দু’জনের কেউই আর এই বিশ্বকাপে নেই। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো ও লিয়োনেল মেসি। কিন্তু রাশিয়ায় না থেকেও তাঁরা দু’জনই এমন এক জনের মনের মধ্যে আছেন, যিনি বিশ্বকাপে সোনার বুটের দাবিদার।

তিনি ইংল্যান্ডের হ্যারি কেন। সুইডেন ম্যাচের চব্বিশ ঘণ্টা আগে সাংবাদিক সম্মেলন করতে এসে ইংল্যান্ড অধিনায়ক বলে গেলেন, ‘‘কারও ক্ষমতা নেই মেসি বা রোনাল্ডোর নাম মুছে দেওয়ার। বিশ্বকাপে না থাকলেও এই দু’জনই বিশ্বসেরা। ওদের দেখেই আমরা অনুপ্রাণিত হই। ওদের উচ্চতায় পৌঁছনোই আমাদের লক্ষ্য থাকে।’’

ফুটবল পণ্ডিতেরা মনে করছেন, টটেনহ্যামের স্ট্রাইকার শনিবার সুইডেনের বিরুদ্ধেও আরও ভাল কিছু করতে প্রাণপাত করবেন। হ্যারি কেন নিজের মুখেও বললেন সে কথা, ‘‘এখন পর্যন্ত যা যা করতে পেরেছি তাতে আমি খুশি। কিন্তু আমি চাই আরও ভাল কিছু। ফুটবল জীবনে ওদের মতো সাফল্য পাওয়াই আমার লক্ষ্য। আপাতত সুইডেন ম্যাচ। এই ম্যাচটায় দারুণ কিছু করতেই।’’   

গ্যারেথ সাউথগেট আবার বলে দিচ্ছেন, দারুণ কিছু করে ইংল্যান্ডকে এ বার সুযোগের সদ্ব্যবহার করতেই হবে। প্রবীণ আর অভিজ্ঞদের নিয়ে গড়া সুইডেন দলের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে হ্যারি কেনদের জ্বলে ওঠার অপেক্ষায় তিনি। সামারা এরিনায় কোয়ার্টার ফাইনাল যুদ্ধের আগে ইংরেজ কোচের মন্তব্য, ‘‘আমাদের সামনে বিরাট সুযোগ। আশা করছি দু’বছরের মধ্যে এই দলটাই আরও ভাল জায়গায় চলে যাবে। কিন্তু আপাতত চব্বিশ ঘণ্টা পরে কী হয় সেটাই আসল। হতে পারে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার এত ভাল সুযোগ আর আসবে না।’’

রাশিয়ায় ইংল্যান্ড এ বার কলম্বিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে শেষ আটে উঠেছে। ২০০৬ সালের পরে প্রথম কোনও বড় ফুটবল প্রতিযোগিতায় ইংরেজরা কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছল। আর বিশ্বকাপে তাদের আট বার টাইব্রেকারে যাওয়া ম্যাচে মাত্র দু’বার জিতল। অবশ্য শনিবার সুইডেনকে হারাতে পারলে ১৯৯০ সালের পরে প্রথম তারা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলবে।

সুইডেন দল নিয়ে সাউথগেট বলেছেন, ‘‘সুইডেনের প্রতি আমাদের অসীম শ্রদ্ধা। অতীতে ওদের ক্ষমতাকে খাটো করে দেখে অনেক দলই ভুল করেছে। আমরা সেই ভুল করব না।’’ সঙ্গে যোগ করেছেন, ‘‘ছেলেদের বলেছি, কখনও ভেব না যে আমরা ওদের থেকে ভাল। ওরা অনেক বেশি অভিজ্ঞ দল। আমাদের বিরুদ্ধে রেকর্ডও অনেক ভাল।’’

ইংল্যান্ডের সঙ্গে সুইডেনের এখন পর্যন্ত মোট পনেরো বার খেলা হয়েছে। সেখানে ইংল্যান্ড জিতেছে মাত্র দু’বার। ২০০২ এবং ২০০৬ বিশ্বকাপে এই দু’দেশের খেলা ড্র হয়েছিল। এবং সাম্প্রতিকতম সাক্ষাতে সুইডেনই ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল ৪-২ গোলে। সেই ম্যাচে জ্লাটন ইব্রাহিমোভিচ একাই চারটি গোল করেছিলেন। এ সবই মনে করানো হলে সাউথগেটের প্রতিক্রিয়া, ‘‘ঠিকই বলা হচ্ছে। তা ছাড়া এ বারও আমাদের খেলায় অনেক ভুল হচ্ছে। তাই আরও এগিয়ে যেতে হলে সুইডেনকে দুর্বল দল ভাবাটা মারাত্মক বোকামি হবে।’’