‘আমরা জিতবই’ এ রকম হুঙ্কার এখনও দেননি দু’জনের কেউ। তবে মাঠে নামার আগে তাঁদের যা শরীরী ভাষা তাতে, ম্যাচ জিততে জীবন বাজি রাখতেও যেন রাজি দু’জনে। দেশকে জিতিয়ে প্রতিশোধ নিতে চাইছেন ওঁরা।

রাশিয়া বিশ্বকাপের পরিসংখ্যান বলছে, ফ্রান্স গোলকিপার হুগো লরিস এবং বেলজিয়াম গোলকিপার থিবো কুর্তোয়া দু’জনেই পারফরম্যান্সের নিরিখে একই বিন্দুতে দাঁড়িয়ে। দু’টো করে ম্যাচে কোনও গোল খাননি ওঁরা। ফিফার দেওয়া পয়েন্টের বিচারে লরিস সামান্য এগিয়ে থাকলেও আজ সেটা মুছে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে কুর্তোয়ার সামনে।

কিন্তু দু’জনের লড়াইটা তো এখন শুধু সোনালি গ্লাভস জেতার মধ্যেই আর সীমাবদ্ধ নেই। সেটা ছড়িয়ে পড়ছে ক্লাবের উঠোনেও। ফ্রান্স বনাম বেলজিয়ামের আজকের সেমিফাইনাল যুদ্ধ বহু হবু তারকার দাপাদাপিতে আগুনে হয়ে উঠলেও তাই সবার নজর থাকবে লরিস বনাম কুর্তোয়ার মধ্যে কে সেরা হন তা দেখার জন্য। টাইব্রেকারে ম্যাচ গেলে তো তাঁদের উপরই নির্ভর করতে হবে পুরো টিমকে। যে ভাবে এ বার বহু ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়িয়েছে তাতে লরিস বা কুর্তোয়া নায়ক হয়েও যেতে পারেন শেষ পর্যন্ত।

আরও পড়ুন:  মাঝমাঠের লড়াই আজ ঠিক করে দেবে ম্যাচের ভাগ্য

 বিশ্বকাপের ম্যাচ শুরুর চব্বিশ ঘণ্টা আগে যে  ছবি দেখছে রাশিয়া তা হল, দেশের জার্সিতে ক্লাবের আকচা-আকচি।  টটেনহ্যামের লরিস আর চেলসির কুর্তোয়ার মধ্যে সেরা হওয়ার যুদ্ধটা এ বার চলছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ থেকেই। কিন্তু ফিনল্যান্ড উপসাগরের তীরে সেটা এভাবে আছড়ে পড়বে কে জানত!

দুই গোলকিপার শেষ চারে দলকে তোলায় মুখ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন এ বার। উরুগুয়ের মার্টিন সেজার্সের হেড উড়ে গিয়ে রুখে দিয়েছিলেন লরিস। কোয়ার্টার ফাইনালে সে দিন ওই গোলটা হয়ে গেলে সমস্যায় পড়ত ফ্রান্স। আর কুর্তোয়া তো ব্রাজিল ম্যাচে অন্তত পাঁচটা নিশ্চিত গোল বাঁচিয়েছেন। না হলে বেলজিয়ামের শেষ চারে যাওয়া হত না।

তাই এ বার একে অন্যকে হারানোর জন্য মরিয়া।  সোমবার বিকেলে সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেডিয়ামে দলের সঙ্গে অনুশীলন করতে এসেছিলেন ফ্রান্স গোলকিপার হুগো লরিস। সাংবাদিক সম্মেলনে যাওয়ার আগে নিজের দেশের এক ওয়েবসাইট প্রতিনিধিকে ফ্রান্স অধিনায়ক বলে দেন, ‘‘টটেনহ্যামের জন্য আমি গর্বিত। আমাদের কোনও ফুটবলারের হাতেই কাপ উঠবে এ বার। সেমিফাইনালে ওঠা চার দলে নয় জন আমাদের ক্লাবের ফুটবলার রয়েছে। যে রেকর্ড  বিশ্বের কোনও ক্লাবের এ বার নেই। এমনকি  ক্রোয়েশিয়া দলেও আমাদের ক্লাবের দু’জন আছে।’’ লরিসের এই দাবিকে ঘুরিয়ে তাঁকে কটাক্ষ বলে মনে করছেন কুর্তোয়া। মস্কোয় বেলজিয়ামের অনুশীলনের পর সন্ধ্যায় সেন্ট পিটার্সবার্গে নেমে তিনি বলে দিয়েছেন, ‘‘কে কোথায় কী বলছে জানি না। এ বার বেলজিয়াম যা খেলছে তাতে আমাদেরই কাপ জেতা উচিত। চেলসির কোনও ফুটবলারকে হয়তো দেখবেন বিশ্বকাপ হাতে ছবি তুলতে দেখবেন।’’ লরিস পাঁচ বছরের বড় কুর্তোয়ার চেয়ে। দু’জনেই ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলছেন অনেক দিন। ফলে ক্লাবে তাঁদের প্রতি টান থাকবেই। এখন যে হেতু দেশ বনাম ক্লাব নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে তাই দু’জনেই দেশের মঞ্চে ক্লাবকে আনায় নতুন এক বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে।

এমনিতে কুর্তোয়া নানা সময় বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেও লরিস কখনও ঝামেলায় ঢোকেন না। বল গ্রিপ করা, একের বিরুদ্ধে এক অবস্থায় পজিশন নেওয়ার ক্ষমতা বা রক্ষণের পিছন থেকে পুরো দলকে পরিচালনা করার জন্য লরিসকে ‘সুপার কিপার’ বলা হচ্ছে এখন। তিনি সেটা উপভোগও করছেন। এ দিন তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘‘বেলজিয়াম খুব ভাল দল। ওদের হারাতে গেলে আমাদের উরুগুয়ে ম্যাচের চেয়েও ভাল খেলতে হবে। আমি কিন্তু মানসিক ভাবে তৈরি।’’

লরিসের মতো কুর্তোয়ার ক্লাব জার্সিতে এ বছরটা একেবারেই ভাল যায়নি। লিয়োনেল মেসির বার্সেলোনার মতো অনেকেই তাঁকে হারিয়েছেন, গোল করেছেন। বিশ্বকাপটা তাই পুনরাভিষেকের মঞ্চ হিসাবে বেছে নিয়েছেন কুর্তোয়া। ব্রাজিল ম্যাচের পর তিনিই যে এখন বেলজিয়ামের সব চেয়ে জনপ্রিয় চরিত্র।