হাসপাতালে আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ী কোচ কার্লোস বিলার্দো। অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার হয়েছে। চিকিৎসকদের কড়া পর্যবেক্ষণে রয়েছেন তিনি।

১৯৮৬ সালে মারাদোনা-বুরুচাগাদের নিয়ে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানো বিলার্দোর বয়স এখন ৮১। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বিশেষ ধরনের স্নায়ুক্ষয়জনিত রোগ হাকিম-অ্যাডামস সিনড্রোমে ভুগছেন। গত ৪ জুলাই বুয়েনস আইরেসের আর্জেন্টাইন ইনস্টিটিউট অব ডায়াগনোসিস-এর ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে ভর্তি করা হয় বিলার্দোকে। তার পরেই চিকিৎসকেরা তাঁকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। 

এর আগে গত বছরে এই রোগে আক্রান্ত হয়েই প্রাক্তন এই ফুটবল কোচ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, ‘‘অস্ত্রোপচারের পরে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে রাখা হয়েছে বিলার্দোকে। তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল কিন্তু আশঙ্কাজনক।’’ আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাক্তন এই ফুটবল কোচের মস্তিষ্কে রক্ত ও পুঁজ জমাট বেঁধে রয়েছে। দ্রুত তা বার করার চেষ্টা হচ্ছে। 

পেশায় স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ বিলার্দো ১৯৮২ সালে স্পেনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ থেকে আর্জেন্টিনা ফুটবল দল ব্যর্থ হয়ে ফেরার পরেই কোচ হন। তার পরেই নেহরু কাপে আর্জেন্টিনা দল নিয়ে কলকাতায় খেলতে এসেছিলেন তিনি। তবে বিলার্দো জমানায় আর্জেন্টিনার সব চেয়ে বড় সাফল্য ১৯৮৬ সালে মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ফাইনালে পশ্চিম জার্মানিকে ৩-২ হারিয়ে খেতাব জয়। তার আগে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মারাদোনার ঐতিহাসিক গোল আজও লোকের মুখে মুখে ফেরে।

১৯৯০ সালের বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার কোচ ছিলেন বিলার্দো। কিন্তু সেবার ফাইনালে উঠে পশ্চিম জার্মানির কাছে হারতে হয় আর্জেন্টিনাকে। এর পরেই আর্জেন্টিনা কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ান এই বিখ্যাত কোচ। সেই দলের গোলকিপার ছিলেন সের্খিয়ো গায়কোচিয়া। তিনি জানিয়েছেন, ‘‘এই মানুষটার জন্যই আন্তর্জাতিক ফুটবলার হতে পেরেছি। আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপে খেলেছি। তাই বিলার্দোকে ধন্যবাদ জানানোর ভাষা নেই। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা, উনি দ্রুত আরোগ্য লাভ করুন।’’