আর্জেন্টিনা শিবিরে বিদ্রোহের নানা রকম জল্পনার মধ্যেই তাদের অধিনায়কের জন্মদিন গেল রবিবার। আর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা কোচকে দেখা গেল চুম্বন করে অনুশীলনে স্বাগত জানাচ্ছেন ‘বার্থডে বয়’-কে। রাশিয়ার ব্রনিৎসিতে ৩০ ডিগ্রি গরমের মধ্যেই এর পর নাইজিরিয়া ম্যাচের মহড়ায় নেমে পড়ল আর্জেন্টিনা দল।

এই টুকরো চিত্রটুকু এবং অনুশীলনে হাসিখুশি মেসিকে দেখতে পাওয়া বাদ দিলে আর্জেন্টিনা শিবির ঘিরে শুধুই অশান্তির কালো মেঘ। জোরাল জল্পনা ছড়িয়েছে যে, কোচ হর্হে সাম্পাওলিকে একেবারেই মেনে নিতে পারছেন না তাঁর দলের খোলায়াড়রা। ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে আচমকা তিনি বসিয়ে দেন তারকা স্ট্রাইকার সের্খিয়ো আগুয়েরোকে। যা নিয়ে ম্যাঞ্চেস্টার সিটির আগুয়েরো প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করতে ছাড়েননি। নতুন কথা শোনা যাচ্ছে যে, সাম্পাওলির বেছে নেওয়া প্রথম একাদশের উপর আস্থা নেই দলের গরিষ্ঠ অংশের। সেই কারণে কোচকে কাঠপুতুল বানিয়ে তাঁরাই নাকি প্রথম একাদশ বাছতে বসবেন।

মঙ্গলবার নাইজিরিয়ার বিরুদ্ধে গ্রুপের শেষ ম্যাচ খেলতে নামছেন মেসিরা। লজ্জার বিদায় ঠেকাতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে তাঁদের। একে তো মেসি পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারেননি আইসল্যান্ডের বিরুদ্ধে। তার উপর ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে তাঁকে দেখে মনে হয়েছে, একেবারেই ছন্দে নেই। চোখেমুখে শূন্যতা নিয়ে খুবই দুর্বল পারফরম্যান্স ছিল তাঁর। কারও কারও বিশ্লেষণ, সতীর্থদের কাছ থেকে বলই পাচ্ছেন না মেসি। কেউ কেউ বলছেন, তাঁকে ঠিক জায়গায় ব্যবহার করছেন না সাম্পাওলি।

মেসিকে নিয়ে চর্চা ছাপিয়ে গিয়েছে কোচ সাম্পাওলিকে ঘিরে অশান্তির আগুনে। শোনা যাচ্ছে, ফুটবলাররা আর্জেন্টিনা ফেডারেশনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। কোচকে নিয়ে আপত্তির কথা জানানো হয়েছে বলে আর্জেন্টিনীয় সংবাদমাধ্যমের খবর। তার পরেই নাকি মধ্যস্থতা হিসেবে ঠিক হয়েছে, প্রথম একাদশ বাছার ব্যাপারে কোচের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা আর থাকবে না। ফুটবলাররাই দলবদ্ধ ভাবে ঠিক করে নেবেন নাইজিরিয়ার বিরুদ্ধে কোন প্রথম একাদশ মাঠে নামবে।

আর্জেন্টিনার পক্ষ থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করতে আসা হাভিয়ের মাসচেরানো অবশ্য সমস্ত জল্পনাই উড়িয়ে দিয়ে গেলেন। বলে গেলেন, ‘‘চারদিকে যে কথাবার্তা চলছে, সেটা আমরা জানি। তার বেশিটাই সত্যি নয়। ও ভাবে আমাদের দলের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না।’’ সাংবাদিকদের চাপের মুখে তিনি স্বীকার করে নেন, কোচের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক হয়েছে। তবে যোগ করেন, সেটা মনোমালিন্যের জন্য নয়। ‘‘সকলে চায় ভাল ফল করতে। সকলে। সেটা কী ভাবে করা যায়, তা নিয়েই বৈঠক হয়েছে,’’ বলেন তিনি।

তবু আর্জেন্টিনাকে ঘিরে মেঘলা আবহাওয়া মাসচেরানোই বা এড়িয়ে যেতে পারলেন কোথায়? বরং তিনিও ক্ষোভ গোপন করতে পারলেন না। বলে ফেললেন, ‘‘একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। আমি নাকি কোপা আমেরিকার পরে বানেগাকে মেরেছিলাম। কী আর বলব! আমরা সকলেই জানি যে লোকটা এই সব কথা বলছে, সে কী রকম!’’ যিনি এই মন্তব্য করেছিলেন, তাঁর নাম রিকার্দো কারুসো লোম্বার্দি। যিনি আর্জেন্টিনার ঘরোয়া ফুটবলে কোচিং করেন। ক্রোয়েশিয়ার কাছে হারের পরে তিনি মেসিরও সমালোচনা করতে ছাড়েননি। তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন তাঁকে।

মেসিকে নিয়ে জিজ্ঞেস করা বলে মাসচেরানো তাঁর তারকা সতীর্থের পাশেই দাঁড়ালেন। বললেন, ‘‘অন্যদের মতো লিয়োও মানুষ। ওরও প্রত্যাশা, হতাশা থাকতে পারে। ও আমাদের প্রধান ফুটবলার। আর ও মনেপ্রাণে চায়, ওর সম্পর্কে মানুষের ধারণাটা পাল্টাতে। তাই গ্রুপের শেষ ম্যাচে ও ভাল খেলার জন্য মরিয়া। আমরাও ওকে ফর্মে ফেরার জন্য সাহায্য করতে প্রস্তুত। আশা করি সব ঠিক হয়ে যাবে।’’

কোচ নিয়ে কি সত্যিই কোনও ঝামেলা নেই দলের মধ্যে? মাসচেরানো অস্বীকার করলেন। তার পরেই ইঙ্গিতপূর্ণ ভাবে যোগ করছেন, ‘‘এই পরিস্থিতিতে কোচের সঙ্গে ফুটবলারদের বৈঠক তো হতেই পারে। এমনকি, সব চেয়ে ভাল কোচেরাও তাঁর ফুটবলারদের থেকে পরামর্শ নিয়ে থাকেন। এতে আবার ঝামেলার কী আছে? আসলে পরিস্থিতি অনুযায়ী লোকে নিজের মতো করে অনেক কিছু ভেবে নেয়। তার সবই যে ঠিক হতে হবে, তার তো কোনও মানে নেই।’’

সাম্পাওলিকে নিয়ে ধোঁয়াশার মেঘ সেই থেকেই গেল!