কলম্বিয়া ম্যাচের ধকল সামলে হ্যারি কেন-রা কতদূর কী করবেন তা নিয়ে সাংঘাতিক উৎকণ্ঠায় ছিলেন ইংল্যান্ডের কোচ গ্যারেথ সাউথগেট। তাই সুইডেনকে হারিয়ে উঠে আবেগে ভাসলেন তিনি, ফুটবলারদের ভরিয়ে দিলেন প্রশংসায়। সাউথগেটের কথায়, ‘‘কলম্বিয়া ম্যাচ জিততে প্রচুর ধকল গিয়েছিল। মানসিক ভাবেও নিজেদের নিংড়ে দিয়েছিল ছেলেরা। জানতাম সুইডেন ম্যাচ নতুন একটা শুরু। ভাবতেই পারিনি রক্ষণ এতটা ভাল খেলে দেবে। আর ডিফেন্ডাররা যখন পারেনি তখন গোলরক্ষক অসাধারণ হয়ে উঠেছিল।’’

সুইডেনকে হারিয়ে দেওয়ায় তাঁদের নিয়ে ইংরেজদের মধ্যে প্রত্যাশার চাপ এখন আকাশচুম্বী। সবাই চান ছেষট্টির বিশ্বকাপের পুনরাবৃত্তি। সাউথগেটও স্বীকার করলেন সে কথা, ‘‘বেশি প্রত্যাশায় চাপ বেড়ে যায়। ছেলেদের বুঝতে হবে যেখানে পৌঁছেছি সেটাও অনেক। তাই খোলা মনে সেমিফাইনালটা খেলতে হবে। এটা ফুটবলারদের বোঝানোই এখন আমার সব চেয়ে বড় কাজ।’’

ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে তুলতে পেরে সাউথগেট কিন্তু দারুণ গর্বিতও। তাঁর প্রতিক্রিয়া, ‘‘বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে সেমিফাইনাল খেলব ভাবনাটাই আলাদা অনুভূতির। সত্যিই গর্ব হচ্ছে। দলে সিনিয়র অনেকে এ বার খেলার সুযোগ পায়নি। আমি জানি, তবু ওরা আমাদের সঙ্গে হাসিমুখেই আছে। আজ এখানে এসেছি ওদের জন্যও।’’

শনিবার গোটা ইংল্যান্ডেরই মুখে হাসি। লন্ডন থেকে লেস্টার— রাস্তায় মানুষের ঢল, পানীয়ের ফোয়ারা। যেন আনন্দে পাগল হয়ে গিয়েছিলেন ইংরেজরা। একই ছবি সামারার ফ্যান জোন-এও। হ্যারি কেনের নামে জয়ধ্বনি। দালে আলিদের নিয়ে পোস্টার হাতে হাতে।  সামারা এরিনার স্টেডিয়ামেও আবেগে ভাসলেন ইংল্যান্ডের ফুটবলাররা। হ্যারি কেনরা তো গ্যালারি উঠে গিয়ে সমর্থকদের উষ্ণতার স্বাদ নিয়ে আনন্দে মাতলেন। যেন বিশ্বকাপটাই জিতে ফেলেছে! আসলে বরাবরই প্রায় সুইডেনের কাছে বিধ্বস্ত হয়েছে ইংরেজরা। কিন্তু শনিবার ছবিটা ঠিক উল্টো। এবং তার জন্যও অনেকেই কৃতিত্ব দিচ্ছেন সাউথগেটকে। ফুটবলারদের সঙ্গে তাঁর বন্ধুর মতো সম্পর্ক। শিবিরের কোথাও আতঙ্কের কোনও চিহ্ন ছিল না। এই কোচকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত  ইংল্যান্ডের প্রাক্তনরাও। ডেভিড প্লাট যেমন বললেন, ‘‘এক জন আধুনিক কোচ কেমন হওয়া উচিত তার আদর্শ দৃষ্টান্ত সাউথগেট। ও নিজের ছেলেদের উপর ভরসা করে। সবার সঙ্গে বন্ধুর মতো মেশে। এতদিন আমাদের দলে এটাই ছিল না।’’

শুধু ফুটবলারদের সঙ্গে বন্ধুর মতো মেশা নয়। সাউথগেট একই সঙ্গে খেলিয়ে যাচ্ছেন একঝাঁক নতুন ও কমবয়সি সম্ভাবনাকেও। সুইডেনের বিরুদ্ধে ইংল্যান্ডের গোল করা দালে আলি যেমন। যাঁকে নিয়ে সাউথগেটের প্রতিক্রিয়া, ‘‘দালের খেলা দেখতে কী যে ভাল লাগে! ও একদিন মহাতারকা হয়ে উঠবে। সব সময় ছেলেটা গোলের জন্য দৌড়চ্ছে। তা ছাড়া ফিনিশ করতেও দারুণ দক্ষ।’’ আর দালে নিজে বলছেন, ‘‘গোল করেছি। কিন্তু আরও ভাল খেলা উচিত ছিল আমার। তবে দলটা দারুণ খেলছে। সেটাই আসল।’’

আর হ্যারি কেন? সুইডেনকে হারিয়ে উঠে তাঁর কথা, ‘‘আমাদের সামনে আরও বড় একটা খেলা আছে। সব চেয়ে বড় ব্যাপার সেটা সেমিফাইনাল। আমরা আত্মবিশ্বাসী।’’ কেন প্রশংসা করেছেন সুইডেনেরও, ‘‘এত দিন এক রকম খেলা হয়ছে। কিন্তু সুইডিশরা লম্বা পাসে খেলে। আমাদের তাই মানিয়ে নিতে অসুবিধে  হয়েছে। তবে সেটপিসে ওদের ছাপিয়ে গিয়েছি আমরা।’’