কালিনিগ্রাদে গ্রুপের শেষ ম্যাচে অন্তত ১ পয়েন্ট দরকার স্পেনের নকআউট পর্বে পৌঁছতে। স্পেনের তারকা ফুটবলার ইস্কোর বিশ্বাস, যে দর্শন নিয়ে ২০১০ সালে তাঁর দেশ বিশ্বসেরা হয়েছিল তাকেই অনুসরণ করা এই মুহূর্তে সব চেয়ে বেশি দরকার।

স্পেনের হয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করতে এসে রিয়ালের প্লে-মেকার ইস্কো বলেছেন, ‘‘আমাদের নিজেদের খেলার ধরন ধরে রাখতে হবে। সেটা খুব জরুরি। মনে রাখতে হবে এই ধরনই  অন্য আর পাঁচটা দেশের চেয়ে আমাদের আলাদা করেছিল।’’

কেমন সে ধরন তাও বিশ্লেষণ করেছেন ইস্কো, ‘‘আমাদের প্রচুর পাস খেলতে হবে। নিজেদের কাছে বলটা যাতে থাকে সেটা দেখতে হবে। আর যদি খুব দ্রুত এই কাজটা করতে পারি তা হলে সুযোগ আসবেই।’’

ইস্কো স্পেনের খেলার যে ধরনের কথা বলছেন, বিশ্বফুটবলে তা পরিচিত ‘তিকিতাকা’ হিসেবে। এই বিশ্বকাপে দারুণ ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে পর্তুগালের সঙ্গে প্রথম ম্যাচ তারা ৩-৩ ড্র করেছে। ইরানের বিরুদ্ধে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে জিতেছে ১-০। রাশিয়ায় এখনও স্পেনের ফুটবলে তিকিতাকার সেই জাদু অনুপস্থিত। হতে পারে পুরনোদের অনেকে অবসর নেওয়ায় এটা হচ্ছে। বিশেষ করে কিংবদন্তি জাভির অবসরের পরে। এখন অনেক নতুন মুখ। জাভিদের শূন্যস্থান পূরণ করার কঠিন দায়িত্বে লুকাস ভাসকোয়েস, মার্কো আসেনসিয়ো আর ইস্কোরা। অনেকেরই আবার এটাই প্রথম বিশ্বকাপ। তাই ইস্কোর কথায় পরিষ্কার চাপ একটা আছেই, ‘‘জাতীয় দলের হয়ে এত বড় প্রতিযোগিতায় আমি এই প্রথম খেলছি। বিরাট কিছু অসুবিধা হচ্ছে না। তবে অবশ্যই দলের সিনিয়ররা আমাদের চেয়ে অনেক কম চাপ নিয়ে খেলছে। খেলছে ওদের অভিজ্ঞতার জন্য।’’

রাশিয়ায় ইস্কো এ বার দিয়েগো কোস্তার ঠিক পিছন থেকে স্পেনের খেলাটা তৈরি করছেন। খুব খারাপ খেলছেনও না। তবে স্পেনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে তাঁদের যে আরও ভাল খেলতে হবে মেনে নিচ্ছেন জ়িনেদিন জ়িদানের অন্যতম প্রিয় শিষ্য। বলছেন, ‘‘আসল কথা সব সময় মনটা ফুটবলে থাকছে কি না। এটাই বড় চ্যালেঞ্জ।’’

মরক্কো ম্যাচের আগে সাংবাদিকদের সামনে এসেছেন স্পেনের নতুন কোচ ফের্নান্দো ইয়েরো। স্পেনের নকআউটে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে তাঁর কথা, ‘‘মনে রাখবেন এটা বিশ্বকাপ। কোনও ম্যাচই সহজ নয়। মরক্কোকেও তাই গুরুত্ব দিতে হবে। তা ছাড়া আমাদের আরও উন্নতিও করতে হবে। কেউ এখানে কাউকে ছেড়ে কথা বলবে না। অনেকে শেষ ষোলোয় খেলা নিশ্চিত করে ফেলেছে। কিন্তু আমাদের গ্রুপ  কঠিন। তাই তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করা ছাড়া অন্য কিছু ভাবা সম্ভব নয়।’’