• নিজস্ব প্রতিবেদন
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

মিশন মস্কো: কতটা তৈরি চাণক্যেরা, ফরাসি বিপ্লবে পথের কাঁটা কোচের নির্বাচন নীতি

দেশঁর রণনীতি নিয়ে যত প্রশ্ন, নায়ক হওয়ার লগ্ন পোগবার

Didier Deschamps and Paul Pogba
অগ্নিপরীক্ষা: বিশ্বকাপে ফ্রান্সের সাফল্য নির্ভর করছে এই জুটির উপর। দেশঁ এবং পোগবা। ফাইল চিত্র

Advertisement

রাশিয়ায় সব চেয়ে শক্তিশালী দলগুলির একটি ধরা হচ্ছে ফ্রান্সকে। তবু অসংখ্য প্রশ্ন যেন তাড়া করে বেড়াচ্ছে মিশেল প্লাতিনি, জ়িনেদিন জ়িদানের দেশকে।

সব চেয়ে বেশি করে প্রশ্ন উঠছে এমন এক জনকে নিয়ে যাঁর নেতৃত্বে ফ্রান্স ১৯৯৮ বিশ্বকাপ জিতেছিল। দিদিয়ে দেশঁ কি সঠিক কোচ প্রতিভায় ভরা এই ফ্রান্স দলের জন্য? ফ্রান্সের ফুটবল মহলে একটা ধারণা আছে যে, দিদিয়ে আসলে খুব ভাগ্যবান এক ফুটবলার এবং কোচ। সেই ধারণা সম্পূর্ণ ফলছে কোথায়? নিজে ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপ জিতলেও ২০১২-তে কোচ হিসেবে ফ্রান্সের দায়িত্ব নেওয়ার পরে যেন ভাগ্যও তাঁকে ছেড়ে চলে গিয়েছে।

দু’বছর আগে ইউরো কাপ তার সব চেয়ে বড় প্রমাণ। গোটা প্রতিযোগিতা ধরে দেশঁর রণনীতির জয়জয়কার। কিন্তু ফাইনালে গিয়ে পর্তুগালের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ। তা-ও কী, পর্তুগালের সেরা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো শুরুতেই চোট পেয়ে ছিটকে যাওয়ার পরেও জেতা হল না ফ্রান্সের। বিশেষজ্ঞরা কিন্তু দেশঁকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন সেই হারের জন্য। তাঁদের পর্যবেক্ষণ, ইউরো ফাইনালে অতি সাবধানতা নিতে গিয়ে ফ্রান্সকে ডুবিয়েছিলেন দেশঁই। রাশিয়া রওনা হওয়ার আগে সেই ফাইনালের কথা তুলেই প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা— মিডাস কি তাঁর সোনার ছোঁয়া হারিয়েছেন?

ফুটবলাররা এখনও তাঁর উপর আস্থা রাখছেন। কিন্তু কয়েকটি ক্ষেত্রে দেশঁর সিদ্ধান্ত নিয়ে ঝড় বয়ে গিয়েছে। যেমন গত বছর জুনে সুইডেনের বিরুদ্ধে যোগ্যতা অর্জন পর্বের ম্যাচে তাঁর দল নির্বাচনের প্রবল সমালোচনা হয়েছিল। ব্লেজ মাতুইদি, মুসা সিসোকো এবং দিমিত্রি পায়েতকে সে দিন দেশঁ খেলিয়েছিলেন এনগোলো কঁতে, উসমান দেম্বেলে এবং কিলিয়ান এমবাপেকে বসিয়ে। ঘটনা হচ্ছে, বেঞ্চে বসে থাকা ত্রয়ী সেই সময়ে অনেক ভাল ফর্মে ছিলেন। লে ব্লু সেই ম্যাচটি হেরে যায় এবং সে দিন থেকেই দেশঁর রণনীতি আর সিদ্ধান্ত নিয়ে সন্দেহের বাতাবরণ তৈরি হয়ে গেল। পায়েত এ বারের বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গিয়েছেন চোটের জন্য। কিন্তু বেশি করে কথা হচ্ছে সুই়ডেন ম্যাচে তাঁকে না খেলানো নিয়ে।

এখানেই শেষ নয়। গত সেপ্টেম্বরে তুলুজে ফ্রান্স হারাতে পারেনি লাক্সেমবার্গকে। সেই ম্যাচেও দেশঁর দল নির্বাচন নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন উঠেছিল। গত মার্চে কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে ২-০ এগিয়ে যাওয়ার পরেও ফ্রান্স ২-৩ হারে। ফের কথা ওঠে দেশঁর রণনীতি এবং ফুটবলার নির্বাচন নিয়ে। প্রবল সমালোচনার মুখে দেশঁ বলেন, ‘‘আমি আমার বিশ্লেষণ অনুযায়ী দল নির্বাচন করি। আমার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী কোচিং করি। অন্যদের কথা শুনে নয়। যাদের নির্বাচন করি, তারা ব্যর্থ হলে দায় আমার। নিজে সেই দায় নিই।’’ ফ্রান্সের সঙ্গে দেশঁর চুক্তি ২০২০ পর্যন্ত কিন্তু তিনিও জানেন, ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে বিশ্বকাপের ফলের উপর। বিশেষ করে যখন জ়িনেদিন জ়িদান নামে ফ্রান্সের আর এক কিংবদন্তি রিয়াল মাদ্রিদের কোচিং ছেড়ে ফাঁকা হয়ে গিয়েছেন!

রাশিয়ায় ফরাসি বিপ্লব ঘটবে কি না, সেই প্রশ্নের কেন্দ্রে একা দেশঁ আছেন, এমন নয়। কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে থেকে যাচ্ছেন আরও এক জন— পল পোগবা। ফ্রান্সের ফুটবল ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে, বিশ্বকাপ সাফল্যে সব সময় কেউ না কেউ দুর্দান্ত খেলে নায়ক হয়েছেন। মাঠের মধ্যে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৯৫৮-তে রেমন্ড কোপার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জোরে ফ্রান্স তৃতীয় স্থান পেয়েছিল। এর পর প্লাতিনির প্রজন্ম। ১৯৮২ এবং ১৯৮৬ বিশ্বকাপে যাঁরা সেমিফাইনালে তুলেছিলেন। ১৯৮৪-তে ইউরো জিতিয়েছিলেন। ১৯৯৮ থেকে ২০০৬ ছিল জ়িদান যুগ। বিশ্বকাপ জেতা-সহ আরও অনেক সাফল্য এনেছিলেন জিজু।

ফ্রান্সের সেই পরম্পরায় নতুন এক নায়ক চাই রাশিয়ায়। ১৯৯৮-তে দেশঁর বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য রবার্ত পিরেস মনে করেন, সেই দায়িত্ব নেওয়া উচিত পল পোগবার। ‘‘ফ্রান্সকে যদি এই বিশ্বকাপ জিততে হয়, তা হলে পোগবাকে সেরা ফর্মে থাকতে হবে। এটাই ওর তারকা হওয়ার সময়। পোগবা বলেছে, ও দায়িত্ব নিতে তৈরি। এটাই সময় ওর বস্‌ হওয়ার,’’ বলছেন পিরেস। দ্রুত যোগ করছেন, ‘‘মাঠে দাঁড়িয়ে পোগবাকে দায়িত্ব নিতে হবে। ফ্রান্স দলটায় প্রচুর প্রতিভা রয়েছে। এমবাপে, দেম্বেলেদের নেতৃত্ব দিতে হবে পোগবাকে।’’

যদিও পোগবা ছাড়াও প্রতিষ্ঠিত অনেক ফুটবলার রয়েছেন ফ্রান্স দলে। হুগো লোরিস, রাফায়েল ভারান, মাতুইদি, গ্রিজম্যান— সত্যিই বিশ্ব মানে ফুটবলারের অভাব নেই তাঁদের। অনেকের মতে, বিশ্ব ফুটবলকে চমকে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে এমবাপে এবং দেম্বেলেরও। ক্লাব ফুটবলে যাঁরা উচ্চ দামে বিক্রি হয়েছেন।

আবার একটা দলের বিশ্লেষণ, ইউরো ২০১৬-তে স্বপ্নভঙ্গ হওয়া খানখান করে দিয়েছে দলটির আত্মবিশ্বাস। জিজুর জাদুর পরে বৃহত্তম মঞ্চে তারা সেই ‘চোকার্স’ হয়ে থাকবে কি না, সেটাই দেখার। ইউরো ফাইনাল হারের পর থেকে দারুণ কিছু করতে দেখা যায়নি দলটিকে। তা সে যতই বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলাররা এই দলে থাকুন। দেশটার ফুটবল আকাঙ্খারও কি অধঃপতন ঘটেছে? সেই প্রশ্ন উঠছে কারণ ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনের প্রধানই মন্তব্য করেছেন, তাঁদের লক্ষ্য বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠা! কেন শুধুই সেমিফাইনালের ভাবনা? কাপ জেতা কি আজ অনেক দূরের স্বপ্ন প্লাতিনি, জ়িদানের দেশের জন্য? দেশঁ নিজেও বিভ্রান্তিতে রয়েছেন সেরা ছক কী, তা নিয়ে। পুরনো ৪-৪-২ ধরে রাখবেন না ৪-৩-৩ মন্ত্রে কাপ জয়ের জন্য ঝাঁপাবেন?

উত্তর খুঁজছেন স্বয়ং দেশঁও!

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন