মাঝখানে কয়েকটা দিন। তার পরেই রাশিয়ায় শুরু হতে চলেছে বিশ্বকাপ ফুটবল।  প্রতিযোগিতা শুরুর আগে যখন অনুশীলনে মগ্ন ব্রাজিল, আর্জেন্তিনা। তখন সম্পূর্ণ অন্য চিত্র মেক্সিকোয়। ফুরফুরে মেজাজে দেশ ছেড়েছেন সে দেশের ফুটবলাররা। মাঠে প্রস্তুতির পাশাপাশি অবসরে ফুরফুরে থাকতে যৌনকর্মীদের সঙ্গে সময় কাটাতে দেখা গিয়েছে মেক্সিকোর ফুটবলারদের। আর তা নিয়েই বিতর্কের ঝড় উঠেছে গিয়েরমো ওচোয়ার দেশে।

প্রথমে মেক্সিকোর একটি জনপ্রিয় ফুটবল পত্রিকার সৌজন্যে জানা গিয়েছিল এই খবর। ওই পত্রিকায় দাবি করা হয়, স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ জেতার পরেই নাকি এই ঘটনা ঘটে। ওই ম্যাচের পরে মেক্সিকো থেকে রাশিয়ার উদ্দেশে উড়ে যাওয়ার আগে দেশেই সারা রাত উৎসব করেছিলেন বিশ্বকাপের দলে থাকা ফুটবলাররা। সেই নৈশ-পার্টিতেই  হোটেলে আনা হয়েছিল ৩০ জন যৌনকর্মীকে। রাত সাড়ে দশটা থেকে ফুটবলারদের এই ‘বিশেষ’ পার্টিতে নাকি হাজির ছিলেন, গত বিশ্বকাপে জনপ্রিয় হওয়া গোলকিপার গিয়েরমো ওচোয়া, জিয়োভান্নি ডস স্যান্টোস-সহ বেশ কয়েক জন নাম করা ফুটবলার। স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে  ম্যাচে গোল করেছিলেন জিওভান্নি।

এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পরেই জাতীয় শিবিরে ফুটবলারদের শৃঙ্খলাভঙ্গ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কেউ কেউ। যদিও মেক্সিকোর ফুটবল ফেডারেশন বিষয়টিকে সে ভাবে গুরুত্ব দেয়নি। কারণ, তাদের যুক্তি ছিল, ফুটবলাররা কেউ অনুশীলনে ফাঁকি মেরে পার্টি করতে যাননি। তাই এই খবরের ভিত্তিতে তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। কেউ কেউ আবার প্রকাশিত এই খবরকে গুজব বলে দাবি করেছিলেন।

যদিও সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং ওয়েবসাইটেও দেখা গিয়েছে পুলসাইড-পার্টিতে ফুটবলাররা যৌনকর্মীদের সঙ্গে জলকেলিতে মশগুল। যদিও বিষয়টি নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি বক্তব্য পাওয়া যায়নি সংশ্লিষ্ট ফুটবলার বা ফেডারেশনের কাছ থেকে।

এর আগে ২০১১ সালে কোপা আমেরিকায় খেলতে গিয়ে মেক্সিকোর আট ফুটবলার যৌনকর্মীদের হোটেলে ডেকে এনে শাস্তির মুখে পড়েছিলেন। সেই দলে ছিলেন জিয়োভান্নির ভাই জোনাথন। এ বারও এই ঘটনায় নাম উঠছে তাঁর।

এই মুহূর্তে ডেনমার্কে রয়েছে মেক্সিকো দল। কোপেনহাগেনে শনিবার শেষ প্রস্তুতি ম্যাচের পরে রাশিয়ায় উড়ে যাবে জুয়ান কার্লোস ওসোরিয়োর ফুটবলাররা।

বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘এফ’-এ জার্মানির সঙ্গে রয়েছে মেক্সিকো। এই গ্রুপের বাকি দুই দল হল সুইডেন ও দক্ষিণ কোরিয়া। ১৭ জুন বিশ্বকাপে তাদের প্রথম ম্যাচ গত বারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিরুদ্ধে। বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত মেক্সিকোর সেরা পারফরম্যান্স প্রি-কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত যাওয়া।