cristiano Ronaldo
ঠিক মেসির মতোই হতাশ রোনাল্ডো।

উরুগুয়ে ২ • পর্তুগাল ১

 

রাশিয়া বিশ্বকাপের নক আউট পর্ব শুরুর দিনেই জোড়া নক্ষত্র পতন!

এ বার যে তারকাদের দ্যুতি দেখার অপেক্ষায় ছিল ফুটবল বিশ্ব, তার মধ্যে লিয়োনেল মেসি এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো বিদায় নিলেন শনিবার। এল এম টেন এবং সি আর সেভেন বিদায় নেওয়ার দিনে বিশ্বকাপের মঞ্চে ভেসে উঠলেন দুই নতুন তারকা। ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে এবং উরুগুয়ের এদিনসন কাভানি। মেসি, রোনাল্ডোর পায়ে এ দিন গোল নেই, ওদের দু’জনের নামের পাশে জোড়া গোল। তবে একটা জিনিস প্রমাণিত, তা হল কোনও একজন ফুটবলের উপর নির্ভর করে আর যাই হোক বিশ্বকাপের সব ম্যাচ জেতা কঠিন।   

লা লিগায় যখন লড়াই হয় তখন লুইস সুয়ারেস চাপা পড়ে যান লিয়োনেল মেসি বনাম ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর লড়াইয়ের মধ্যে। কিন্তু দেশের জার্সিতে তো অন্য লড়াই। বার্সেলোনার সুয়ারেসের সঙ্গে রিয়াল মাদ্রিদের রোনাল্ডোর দ্বৈরথের দিকে তাই শনিবার নজর ছিল সবার। কিন্তু সেই লড়াই ছাপিয়ে উজ্জ্বল হয়ে উঠলেন লম্বা চুলের কাভানি। সুয়ারেসের সঙ্গে জুটি বেঁধে বিস্ফোরক হয়ে দাঁড়ালেন প্যারিস সাঁ জারমাঁর এই স্ট্রাইকার। আসাধারণ দুটো গোল করলেন কাভানি। কী দুর্দান্ত হেড, কী অসাধারণ প্লেসিং! চোখের আরাম দেয়। জুড়িয়ে দেয় প্রাণ।

সৌজন্য: প্রতিদ্বন্দিতার মধ্যেও সম্প্রীতি। রোনাল্ডো-কাভানি। ছবি: এএফপি।

এ বারের বিশ্বকাপের একটা জিনিস দেখছি, তা হল খেতাব জিততে আসা দলের সঙ্গে সমান তালে পাল্লা দিচ্ছে অন্যরা। সবাই অকুতোভয়। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের পার্থক্য মুছে যাচ্ছে প্রতিদিন। পর্তুগাল রয়েছে ফিফার তালিকায় ৪ এ। আর উরুগুয়ে ১৭। কিন্তু শনিবারের ম্যাচে দেখা গেল অস্কার তাবারেসের দল অনেক এগিয়ে। কী বল পজেসন! কী আক্রমণাত্মক মনোভাব! সবেতেই।

সুয়ারেস-কাভানিদের কোচ তাবারেস এ বারের বিশ্বকাপের সব চেয়ে প্রবীণ কোচ। দু’বার বিশ্বকাপ জেতা উরুগুয়েতে তাঁকে ডাকা হয় ‘এল মায়েস্ত্রো’ বলে। যার অর্থ শিক্ষক। তার হাতে এ বারের দলটা যেন নতুন প্রাণ পেয়েছে। সেই পাওয়ার পিছনে অন্যতম কারণ ক্লাব ফুটবলে সুয়ারেস, কাভানিদের গোলের মধ্যে থাকা। দিয়েগো গদিনের মতো রক্ষণে থাকাও শক্তি জুগিয়েছে তাবারেসকে। সে জন্যই শুরু থেকেই পরিকল্পনা মাফিক ফুটবল দেখা গিয়েছে উরুগুয়ের খেলায়। পর্তুগালের বিরুদ্ধে খেলতে নেমে রোনাল্ডোকে আটকানোর জন্য জোনাল মার্কিংয়ে জোর দিয়েছিলেন তাবারেস। তবুও রোনাল্ডো আটকে পড়ে থাকার লোক নন। আপ্রাণ চেষ্টা করে গিয়েছেন। এ দিন অবশ্য ফ্রি-কিকের সেই জাদু দেখাতে পারেননি তিনি। ব্যর্থ হয়েছেন। প্রচুর মিস পাস করেছেন। তা সত্ত্বেও সমতায় ফিরেছিল পর্তুগাল। ১-১ করে দিয়েছিলেন পেপে। কিন্তু কাভানির বক্সের উপর থেকে অসাধারণ গোল সব আশা শেষ করে দিয়ে গেল। কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের সামনে পড়ে গেল উরুগুয়ে। যা প্রত্যাশিত ছিল না।

ম্যাচের শেষে দেখলাম রোনাল্ডো ঠিক মেসির মতোই হতাশ ভাবে ফিরে যাচ্ছেন ড্রেসিংরুমে। দেশের লড়াই শেষ। ফের ক্লাবের লড়াইতে ফিরে যাবেন তারা। খেলবেন এল ক্লাসিকো। বিশ্বকাপ অধরাই থেকে গেল দু’জনের কাছে।       

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন