কিলিয়ান এমবাপের সামনে পড়লে তিনি একটা কাজই করতেন। আকাশের দিকে মুখ তুলে বলতেন, ‘‘আমাকে সাহায্য করো!’’ তিনি— ইংল্যান্ডের প্রাক্তন ডিফেন্ডার রিয়ো ফার্ডিনান্ড। বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে মঙ্গলবারের ম্যাচে এমবাপেকে দেখার পরে ফার্ডিনান্ড মজা করে বলছেন, ‘‘এমবাপের গতিকে অবৈধ ঘোষণা করা উচিত।’’

কেন এমবাপে এত বিপজ্জনক? ফার্ডিনান্ডের ব্যাখ্যা, ‘‘ডিফেন্ডার ছিলাম বলে জানি, গতি সব সময় সমস্যায় ফেলে দিতে পারে রক্ষণকে। বিপক্ষের কোনও ফুটবলারের এ রকম গতি থাকলে নিশ্চিত ভাবে আতঙ্ক তৈরি হয়ে যায়। ১৯ বছর বয়সের একটা ছেলে বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে বিপক্ষ দলে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে, এটা কিন্তু একটা বিরাট ব্যাপার।’’ তা হলে কী ভাবে থামানো যায় এই ফরাসি ফরোয়ার্ডকে? ফার্ডিনান্ডের টোটকা, ‘‘যত বেশি সম্ভব লোককে দিয়ে ঘিরে রাখতে হবে এমবাপেকে।’’

কিন্তু ঘিরে রাখার পরেও যে বিপক্ষের মধ্যে ত্রাসের সঞ্চার করতে পারেন, তা বেলজিয়াম ম্যাচেই বুঝিয়ে দিয়েছেন এমবাপে। তাঁর একটা ‘ড্রিবল’ এখন আলোচনার কেন্দ্রে। যেখানে একটা ছোট্ট টোকায় এমবাপে বেলজিয়াম ডিফেন্সকে বেসামাল করে দিয়ে অলিভিয়ের জিহুর জন্য বল সাজিয়ে দিয়েছিলেন। যা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ম্যাচের পরে এমবাপে বলেছেন, ‘‘ব্যাপারটা আমার সহজাত।’’ যোগ করেন, ‘‘আমি দেখেছিলাম, জিহু ফাঁকা আছে। ওর আশেপাশে বিপক্ষের কেউ নেই। তাই ওকে পাসটা বাড়াই। গোলটা হলে দারুণ হত।’’

আরও পড়ুন:  রক্ষাকর্তা লরিসকেও যেন না ভোলে ফ্রান্স

বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে স্যামুয়েল উমতিতির গোলে ১-০ এগিয়ে যায় ফ্রান্স। যা নিয়ে এমবাপে বলেছেন, ‘‘আমরা আসল কাজটা আগেই করে ফেলেছিলাম। গোল দিয়ে এগিয়ে গিয়েছিলাম। তখন আমাদের কাজটা ছিল, গোল না খাওয়া। শেষের দিকের ওই সময়টা খুব সুখকর না হলেও লড়াইয়ের ফল আমরা পেয়েছি। কী ভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে লড়াই করতে হয়, তা আমরা জানি। এও জানি, আমরা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছি।’’ বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠা নিয়ে উচ্ছ্বসিত এমবাপে বলেছেন, ‘‘অস্বীকার করব না, আমরা দারুণ খুশি। ভীষণ গর্বিতও।’’