লিয়োনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো নিজেদের মাথার মুকুট খুলে এ বার ফ্রান্সের বিস্ময়-প্রতিভা কিলিয়ান এমবাপেকে পরিয়ে দিতে পারেন। মন্তব্য  ইংল্যান্ডের প্রাক্তন ডিফেন্ডার রিয়ো ফার্দিনান্দের।

প্যারিস সাঁ জারমাঁ-র স্ট্রাইকার এমবাপের বয়স এখন মাত্র উনিশ। এই বয়সেই বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করে ফেলেছেন। সবার মনে পড়ে যাচ্ছে ফুটবল-সম্রাট পেলের কথা। যিনি বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করেন সতেরো বছর বয়সে। পেলে নিজেও এমবাপের খেলায় মোহিত। রবিবার ফাইনালের পরে মজা করে  টুইট করে বলেছেন যে এমবাপেকে দেখে তাঁর বুট পরে মাঠে নেমে পড়তে ইচ্ছে করছে কারণ এত দিনে তাঁর এক জন সত্যিকারের প্রতিদ্বন্দ্বী এসে গিয়েছেন!

পাশাপাশি এমবাপেতে মজে থাকা ফার্দিনান্দের আরও প্রশস্তি, ‘‘এই ছেলেটাকে ব্যালন ডি’ওর-এর মঞ্চে সেরার পুরস্কার নিতে অনেক অনেক বছর ধরে দেখা যাবেই। আমি নিশ্চিত।’’ সঙ্গে যোগ করেছেন, ‘‘আশা করি আমার পুরনো ক্লাব (ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড) ওকে সই করানোর চেষ্টা শুরু করবে। আর ওর তো পল পোগবার সঙ্গে বন্ধুত্ব আছেই। তাই কাজটাও অনেক সহজে হয়ে যাবে ম্যান ইউ-র।’’ প্রসঙ্গত, মেসির বয়স এখন ৩১ বছর। রোনাল্ডোর ৩৩। প্রায় এক দশক ধরে ব্যালন ডি’ওর-এর পুরস্কারটা এই দু’জনের মধ্যেই হাত বদল হচ্ছে।

এ দিকে রাশিয়া বিশ্বকাপে এমবাপে গোল করেছেন মোট চারটি। যা দেখে ফার্দিনান্দের মনে হচ্ছে, ‘‘ছেলেটা নিজের বয়সের চেয়ে অনেক বেশি পরিণত।’’ তাঁর সুরে গলা মিলিয়েছেন জার্মানির সর্বকালের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড য়ুর্গেন ক্লিন্সম্যান, ‘‘সত্যিই আমি ছেলেটাকে দেখে অবাক হচ্ছি। ওর খেলা দেখে মনে হচ্ছে ফ্রান্সের জার্সি পরে দশ বছর ধরে খেলে যাচ্ছে!’’ তাঁর আরও কথা, ‘‘ফুটবলকে ও আরও অনেক কিছু দেবে। সবে তো শুরু হল। আর ওর জন্য ফুটবলের বাজারও নিশ্চয়ই নড়েচড়ে বসবে। রোনাল্ডো জুভেন্তাসে যাচ্ছে। নেমারকে (দ্য সিলভা স্যান্টোস জুনিয়র) নিয়েও নানা কথা শোনা যাচ্ছে। আমি শুধু ভাবছি এই ছেলেটাকে নিয়ে আর কী কী হবে আগামী দিনে!’’ হতে শুরু করেছে ইতিমধ্যেই। এই বিশ্বকাপে সব চেয়ে সম্ভাবনাময় ফুটবলারের পুরস্কারটা তিনিই পেয়েছেন। যে পুরস্কার ব্রাজিল বিশ্বকাপে পেয়েছিলেন পল পোগবা। পোগবা কিন্তু বলেছেন, ‘‘ওর বয়সে আমিও এত ভাল খেলতাম না।’’

পোগবা নিজেও বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করেছেন। ১৯৯৮ সালে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ফুটবলার ইমানুয়েল পেতাঁ বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করেছিলেন। এত দিন পরে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটালেন পোগবা। গতকাল তিনি কাপ হাতে নিয়ে মজা করে বলেন, ‘‘ইংল্যান্ডে না, এটা আমি আমার নিজের দেশে নিয়ে যাচ্ছি।’’ তাঁর এ হেন মন্তব্যের নানা রকম মানেও করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডে তিনি জোসে মোরিনহোর কোচিংয়ে আর খেলতে চান না বলেই এমন কথা বলেছেন। ক্লাবে কোচের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক মোটেই ভাল নয়। ইংল্যান্ডের কাগজগুলিতে লেখা হয়েছে, মোরিনহোর উচিত দেশঁকে দেখে শেখা যে, কী ভাবে পোগবাকে ব্যবহার করতে হয়। এক সময় রয় কিনের মতো প্রাক্তন তারকা পোগবার নানা সময়ে নানা ধরনের চুলের ছাঁট নিয়ে বিদ্রুপ করতেন। রবিবার সেই একই মানুষের প্রতিক্রিয়া, ‘‘আগে যা যা বলেছি সে সবের জন্যই আমি দুঃখিত। ফাইনালে যা খেলল ছেলেটা, তাতে এখন ও যা ইচ্ছে তাই করতে পারে।’’

পোগবা কিন্তু বিশ্বকাপ জেতার দিন এই ধরনের বিতর্কিত প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়েছেন। গলায় বিশ্বজয়ীর পদক ঝুলিয়ে তাঁর মনে পড়েছে মায়ের কথা। পোগবার মা-র নাম ইয়ো মরিবা। খুব ছোটবেলায় অনেক কষ্ট করে তাঁদের তিন ভাইকে মানুষ করেন বিবাহবিচ্ছিন্না এই মহিলা।

রবিবার লুঝনিকি স্টেডিয়ামে তিনিও ছিলেন। ফাইনালের পরে মাঠেও এসেছিলেন। যাতে অনেকেরই মনে পড়ে পোগবার সেই প্রতিক্রিয়া! মাতৃদিবসে নিজের টুইটারে তিনি লিখেছিলেন, ‘‘আমি ভাগ্যবান যে তোমার ছেলে হতে পেরেছি।’’এই মুহূর্তে বিশ্বফুটবলের বর্ণময় এক চরিত্র পল পোগবা যে তাঁর পদকটা নিজের মায়ের গলায় পরিয়ে দেবেন, তাতে আর আশ্চর্যের কী আছে। দিয়েছেনও।