বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে শেষ আটের ম্যাচে হেরে ছিটকে যাওয়ার পরেই দেখা যায় দুঃখে ভেঙে পড়েছেন নেমার দা সিলভা স্যান্টোস (জুনিয়র)। হাঁটু মুড়ে মাঠে বসে পড়েন তিনি। নেমারকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য প্রথমেই যাঁকে এগিয়ে আসতে দেখা যায়, তিনি তাঁর দলের কোনও সতীর্থ নন। ব্রাজিলের সমর্থকও নন। তিনি থিয়েরি অঁরি। রাশিয়া বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের সহকারী কোচ। অঁরিকে দেখেই নেমারকে সান্ত্বনা দিতে এগিয়ে আসেন বেলজিয়ামের অধিনায়ক এডেন অ্যাজারও। তিনিও ১০ নম্বর, নেমারও ১০ নম্বর। দু’জনে প্রতিপক্ষ। দু’জনের দ্বৈরথে অ্যাজার জিতলেন। তবু ম্যাচের পরে টেনে তুললেন প্রতিপক্ষ তারকাকে।

রাশিয়া বিশ্বকাপকে অনেকেই বলছেন অঘটনের বিশ্বকাপ। আর একের পর এক অঘটন যে মাঠে ঘটছে, তার নাম কাজ়ান এরিনা। সে মাঠেই ফ্রান্সের বিরুদ্ধে হেরে বিদায় নিয়েছে আর্জেন্টিনা। দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে হেরেছে গত বারের  চ্যাম্পিয়ন জার্মানি। এ বার সেই কাজ়ানেই বিদায় নিলেন নেমারেরা। ম্যাচ শেষে নেমারের পাশাপাশি ভেঙে পড়তে দেখা গিয়েছে ফিলিপে কুটিনহোকেও। তাঁদের দু’জনকেই প্রথমে জড়িয়ে ধরেন অঁরি। নেমারকে নিয়েই মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান কিংবদন্তি অঁরি।

শেষ আটে ব্রাজিলকে হারানোর পরে গোটা বেলজিয়াম দল যখন জয়োৎসব করছে। তখন অঁরির দিকে ক্যামেরা নিয়ে যেতেই দেখা যায় মাঠে ছড়িয়ে থাকা বোতল কুড়িয়ে ড্রেসিংরুমে নিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তাঁকে দেখে একে একে, সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন অ্যাজার, ভ্যানসঁ কোম্পানি, রোমেলু লুকাকু, কেভিন দে ব্রুইনেরা। যা দেখে বোঝা যায় বেলজিয়াম দলের বোঝাপড়ায় কোনও অভাব নেই। মাঠে নেমারদের বিরুদ্ধে যে ভাবে দল হিসেবে তাঁরা খেলেছেন, মাঠের বাইরেও একই ভাবে একে অপরকে সাহায্য করছেন তাঁরা। বিশ্বকাপে জাপান বিদায় নিয়েও মাঠ ও ড্রেসিংরুম পরিষ্কার করেছে। বেলজিয়াম জেতার পরে একই কাজ করল।

অ্যাজারদের পরের ম্যাচ অঁরির দেশ ফ্রান্সের বিরুদ্ধে। ফ্রান্সের হয়ে ১৯৯৮ বিশ্বকাপ জেতেন অঁরি। ফাইনালে ওঠার জন্য হয়তো প্রাক্তন ফরাসি তারকার টোটকাই প্রধান অস্ত্র অ্যাজারদের কাছে।