রাশিয়া বিশ্বকাপে গ্রুপের দ্বিতীয় রাউন্ডের খেলা চলছে। দেখে নেওয়া যাক, বিভিন্ন দেশের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার সুযোগ কতটা।

ইতিমধ্যেই শেষ ষোলোয় চলে গিয়েছে: রাশিয়া, উরুগুয়ে, ফ্রান্স, ক্রোয়েশিয়া। বিদায় নিয়েছে: মিশর, মরক্কো, সৌদি আরব, পেরু, কোস্টা রিকা।

গ্রুপের বাঁধা টপকে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রথমে দেখা হবে পয়েন্ট। তার পরে গোল পার্থক্য। তাও সমান হয়ে গেলে দেখা হবে কোন দল গ্রুপ পর্বে ক’টা গোল করেছে। সেটাও সমান হয়ে গেলে দেখা হবে কোন দল কত কম কার্ড দেখেছে। কেউ হলুদ কার্ড দেখলে, কার্ড প্রতি -১, একটি ম্যাচে জোড়া হলুদ কার্ড দেখে কোনও দলের কেউ মাঠের বাইরে গেলে -৩, সরাসরি লাল কার্ড -৪, একটি ম্যাচে প্রথমে হলুদ কার্ড দেখে তার পরে সরাসরি লাল কার্ড দেখলে -৫ হবে সেই দলের।

গ্রুপ ‘এ’: রাশিয়া নক-আউটে চলে গিয়েছে। উরুগুয়ের কাছে না হারলে তারাই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন। প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে চলে গিয়েছে উরুগুয়েও। গ্রুপ শীর্ষে থাকতে গেলে রাশিয়াকে হারাতে হবে সুয়ারেসদের। এই গ্রুপ থেকে মিশর ও সৌদি আরব বিদায় নিয়েছে।

মহড়া: ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে হারের যন্ত্রণা ভুলে নাইজিরিয়া ম্যাচের প্রস্তুতিতে লিয়োনেল মেসিরা। এই ম্যাচের উপরেই নির্ভর করছে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ভবিষ্যৎ। শনিবার।

গ্রুপ ‘বি’: ইরানের বিরুদ্ধে পর্তুগালের এক পয়েন্ট দরকার শেষ ষোলোয় যেতে। ইরানের কাছে হারলেও প্রি-কোয়ার্টারে যাবেন রোনাল্ডোরা। যদি স্পেন বড় ব্যবধানে হেরে যায়।

স্পেনেরও নক-আউট পর্বে যেতে মরক্কোর বিরুদ্ধে এক পয়েন্ট দরকার। তবে মরক্কোর বিরুদ্ধে স্পেন হারলেও, যদি পর্তুগাল বড় ব্যবধানে হেরে যায় বা ইরান বনাম পর্তুগাল ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হয়, তা হলে এক গোলে হারলেও শেষ ষোলোয় পৌঁছে যাবেন ইনিয়েস্তারা।

নক-আউটে যেতে গেলে ইরানকে জিততেই হবে পর্তুগালের বিরুদ্ধে। যদি স্পেন হেরে যায়, তা হলে এই গ্রুপের শীর্ষে থাকবে এশিয়ার দেশটি।

এই গ্রুপ থেকে ইতিমধ্যেই বিদায় নিয়েছে মরক্কো।

গ্রুপ ‘সি’: ফ্রান্স ইতিমধ্যেই নক-আউট পর্বে চলে গিয়েছে। গ্রুপের শীর্ষে থাকতে ডেনমার্কের বিরুদ্ধে এক পয়েন্ট দরকার দিদিয়ে দেশঁ-র দলকে।

প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে ডেনমার্কেরও দরকার এক পয়েন্ট। ফ্রান্সের বিরুদ্ধে জিতলে তারাই এই গ্রুপের শীর্ষে থাকবে। অস্ট্রেলিয়া পেরুকে হারাতে না পারলে, ফ্রান্সের কাছে হেরেও শেষ ষোলোয় যেতে পারবে ডেনমার্ক।

এই গ্রুপ থেকে পেরু আগেই বিদায় নিয়েছে বিশ্বকাপ থেকে।

গ্রুপ ‘ডি’: ক্রোয়েশিয়া এই গ্রুপ থেকে শেষ ষোলোয় গেলেও শীর্ষে থাকতে গেলে আইসল্যান্ডের বিরুদ্ধে এক পয়েন্ট চাই তাদের।

আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে নাইজিরিয়া জিতলেই প্রি-কোয়ার্টারে চলে যাবে। আইসল্যান্ড যদি ক্রোয়েশিয়াকে হারাতে না পারে, তা হলে মেসিদের বিরুদ্ধে ড্র করলেই নক-আউটে নাইজিরিয়া।

আর্জেন্তিনাকে নক-আউটে যেতে গেলে হারাতে হবে নাইজিরিয়াকে। একই সঙ্গে আইসল্যান্ডকে হারতে হবে ক্রোয়েশিয়ার কাছে। যদি আইসল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা দু’দলই জিতে যায়, তা হলে চার গোল বা বা তারও বেশি ব্যবধানে জিততে হবে মেসির দেশকে।

তৃষ্ণার্ত: রাশিয়ায় তেষ্টা মেটেনি সাম্পাওলির।

আইসল্যান্ডের নক-আউটে যাওয়ার অঙ্ক হল, ক্রোয়েশিয়াকে হারাতে হবে। আর্জেন্তিনার কাছে হারতে হবে নাইজিরিয়াকে। যদি নাইজিরিয়া ড্র করে, তা হলে আইসল্যান্ডকে জিততে হবে দুই গোলের ব্যবধানে। যদি আর্জেন্টিনা জেতে। তা হলে আইসল্যান্ডকেও সমান ব্যবধানে বা তার চেয়েও বেশি ব্যবধানে জিততে হবে।

গ্রুপ ‘ই’: সার্বিয়ার বিরুদ্ধে এক পয়েন্ট পেলেই শেষ ষোলোয় ব্রাজিল। হেরে গেলে সুইৎজারল্যান্ডকেও সমান ব্যবধানে হারতে +হবে কোস্টা রিকার কাছে।

কোস্টা রিকার সঙ্গে ড্র করলেই শেষ ষোলোয় যাবে সুইৎজারল্যান্ড। তবে হেরে গেলেও যদি সার্বিয়া ব্রাজিলের কাছে হারে, তা হলেও নক-আউটে যাবে সুইসরা। সুইৎজারল্যান্ড এক গোলে হারল, আর সার্বিয়া ড্র করে, তা হলে দেখা হবে কে কতগুলো গোল করল।

ব্রাজিলকে হারালেই সার্বিয়া চলে যাবে নক-আউটে।

চতুর্থ দল কোস্টারিকা ইতিমধ্যেই বিদায় নিয়েছে।

ছবি: গেটি ইমেজেস।